ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসন

ছায়েদুল হকের বিরোধী জোটে স্ত্রী মিনু!

  ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি ০২ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ছায়েদুল হকের বিরোধী জোটে স্ত্রী মিনু!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক।

২০১৪ সালে বর্ষীয়ান এই নেতাকে করা হয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি নাসিরনগর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান সরকারকে আওয়ামী লীগে প্রতিষ্ঠিত করেন।

এখন তিনি স্থানীয় বুড়িশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। সর্বশেষ ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী করেন এটিএম মনিরুজ্জামান সরকারকে।

তবে উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার পর রূপ বদলে যায় মনিরুজ্জামান সরকারের। তারও মনে খায়েশ জাগে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার।

সেজন্য তিনি দলের কিছু নেতাকে নিয়ে ধরনা দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে। দলের মনোনয়নের জন্য ছায়েদুল হকের বিরোধিতায় নামেন তিনি।

নিজ হাতে গড়া মনিরুজ্জামানের এমন কর্মকাণ্ডে মর্মাহত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হক মারা যাওয়ার আগে তার জানাজায় যেন মনিরুজ্জামান সরকার অংশগ্রহণ না করেন সেজন্য পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

মূলত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের মৃত্যুর পর সরব হয়ে উঠেন এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার। তার সঙ্গে যোগ দেন কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগ নেত্রী এমবি কানিজ। আগামী নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে মনিরুজ্জামান সরকার ও এবি কানিজ ছাড়া আরও কয়েকজন প্রার্থী কাজ করছেন। তবে ছায়েদুল হকের জীবদ্দশায় তার বিরোধিতাকারীদের সঙ্গেই জোট বেঁধেছেন তার স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু। এ আলোচনা ও সমালোচনা চলছে পুরো নাসিরনগরে।

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর নাসিরনগরে হিন্দু পল্লীতে হামলার ঘটনায় প্রয়াত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে বিতর্কিত করার জন্য প্রকাশ্যে যারা লড়েছেন তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের নেত্রী এমবি কানিজ উল্লেখযোগ্য। স্থানীয় সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হক মারা যাওয়ার পর তারা উপনির্বাচনে দলের মনোনয়ন চেয়েছিলেন।

মনোনয়ন না পেয়ে এটিএম মনিরুজ্জামান সরকারদলীয় প্রার্থী বিএম ফরহাদ হোসেন সংগ্রামের বিরোধিতা করেন। এছাড়া মাঠে দেখা যায়নি যুব মহিলা লীগের নেত্রী এমবি কানিজসহ অনেককেই। আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে আবারও সক্রিয় তারা। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনে এক মঞ্চে ছিলেন প্রয়াত সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এটিএম মনিরুজ্জামান সরকার, যুব মহিলা লীগের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পাঠাগার সম্পাদক এমবি কানিজ, বাংলাদেশ আওয়ামী প্রজন্ম লীগের সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার এখতেশামুল কামাল, কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ সম্পাদক মো. নাজির মিয়া, ঢাকার নাসিরনগর সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল আহাদ প্রমুখ। কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের অর্থ সম্পাদক মো. নাজির মিয়া ছাড়া সবাই প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হকের বিরোধী শিবিরে ছিলেন।

এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আবদুল আহাদ হিন্দু পল্লীতে মন্দির ভাংচুর মামলার আসামি।

ছায়েদুল হকের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিনসহ উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা মিনুর ডাকে সাড়া দেননি। এমনকি অধিকাংশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরাও আসেননি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিন জানান, ভাবির (প্রয়াত মন্ত্রীর স্ত্রী মিনু) সঙ্গে যারা আছেন তারা প্রয়াত মন্ত্রী ছায়েদুল হককে অনেক কষ্ট দিয়েছেন। আমরা তাদের সঙ্গে যেতে পারি না। এ ব্যাপারে প্রয়াত সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হকের স্ত্রী দিলশাদ আরা মিনু বলেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে চান। সবাই তাকে সমর্থন জানিয়েছেন। তবে ছায়েদুল হক বিরোধীদের জোটে থাকার বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা পক্ষে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×