শিক্ষণীয় গল্প

ইটের জন্য অপেক্ষা

  আশরাফুল আলম পিনটু ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক সফল তরুণ কর্মকর্তা। তার নতুন জাগুয়ার গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এক মহল্লার পাশের রাস্তা। হঠাৎ তিনি খেয়াল করলেন, একটি ছেলে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়িগুলোর মাঝ দিয়ে তীর বেগে বেরিয়ে আসছে। তিনি গাড়ির গতি সামান্য কমালেন। কিন্তু কাছাকাছি হতেই একটি ইট এসে তার গাড়ির দরজা থেঁতলে দিল। তিনি সজোরে ব্রেক কষলেন। পেছনের দিকে গাড়ি আনলেন। এসে থামলেন যেখান থেকে ইট ছোড়া হয়েছিল সেখানে। রেগে লাল হয়ে গাড়ি থেকে নামলেন লাফ দিয়ে। ছেলেটিকে ধরে ফেললেন। চিৎকার করে জানতে চাইলেন, ‘এটা কী করলে? আমার গাড়ির কত বড় ক্ষতি করেছ তুমি, জানো? কেন এমন করলে?’

ছেলেটিকে সামান্য কাঁচুমাচু মনে হল। কিন্তু খুবই ভদ্র আর বিনয়ী। সে বলল, ‘দুঃখিত! আমাকে ক্ষমা করবেন। এটা ছাড়া আমি কী করব বুঝতে পারছিলাম না।’ সে মিনতি করে বলল, ‘আমি ইট ছুড়েছি কারণ আমার ডাকে সাহায্যের জন্য কেউ দাঁড়াচ্ছিলেন না।’

ছেলেটির গাল বেয়ে কান্না ঝরে পড়ল। সে সামনে থেমে থাকা একটি গাড়ির দিকে দেখাল। বলল, ‘ওই যে ওখানে আমার ভাই। ফুটপাত থেকে রাস্তায় পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। পড়ে গেছে হুইলচেয়ার থেকে। ভীষণভাবে আহত হয়েছে। তাকে আমি তুলতে পারছি না।’

কাঁদতে কাঁদতে ছেলেটি বলল, ‘আমার ভাইকে হুইলচেয়ারে বসাতে আপনি কি আমাকে সাহায্য করবেন? সে খুব ব্যথা পেয়েছে। আমার পক্ষে তাকে তোলা সম্ভব হচ্ছে না। তার ওজনও অনেক বেশি।’

তরুণ কর্মকর্তা সব শুনে মর্মাহত হলেন। কোনো কথা বলতে পারলেন না। গলার কাছে ব্যথা যেন দলা বাঁধল। তিনি বহু কষ্টে নিজেকে সামলালেন। তারপর পড়ে থাকা ছেলেটিকে দ্রুত তুলে বসালেন হুইলচেয়ারে। সব ঠিকঠাক করে দিয়ে তিনি গাড়িতে ফিরে এলেন।

‘ধন্যবাদ, স্যার। খোদা আপনার সহায় হোন।’ কৃতজ্ঞতা জানাল ছেলেটি। তরুণ কর্মকর্তার মনে ভীষণ তোলপাড় চলছিল। কী বলবেন, তিনি কোনো কথা খুঁজে পেলেন না। শুধু দেখলেন- ছেলেটি হুইলচেয়ার ঠেলে ভাইকে নিয়ে ফুটপাত ধরে চলে যাচ্ছে।

তরুণ কর্মকর্তা বাড়ি ফিরে এলেন। গাড়ি থেকে বের হয়ে থেঁতলানো দরজার দিকে তাকালেন। খুব খারাপভাবেই নষ্ট হয়েছে। চোখে পড়ার মতোই। কিন্তু এটা মেরামতের জন্য তিনি চিন্তিত হলেন না। তিনি এটা এভাবেই রেখে দিতে চান। এটি যেন তাকে মনে করিয়ে দেয়- ‘জীবনে এত দ্রুত চলো না যেন মনোযোগ আকর্ষণের জন্য তোমার দিকে কাউকে ইট ছুড়তে হয়।’

নীতিকথা : জীবন আমাদের আত্মার সঙ্গে চুপিচুপি কথা বলে। আমরা যখন তা শুনি না তখন এটি আমাদের দিকে ইট ছোড়ে। হয় জীবনের কথা শুনুন নয়তো ইটের জন্য অপেক্ষা করুন।

মূল গল্প : ওয়েট ফর দি ব্রিক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×