জীবনকথা

জোয়ান বায়েজ : গানই যার প্রতিবাদের ভাষা

জোয়ান বায়েজ একজন মার্কিন লোকশিল্পী, গীতিকার ও সমাজ কর্মী। মানবদরদি এ গায়িকা সারা জীবন মানবমুক্তির গান গেয়েছেন। গানের মাধ্যমে তার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বময়। তিনি পৃথিবীর অন্যতম সেরা শিল্পী, যিনি আজীবন কথা বলেছেন যুদ্ধের বিপক্ষে, শান্তির পক্ষে। লিখেছেন-

  সালমান রিয়াজ ৩০ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন : পুরো নাম জোয়ান ছ্যান্ডোস বায়েজ। তিনি নিউইয়র্কের স্টেটেন আইল্যান্ডে ১৯৪১ সালের ৯ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের পরই পরিবার নিয়ে তার বাবা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় স্থানান্তরিত হন। মেক্সিকান-স্কটিশ বংশোদ্ভূত বায়েজ বর্ণ বৈষম্যের কাছে একদমই অপরিচিত ছিলেন না। কিন্তু তার সঙ্গীত প্রতিভাকে এর কোনো কিছুই দমিয়ে রাখতে পারেনি। তিনি মূলত লোকসঙ্গীত চর্চা করতেন। ১৯৬০ সালের মাঝামাঝি সময়ে গিটার তুলে নেন হাতে। দুই বছর পর তার পরিবার ক্যামব্রিজে চলে আসে। বায়েজ তখন বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার স্কুলে ভর্তি হন। শিগগিরই বায়েজ স্থানীয় ক্লাবের নিয়মিত পারফরমার হয়ে ওঠেন। অবশেষে শিল্পী বব গিবসনের আমন্ত্রণে নিউপোর্ট লোক উৎসবে গান গেয়ে বেশ পরিচিতি লাভ করেন।

সঙ্গীত যাত্রা ও বব ডিলান : ১৯৬০ সালে বায়েজ আত্ম-শিরোনামে ভ্যানগার্ড রেকর্ডস থেকে প্রথম অ্যালবামটি প্রকাশ করেন। তার অসাধারণ কণ্ঠের জন্য তাকে ম্যাডোনার প্রতিচ্ছায়া হিসেবে দেখা হতো। এ দশকের প্রথমার্ধে তিনি ‘ফেয়ারওয়েল’, ‘অ্যাঞ্জেলিনা’ (১৯৬৫) এবং নোয়েল (১৯৬৬)-এর মতো আরও কয়েকটি অ্যালবাম প্রকাশ করেন। কিছুদিন পর তিনি গায়ক ও গীতিকার বব ডিলানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। একসময় লোকসঙ্গীতের এ দুই মহারথী প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৬৫ সালে এ সম্পর্কের অবসান ঘটে। তবে ডিলানের অনুপ্রেরণায় তিনি মানবতার পক্ষে গান করতে শেখেন।

সঙ্গীত ও মানবতা : তিনি দাঁড়িয়েছিলেন যুদ্ধের সম্মুখে অস্ত্রের বিপরীতে গিটার হাতে। সঙ্গীত দিয়েই বায়েজ সব ধরনের মানুষের কাছে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মানুষ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৩ সালে ওয়াশিংটনে মার্টিন লুথার কিংয়ের ভাষণকে উপজীব্য করে তিনি ‘উই শ্যাল ওভারকাম’ গানটি গান। এ গানটি ১৯৬৫ সালে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ ৪০টি গানের একটি নির্বাচিত হয়। একই বছর তার একক ‘দেয়ার বাট ফর ফরচুন’ জায়গা করে নেয় শীর্ষ দশে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আয়োজিত যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতেন। যুদ্ধবিরোধী সেমিনারে বিনামূল্যে বক্তৃতা দিতেন। সামরিক ব্যয় প্রতিহত করতে প্রায় এক যুগ কর দেননি। ১৯৬৭ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পক্ষে কথা বলে দু’বার গ্রেফতার হন।

বাংলাদেশের বন্ধু জোয়ান : অন্তরের সবটুকু দরদ ঢেলে বাংলাদেশের জন্যও গান গেয়েছেন জোয়ান। সং অব বাংলাদেশ শিরোনামের গানটি রচনার প্রেক্ষাপট ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত। সেই রাতে বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর রক্তপিপাসু হিংস্র পাকিস্তান বাহিনীর নৃশংসতায় ক্ষুব্ধ হন, আহত হন জোয়ান। ব্যথিত হৃদয়ে হাতে তুলে নেন গিটার। রচনা করেন অনবদ্য সৃষ্টি ‘দ্য সং অব বাংলাদেশ’। তিনি গানটি লিখেছিলেন ম্যাডিসন স্কয়ারে অনুষ্ঠিত ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে গাওয়ার জন্য। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট অনুষ্ঠিত ওই কনসার্টের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন বিটলস তারকা জর্জ হ্যারিসন। তবে জোয়ান কনসার্টে অংশ নিতে পারেননি। তার কম্পোজ করা গানটি তিনি ১৯৭১ সালের শেষের দিকে একাধিক মঞ্চে গেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন : বায়েজ ১৯৬৮ সালে ডেভিড হ্যারিসকে বিয়ে করেন। এ দম্পতির এক পুত্র সন্তান রয়েছে, নাম গ্যাব্রিয়েল। হ্যারিস ভিয়েতনাম যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে সামনের সারিতেই ছিলেন। এজন্য তাকেও কারাগারে যেতে হয়। ১৯৭২ সালে হ্যারিসের মুক্তির পর এ দম্পতির ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ১৯৬৮ সালে ‘ডেব্রেক’ এবং ১৯৮৭ সালে ‘এ ভয়েজ টু সিং উইথ’ নামে দুটি স্মৃতিকথা প্রকাশ করেন তিনি। ২০০৯ সালে পিবিএস জোয়ান বায়েজের জীবনীর ওপর নির্মিত ‘হাউ সুইট দ্য সাউন্ড’ নামে একটি তথ্যচিত্র প্রকাশ করে।

মানুষের দুঃখে জোয়ান বায়েজের কণ্ঠ বারবার গেয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×