পটুয়াখালী-২ আসন: বড় দুই দলের ঘরেই শত্রু

  শিবলী সাদেক, বাউফল ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পটুয়াখালী-২ আসন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পটুয়াখালী-২ আসনে জমে উঠেছে মনোনয়নকেন্দ্রিক লবিং জোট আর মেরুকরণের রাজনীতি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার বাড়ি এ উপজেলায় হওয়ায় বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে এ আসনের নির্বাচনে।

ইতিমধ্যেই নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। তবে জনসংযোগে বিএনপির তুলনায় এগিয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। অপরদিকে প্রকাশ্যে না এলেও গোপনে কৌশলী প্রচার প্রচারণায় থেমে নেই জামায়াত। নির্বাচনে বড় দুই দলের ঘরেই রয়েছে শত্রু। কোন্দল মিটিয়ে কার ঘরে জয়ের মালা যাবে সেটাই এখন আলোচনার বিষয়।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী এলাকায় চষে বেড়াচ্ছেন চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। চিফ হুইপ ফিরোজ ছাড়াও গণসংযোগ চালাচ্ছেন বাংলাদেশ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রেজা খন্দকার, বাউফল পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হক জুয়েল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা যোবায়দুল হক রাসেল। এ ছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে মাঠে না থাকলেও পর্দার অন্তরালে সক্রিয় রয়েছেন মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. ফিরোজ আলম।

অপর দিকে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, বাউফল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার একেএম ফারুক আহম্মেদ তালুকদারের নাম। এ ছাড়াও চারদলীয় জোট প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ঢাকা মহানগনর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদের নামও শোনা যাচ্ছে।

উভয় দলেই প্রার্থীর ছড়াছড়ি থাকলেও মূল আলোচনায় রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম ফিরোজ। অপর দিকে চারদলীয় জোটে রয়েছে শহিদুল আলম তালুকদার, মো. মুনির হোসেন ও ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নাম।

স্বাধীনতার পর থেকেই আওয়ামী লীগের কব্জায় থাকা এ আসনটিতে একক আধিপত্য ধরে রেখেছেন আওয়ামী লীগ নেতা আ স ম ফিরোজ। ছয়বার এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন তিনি। পক্ষান্তরে এ আসনটিতে একবারই বিএনপির পক্ষ হয়ে বিজয় ছিনিয়ে নিতে পেরেছেন বিএনপি নেতা শহিদুল আলম তালুকদার। তবে বিএনপির এ নেতা ওয়ান ইলেভেনের সময় সংস্কারপন্থী এবং এমপি থাকাকালীন সাংবাদিক নির্যাতন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধরসহ জেলা বিএনপির রাজনৈতিক গ্রুপিংয়ের কারণে বিএনপির বর্তমান সে াত থেকে ছিটকে পড়েন। সাংগঠনিক রাজনীতিতে ছিটকে পড়লেও দলীয় মনোনয়নের আশায় বর্তমানে এলাকায় গণসংযোগ করছেন এ নেতা। এ ছাড়াও বিএনপি দলীয় প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন। মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন বাউফল উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহম্মেদ তালুকদার। নেতৃত্ব সঙ্কটে বর্তমানে ত্রিধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে বাউফল উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন শহিদুল আলম তালুকদার, মো. মুনির হোসেন ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক আহম্মেদ তালুকদার। দলীয় অভ্যন্তরে এই বিভক্তি ও মনোনয়ন নিশ্চিত না হওয়ায় কোন প্রার্থীর হয়ে মাঠে নামবেন এ বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অপর দিকে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে তেমন কোনো গ্রুপিং না থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেয়র জিয়াউল হক জুয়েলের ব্যানারে আওয়ামী লীগের একটি গ্রুপ রয়েছে বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের মূল স্রোতের বাইরে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা এই গ্রুপটিকে বিএনপির একটি পক্ষের মদদে সৃষ্টি বলে দাবি করে আসছেন। তাদের দাবি বিগত পৌর নির্বাচনে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল বিএনপি নেতা শহিদুল আলম তালুকদারের আশীর্বাদ আর কালো টাকার প্রভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সম্ভাব্য বিজয় ছিনিয়ে নেয়।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে উপযুক্ত প্রার্থী মনোনয়ন পেলে এ আসনটিতে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। অপর দিকে বিএনপি নির্বাচনে না এলে সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করতে পারেন।

তবে এ আসনটিতে ব্যাপক কালো টাকার প্রভাব থাকবে বলে আশঙ্কার কথা জানান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির পটুয়াখালী জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি কমরেড শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ। তিনি যুগান্তরকে জানান, ক্ষমতাসীন দলের একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় প্রভাব খাটিয়ে লুটপাটের মাধ্যমে প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। আসন্ন নির্বাচনে তারা যদি মনোনয়ন পান কিংবা নির্বাচনে অংশ নেন তাহলে এ আসনের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে ব্যাপক কালো টাকার প্রভাব থাকবে যা নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। তাই কালো টাকামুক্ত নির্বাচনের দাবি জানান এই নেতা।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছি। দীর্ঘ সময়ের এই নেতৃত্বে সব সময়েই চেষ্টা করেছি দল এবং দলীয় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ এবং সুসংগঠিত করে রাখতে। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বেশি সংগঠিত এবং ঐক্যবদ্ধ। আমি বিশ্বাস করি প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দিলে ইনশাআল্লাহ সপ্তমবারের মতো এ আসনটি আমার দলকে উপহার দিতে পারব। ছিলাম, আছি এবং থাকব আমরণ নৌকার সাথে।

দলীয় মনোনয়ন এবং নির্বাচন নিয়ে কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামসুল হক রেজা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন এটা আমার বিশ্বাস। বিভিন্ন মিডিয়ায় মনোনয়ন নিশ্চিতের যে বিষয় প্রকাশ হচ্ছে এগুলো মূলত গুজব। দল এখন পর্যন্ত কাউকে মনোনয়ন দেয়নি। আওয়ামী লীগ অনেক বড় একটি দল এখানে প্রতিযোগিতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে কিন্তু দল যাকেই মনোনয়ন দেবে তার সাথেই থাকব, নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করব।

মনোনয়ন এবং নির্বাচনের বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব সঙ্কটে ভুগছে বাউফল উপজেলা বিএনপি। আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি যাতে করে সব ভেদাভেদ ভুলে বিএনপির সব নেতাকর্মী একটি মঞ্চে আসতে পারেন। আমার আত্মবিশ্বাস রয়েছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আমাকে মনোনয়ন দেবেন। মনোনয়ন বিষয়ে বিএনপি দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, আমি শহীদ জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিক। বিএনপিতে ছিলাম, আছি এবং থাকব। আমি বিশ্বাস করি বিএনপি আমাকে মনোনয়ন দেবে। দল যদি আমাকে এ আসন থেকে মনোনয়ন দেয় তাহলে আশা করি ইনশাআল্লাহ আমি বিএনপি তথা আমার দলকে এই আসনটি পুনরায় উপহার দিয়ে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে পারব।

ঘটনাপ্রবাহ : পটুয়াখালী-২: জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×