জীবনকথা

অ্যাপলের প্রাণ টিম কুক

টিমোথি ডোনাল্ড কুক বা টিম কুক হলেন একজন আমেরিকান ব্যবসায়ী ও অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। একজন পরিশ্রমী মানুষের সাফল্যের চূড়ায় আরোহণের প্রকৃত উদাহরণ তিনি। আমেরিকান এই বিজনেস এক্সিকিউটিভ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারের জীবনকথা লিখেছেন -

  সেলিম কামাল ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টিম কুক ১৯৯৮ সালে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড অপারেশনে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে যোগ দেন। তিনি অ্যাপলের ওয়ার্ল্ড ওয়াইড সেলসে নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন এবং স্টিভ জবসের প্রধান নির্বাহী থাকাকালে তিনি অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। স্টিভের মৃত্যুর পর টিম কুক অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ শুরু করেন। এর আগে স্টিভ জবস অসুস্থ থাকাকালীল কুক ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১২ সালের শুরুতে অ্যাপল ইনকর্পোরেটেডের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা টিম কুককে অ্যাপলের ১০ লাখ শেয়ার পুরস্কার হিসেবে প্রদান করে। এসব শেয়ার ২০১৬ থেকে ২০২১ পর্যন্ত কার্যকর হবে। ২০১২ সাল পর্যন্ত অ্যাপল টিম কুককে প্রায় ৩৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে- যা তাকে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত নির্বাহীদের মধ্যে শীর্ষে নিয়ে গেছে।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা : টিম কুকের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালবামায় ১৯৬০ সালের ১ নভেম্বর। এখানকার রবার্টসডেলে তার বেড়ে ওঠা। বাবা ছিলেন শিপইয়ার্ডের একজন কর্মী এবং মা ছিলেন গৃহিণী। কুক রবার্টসডেল হাইস্কুল থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন এবং ১৯৮২ সালে অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্প ও প্রকৌশলে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালে ডিউক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।

অ্যাপলে সংশ্লিষ্টতা : ১৯৮২ সালে অবার্ন থেকে স্নাতক করার পর কুক আইবিএম কম্পিউটার নিয়ে পার করেন প্রায় এক যুগ। এর মাঝামাঝি সময়ে তিনি ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুকুয়া বৃত্তি অর্জন করেন ১৯৮৮ সালে। এরপরই তিনি ইনটেলিজেন্ট ইলেকট্রোনিক্সের পুরনো কম্পিউটার বিক্রি শাখায় চিফ অপারেটিং অফিসার হিসেবে যোগ দেন। ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে একটু একটু করে বড় হতে থাকা কুক ১৯৯৮ সালে স্টিভ জবসের অ্যাপলে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ পান। তখন তাকে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর কুকের নানা পদক্ষেপের কারণে অ্যাপল কোম্পানির ব্যবসায় গতি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। এ সময়ে অ্যাপল কোম্পানির ফ্ল্যাশ মেমোরি, আইপড ন্যানো, আইফোন, আইপ্যাড, টাচপ্যাড-এর প্রসার হতে থাকে বিশ্বব্যাপী। এসবের আকাশচুম্বী ব্যবসায় ফুলেফেঁপে ওঠে অ্যাপল।

বদলে গেলেন কুকও : অ্যাপলের দিন বদলের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যেতে থাকে কুকের ক্যারিয়ারের রংও। ২০১১ সালে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে সরে দাঁড়িয়ে স্টিব জবস টিম কুককে তার স্থলাভিষিক্ত করেন। এর ছয় সপ্তাহ পরই স্টিব জবস প্যানক্রিয়েটিক ক্যান্সারে মারা যান। অ্যাপলের জন্য টিম কুকের ওপর নির্ভরতা যেন বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়। জবসের মৃত্যুর পর কুকও যেন অ্যাপলকে নিজের করে নিলেন এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গায় লোকবলের পরিবর্তন আনলেন। এতে কোম্পানিটির আয় বেড়ে গেল আরও বহুগুণে। কুকের অধীনে অ্যাপল শুধু ব্যবসাই করেনি, তারা বহু ধরনের বদান্যতায় সংশ্লিষ্ট ছিল।

ব্যক্তিজীবন : কুক ছোটবেলা থেকেই প্রচণ্ড কৌতূহলী ছিলেন। দুর্গম এলাকায় চলা, সাইক্লিং করা এবং জিমে যাওয়া ছিল তার নেশার মতো। এত কিছুর পরও তিনি একাকিত্ব বেশি উপভোগ করেন। তার ভেতর কৃতজ্ঞতাবোধ ও ভালোবাসার এক অসাধারণ মিশেলের বসবাস রয়েছে। আর এ কারণেই তিনি জবসকে ২০০৯ সালে তার লিভারের একটি অংশ কেটে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অসুস্থ জবস কোনোভাবেই তা নিতে রাজি হননি। স্ত্রী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে বিশ্বাসী নন বলে বিয়েথাও করেননি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×