জীবনকথা

তেল-গ্যাস শিল্পের পথিকৃৎ জন রকফেলার

  সালমান রিয়াজ ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তেল-গ্যাস শিল্পের পথিকৃৎ জন রকফেলার

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ববিখ্যাত স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানির প্রধান ছিলেন জন ডি রকফেলার। বিশ্বের তেল ও গ্যাস শিল্পে উন্নয়নে অভাবনীয় ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

নিউইয়র্ক শহরের শেষ প্রান্তে আমেরিকা-কানাডা সীমান্তের কাছাকাছি ছোট একটি শহর রিচফোর্ড। এ শহরের মুক্ত বাতাসে শৈশব জীবনের আনন্দ উপভোগ করেছেন রকফেলার। ইংরেজ ও জার্মান বংশোদ্ভূত বাবা উইলিয়াম এভরি রকফেলার ও স্কট-আইরিশ বংশোদ্ভূত মা এলিজা ডেভিসনের কোলে ১৮৩৯ সালের ৮ জুলাই জন্মলাভ করেন তিনি।

বাবা-মায়ের নামের সংমিশ্রণে নাম রাখা হয় জন ডেভিসন রকফেলার (জন ডি রকফেলার)। তার বাবা সেই সময়ে ভ্রমণকারীদের দিকনির্দেশনা দেয়ার কাজ করতেন, তাই পরিবারের সঙ্গে তার খুব কম যোগাযোগ হতো। অন্যদিকে তার মা ছিলেন একজন ধার্মিক গৃহিণী যিনি পরিবার রক্ষা করার জন্য সারাক্ষণ সংগ্রাম করতেন।

পেশাগত জীবন

১৮৫২ সালে ২০ বছর বয়সে রকফেলার প্রায় ৪ হাজার ডলার পুঁজি নিয়ে মরিস বি ক্লার্কের সঙ্গে ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসাটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পায়। প্রথম বছরের শেষে এটি প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ডলারের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।

১৮৭০ সালের জানুয়ারিতে রকফেলার কোম্পানির অংশীদারিত্ব থেকে বের হয়ে স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি শিগগিরই তেল ও কেরোসিন উৎপাদনের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে। এরপরই তার সফলতার শুরু।

ব্যবসায়িক সফলতা

রকফেলার স্ট্যান্ডার্ড অয়েল কোম্পানিকে বড় করার লক্ষ্যে ১৮৭২ সালের দিকে আরও কিছু তেল শোধনাগার প্রতিষ্ঠান ক্রয় করেন। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৩০০টি তেলভিত্তিক পণ্য বাজারে নিয়ে আসে।

পণ্যগুলোর নিরাপদ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তিনি প্রায় কয়েক হাজার একর বন কিনে নেন। ১৮৮২ সালে তিনি স্ট্যান্ডার্ড অয়েল ট্রাস্ট গঠন করেন, যা ৪১টি প্রতিষ্ঠানের প্রায় এক লাখ কর্মচারী নিয়ন্ত্রণ করত।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি আরও উন্নত হতে থাকে এবং ইউরোপের বাজার দখল করে। পরবর্তী কালে এটি প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন এবং অটোমোবাইলের জন্য গ্যাসোলিন সরবরাহ শুরু করে। কর্মব্যস্ত এ মানুষটি ৫৬ বছর বয়সে অবসর নেন। এ সময় রকফেলারের সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০ হাজার কোটি ডলার।

মানবপ্রেমিক রকফেলার

ধর্মের প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল রকফেলারের। এজন্য তার দাতব্যের অধিকাংশ গির্জা উন্নয়নে ব্যবহৃত হয়েছিল। এছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনস্বাস্থ্য, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গবেষণাগার ইত্যাদি অসংখ্য জনকল্যাণমূলক কাজে তার অবদান ছিল অসামান্য।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে রকফেলার ৮ কোটি ডলার দান করেন। রকফেলার ফাউন্ডেশন এবং রকফেলার ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল রিসার্চ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মহান এ মানুষটি আজও বেঁচে আছেন কোটি মানুষের হৃদয়ে। ধারণা করা হয়, তিনি তার জীবদ্দশায় প্রায় ৫০ কোটি ডলারের বেশি দান করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন ও উত্তরাধিকার

ছোটবেলা থেকে রকফেলারের সঙ্গীতের প্রতি ছিল আলাদা আকর্ষণ। সে সময়েই তিনি মনে করতেন, সঙ্গীতকে ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেয়া যেতে পারে। তিনি গণিত ও হিসাব রক্ষণাবেক্ষণেও বেশ দক্ষ ছিলেন। ১৮৬৪ সালে তিনি লরা সেলেস্তিয়া স্পেলম্যানকে বিয়ে করেন।

সুখী এ দম্পতির চার কন্যা ও এক পুত্র ছিল। তিনি নিয়মিত বাইবেল পড়তেন। সপ্তাহে দু’বার প্রার্থনাসভাতে যোগ দিতেন। সবাইকে কাঁদিয়ে ব্যবসাসফল এ উদ্যোক্তা ১৯৩৭ সালের ২৩ মে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। তার মরদেহ ক্লিভল্যান্ডের লেকভিউ সিমেট্রিতে সমাহিত করা হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×