জীবনকথা

স্পাইডারম্যান-হাল্কের জনক স্ট্যান লি

  সালমান রিয়াজ ০৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্ট্যান লি একজন কিংবদন্তি কমিকস স্রষ্টা
স্ট্যান লি একজন কিংবদন্তি কমিকস স্রষ্টা

স্ট্যান লি একজন কিংবদন্তি কমিকস স্রষ্টা। স্পাইডারম্যান, আয়রনম্যান, দ্য ইনক্রেডিবল হাল্ক, থর, ফ্যান্টাস্টিক ফোরের মতো দুনিয়া কাঁপানো রুপালি জগতের জনপ্রিয় সুপার হিরোদের জনক তিনি। ৯৫ বছর বয়সের চিরতরুণ এ কমিকস বিজ্ঞানী ১২ নভেম্বর ২০১৮ মারা গেছেন।

জন্ম ও পরিচয়

১৯২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর একটি অসচ্ছল ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন লি। তার পরিবার এসেছিল রোমানিয়া থেকে। বাবা জ্যাক লিয়েবার ছিলেন দরজি। পারিবারিক দুরবস্থাকে পেছনে ফেলে নিজের চেষ্টায় পৃথিবীর সফল ব্যক্তিদের তালিকায় উঠে আসেন লি।

তার নাম মূলত স্ট্যান লিবারম্যান। পরবর্তী সময়ে তিনি ‘লি’ হিসেবে নিজের পরিচয় সৃষ্টি করেন। তরুণ বয়সীদের আকৃষ্ট করতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মার্ভেলে ক্রাইম, হরর এবং ওয়েস্টার্ন কমিক স্টোরি নিয়ে কাজ করেন স্ট্যান লি। সে সময় তার কমিকস ভীষণ জনপ্রিয় হলেও লি যেন আরও ভিন্ন কিছু করার চেষ্টায় ছিলেন।

ক্যারিয়ার

কমিকসে তার ক্যারিয়ার শুরু হয় টাইমলি পাবলিকেশনের মাধ্যমে। প্রতিষ্ঠানটি ছিল তার এক আত্মীয়ের। কমিক চরিত্র তৈরির অসাধারণ পারদর্শিতার কারণে মাত্র ১৮ বছর বয়সে ‘সম্পাদকের’ পদ লাভ করেন তিনি।

পরে ৪০ বছর বয়সে তিনি কমিকস দুনিয়াকে বিদায় জানাতে চাইলেও তার স্ত্রী জোয়ান তাকে উৎসাহ দেন নিজের সেই চরিত্রগুলো নিয়ে লিখতে, যেটা লি সব সময় চেয়েছিলেন।

জনপ্রিয়তার আসনে

১৯৬০ সাল থেকে ‘মার্ভেল কমিকস’ লেখা শুরু করেন স্ট্যান লি। কমিকসের প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে সবকিছু নিজ হাতে করতেন লি। ১৯৬১ সালে তিনি ‘লি দ্য ফ্যান্টাস্টিক ফোর ফর মার্ভেল কমিকস’ তৈরি করেন। এ কাজে তাকে সহায়তা করেছিলেন শিল্পী জ্যাক কারবি। সেই থেকে লিকে ‘পপ কালচারের’ জনক হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়।

ফ্যান্টাসটিক ফোর শুধু লির জীবন নয় বরং বদলে দেয় গোটা কমিকস ইন্ডাস্ট্রিকে। এ সময় টাইমলি পাবলিকেশনের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় মার্ভেল, যা শুরু করে কমিকস বুকের সোনালি যুগের।

মার্ভেলের বহু চরিত্র সে সময় জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে যায়। বছরে মার্ভেলের ৫ কোটি কপি বিক্রি হওয়া সেটারই জানান দেয়। তার ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ ইতিহাসের প্রথম কোনো কমিক সুপারহিরো, যার গায়ের রং কালো। অন্ধ সুপারহিরো ডেয়ারডেভিল ও মানবতার প্রতিমূর্তি সিলভার সার্ফার যোগ করেছিল নতুন মাত্রা।

চলচ্চিত্রে কমিকস

১৯৭১ সালে মার্ভেল থেকে অবসর নেন লি। কমিকস জগৎ থেকে তখনও তিনি বিদায় নেননি। ২০০১ সালে তিনি ‘পারভিওর অফ ওয়ান্ডার’ নামে নতুন এন্টারটেইনমেন্ট প্রতিষ্ঠান চালু করেন। এর কাজ কমিকস চরিত্রগুলোকে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রোগ্রামে নিয়ে আসা।

অর্ধশত বছরের পুরনো চরিত্রগুলোকে নতুন আদল দিতেই লি নতুন এ পরিকল্পনায় মাঠে নামেন। তার কমিকস নিয়ে এক্সম্যান, স্পাইডারম্যান, আয়রনম্যান, ফ্যান্টাসটিক ফোর, ক্যাপ্টেন আমেরিকা, হাল্ক, ডেয়ারডেভিল ও অ্যাভেঞ্জার্স হলিউড চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যার বেশিরভাগের খ্যাতি আকাশচুম্বী। এর মধ্যে স্পাইডারম্যান ১৬০ কোটি, ক্যাপ্টেন আমেরিকার তিনটি চলচ্চিত্র ২২৪ কোটি ও আয়রনম্যান ২৪০ কোটি ডলার আয় করেছে।

ভাগ্য বিশ্বাসী লি

তিনি ছিলেন একজন ভাগ্যে বিশ্বাসী মানুষ। যখনই তাকে তার কোনো ভক্ত জানতে চেয়েছেন, সবচেয়ে বড় সুপার পাওয়ার কী? তিনি একটাই উত্তর দিয়েছেন- ‘ভাগ্য’। স্ট্যান লির মতে, ভাগ্যে থাকলে সবকিছুই সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×