রাজশাহীতে নির্বাচনী হালচাল

ভোটযুদ্ধে ৩ তরুণ নেতা

  তানজিমুল হক, রাজশাহী ব্যুরো ০৩ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রাজশাহী

এগিয়ে আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নিতে দীর্ঘ সময় থেকেই রাজশাহীর ছয়টি আসনে গণসংযোগ শুরু করেছেন বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। নিজ দলের মনোনয়ন পেতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত তারা।

তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাখছেন ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ। চাইছেন তাদের সমর্থন। এদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় পার্টির রাজশাহী মহানগর সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাচ্চু, তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানী এবং ছাত্রলীগ যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক আহ্বায়ক আসিফ ইবনে আলম তিতাস। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনটি এবার দখলে নিতে চায় জাতীয় পার্টি। আর এ লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় থেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় পার্টির তরুণ নেতা শাহাবুদ্দিন বাচ্চু। ইতোমধ্যে তিনি ওই আসনটিতে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন। ইতোমধ্যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে সারা দেশে একশ’ আসনের যে তালিকা করেছে জাতীয় পার্টির তার মধ্যে শাহাবুদ্দিন বাচ্চুও রয়েছেন। পার্টি হাইকমান্ডের শক্ত সমর্থন পেয়ে তরুণ নেতা বাচ্চু কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। ২০০৮ সাল থেকেই পবা-মোহনপুরে কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় মাঠে নামেন বাচ্চু। শাহাবুদ্দিন বাচ্চু বলেন, আমি কখনও ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি সেবায় বিশ্বাস করি। আমি আমার ক্ষুদ্র চেষ্টা থেকে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। তাই আমি আমার মতো করে কাজ করে যাই। জনগণের ভালোবাসা আমার সঙ্গে আছে। অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছি আমি। আগামী নির্বাচনে জোট থেকে নির্বাচন করে বিজয়ী হলে পবা ও মোহনপুরকে দেশের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার ইচ্ছে আছে।

অপরদিকে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে তানোর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং মুণ্ডুমালা পৌরসভার মেয়র গোলাম রাব্বানীও মাঠে রয়েছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর এ আসনের বর্তমান এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নানা ধরনের ‘বিতর্কিত’ কর্মকাণ্ড নিয়ে রাব্বানীর সাথে বিরোধ ঘটে। মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্য, নিয়োগ বাণিজ্য, নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে এমপির সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটে রাব্বানীর। আর ওই সময় থেকেই গোলাম রাব্বানী এমপি ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। গোলাম রাব্বানী নিজেকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। দাদা ও বাবার পথ ধরেই হাঁটছেন গোলাম রাব্বানী। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতির হাতেখড়ি। গোলাম রাব্বানী বলেন, আমি ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ভোটারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছি। নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। মাঠ জরিপ করলেই সেটা বোঝা যাবে। দলমত নির্বিশেষে আমাদের পারিবারিক ভোটব্যাংক আছে। আর এ কারণে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হলে আমি বিজয়ী হব।

অপরদিকে কৃষি এবং মৎস্যচাষে সমৃদ্ধ পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত রাজশাহী-৫ (দুর্গাপুর-পুঠিয়া) আসন। এ আসনটিতে ছাত্রলীগ যুক্তরাজ্য শাখার সাবেক আহ্বায়ক আসিফ ইবনে আলম তিতাস গণসংযোগ করছেন। নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন সোচ্চার। সভা-সমাবেশ, মিছিল-মিটিং আর গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। এ আসনে বর্তমান এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারার বিপরীতে মনোনয়ন চাইছেন তরুণ এ নেতা। নৌকার দাবিদার হিসেবে তিনি পুঠিয়া-দুর্গাপুরের প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সাঁটিয়েছেন নিজের ব্যানার ও ফেস্টুন। লন্ডন কলেজ অব অ্যাকাউনটেন্সি থেকে পড়াশোনা করা আসিফ ইবনে আলম তিতাস যুগান্তরকে বলেন, দুর্গাপুর-পুঠিয়ার মানুষ অধিকারবঞ্চিত। তারা অবহেলিত। আমি এ এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চাই। মনোনয়ন পেয়ে বিজয়ী হলে এলাকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করতে চাই। আশা করছি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা আমাকে এ আসনে মনোনীত করবেন।

ঘটনাপ্রবাহ : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter