পটুয়াখালী-৪ আসন: তৎপর আ’লীগ, কোণঠাসা বিএনপি

  কামরুল হাসান, রাঙ্গাবালী ০৭ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাহবুবুর রহমান, আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন, মুরসালিন আহম্মেদ, এবিএম মোশারেফ হোসেন,  মোস্তাফিজুর রহমা ও মনিরুজ্জামান মনির
ছবি: যুগান্তর

পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসন জুড়ে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ‘নৌকা’ পাওয়ার আশায় শীর্ষ পর্যায়ে তদ্বিরের পাশাপাশি রাজনৈতিক মাঠেও বেশ সক্রিয় রয়েছেন।

কিন্তু অনেকটাই নীরব ভূমিকায় থাকায় বিএনপির ‘ধানের শীষ’ মার্কার টিকিটপ্রত্যাশীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। তবুও নেতাকর্মী ও ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চলছে দলীয় প্রচারণা।

নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা চলছে চায়ের দোকানে। কোন দল থেকে কে মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত পটুয়াখালী-৪ সংসদীয় আসনের আওতাধীন রয়েছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা, দেশের তৃতীয় পায়রা সমুদ্র বন্দর, তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আকর্ষণীয় পর্যটন স্পর্ট জাহাজমারা ও সোনারচর।

এ কারণে আসনটি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নজরে গুরুত্বপূর্ণ। সম্ভব্য প্রার্থীরা এখান থেকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ করছেন। প্রথম দিকে আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। কিন্তু ’৯০-এর পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির কাছ থেকে আসনটি হাতছাড়া হয়ে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। এরপর থেকেই আসনটি আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৪ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) মাহবুবুর রহমান তালুকদার। ২০০৮ সালে মহাজোট সরকার গঠনের পর মাহবুবুর রহমানকে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছিল।

এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে রয়েছেন পটুয়াখালী-৪ আসনের সাবেক এমপি প্রয়াত আনোয়ার-উল-ইসলামের ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন।

তিনি নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। মনোনয়ন প্রত্যাশী আবদুল্লাহ আল ইসলাম লিটন যুগান্তরকে বলেন, ‘যারা দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে, এমন কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় কখনোই দল বহন করবে না।

সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে দুর্নীতি মুক্ত ও টেকসই উন্নয়নশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা করণীয় তা সবই করবেন।’ মনোনয়নের বিষয়ে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার সজিব ওয়াজেদ জয়ের হাতকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে তারুণ্য নির্ভর ভবিষ্যৎ দেশ নির্মাণে একনিষ্ঠভাবে নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। আমার বাবা আনোয়ার-উল-ইসলাম এই আসনে একাধিকবার এমপি নির্বাচিত হয়ে এলাকার মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন।’

তারা ছাড়াও মনোনয়ন পাওয়ার আশায় কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী চষে বেড়াচ্ছেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মুরসালিন আহম্মেদ। একইসঙ্গে অসহায়-দুস্থ মানুষদের পাশে থেকে সহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন।

মনোনয়নের ক্ষেত্রে তিনিও আশাবাদী। মনোনয়ন প্রত্যাশী মুরসালিন আহম্মেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আমি মনোনয়ন পেলে বিজয়ের ক্ষেত্রে শতভাগ নিশ্চিত। আর জামায়াত-বিএনপির বিশৃঙ্খলা রুখতে পারব। দুর্নীতিমুক্তভাবে সব কাজ সম্পন্ন হবে।’

এছাড়া মনোনয়ন পেতে মাঠে তৎপর রয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন আহামেদ, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক নীহার রঞ্জন সরকার মিল্টন, পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মহিব্বুর রহমান মহিব, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাবিবুর রহমান মিলন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ড. আরিফ বিন ইসলাম, কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নাসির উদ্দিন, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহামুদুল আলম টিটো ও যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

এদিকে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ২০০৮ সালের পর বিএনপি মাঠে নেই। ক্ষমতাসীনদের হামলা-মামলার ভয়ে অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে রয়েছেন। তবে প্রকাশ্যে না এলেও নীরবে দলকে প্রস্তুত করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এবিএম মোশারেফ হোসেন। দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে এবিএম মোশারেফ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ‘২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আমি বিএনপির প্রার্থী ছিলাম। নির্বাচনের পর থেকেই গণমানুষের সঙ্গে আছি। দলের সব আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিচ্ছি।’

মোশারেফ ছাড়াও মাঠে রয়েছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান। জানতে চাইলে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবিএম মোশারেফের নীতিবাচক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ৩১ হাজার ভোটে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরে যান।

আমরা অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু তার (এবিএম মোশারেফ) গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। বর্তমানে এই আসনে যারা নমিনেশন চায়, তাদের মধ্যে এলাকায় থেকে আমিই রাজনীতি করি।’ এছাড়া মনোনয়ন চাইছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মনির। তার বাবা বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মোয়াজ্জেম হোসেন।

মনিরের বাবার পরিচ্ছন্নতার কারণে তিনি মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করছে অনেকেই। মনোনয়ন প্রত্যাশী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘আগে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির পর নির্বাচনের চিন্তা। বিএনপি নির্বাচনে এলে আমি মনোনয়ন চাইব। দল আমাকে যোগ্য মনে করলে মনোনয়ন দেবে। মনোনয়নের ক্ষেত্রে আমি আশাবাদী।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×