জীবনকথা

আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

  সেলিম কামাল ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হলিউড অভিনেত্রী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও
হলিউড অভিনেত্রী লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

লিওনার্দো ভিলহেল্ম ডিক্যাপ্রিও। একজন মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক। বহু পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেছেন। পেয়েছেন একবার একাডেমি পুরস্কার ও তিনবার গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার। দারিদ্র্যের কশাঘাত সয়ে সয়ে একদিন ঠিকই নাম লেখান ধনীদের তালিকায়।

প্রাথমিক জীবন : লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও ১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর ক্যালিফোর্নিয়ার হলিউডে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জর্জ ডিক্যাপ্রিও ছিলেন একজন কমিক শিল্পী ও কমিক বই পরিবেশক এবং মা ইরমেলিন ছিলেন একজন আইন সচিব।

তিনি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। ডিক্যাপ্রিওর বাবা ছিলেন ইতালীয় (নাপোলস) ও জার্মান (বাভারিয়া) বংশোদ্ভূত। ডিক্যাপ্রিওর নানা ভিলহেল্ম ইন্ডেনবার্কেন ছিলেন একজন জার্মান। তার নানি হেলেন ইন্ডেনবার্কেন ছিলেন একজন রুশ বংশোদ্ভূত জার্মান নাগরিক।

তার নামকরণ যেভাবে : লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নামকরণের গল্পটাও বেশ যুক্তিসই। তিনি যখন মায়ের গর্ভে ছিলেন তখন তার মা ইতালির একটি জাদুঘরে লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির ছবি দেখছিলেন।

এমন সময় তিনি প্রথম পেটে সন্তানের নড়াচড়া টের পান। আর এ কারণেই ছেলেটির জন্মের পর তিনি নামের সঙ্গে জুড়ে দিলেন লিওনার্দো। লিওর বয়স যখন এক বছর তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়।

লিও বড় হতে থাকেন মায়ের ছায়ায়। তার মায়ের চাকরির কারণে মা-ছেলে দু’জন লস অ্যাঞ্জেলেসের বিভিন্ন স্থানে, যেমন ইকো পার্ক ও লস ফেলিজে বাস করেন। তাদের লস ফেলিজের বাড়িতে পরবর্তী সময়ে গণগ্রন্থাগার নির্মাণ করা হয়। অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে মানুষ হতে থাকেন ডিক্যাপ্রিও।

তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস সেন্টার ফর এনরিচড স্টাডিজে চার বছর পড়ার পর সিডস এলিমেন্টারি স্কুল (বর্তমান ইউসিএলএ ল্যাব স্কুল) এবং জন মার্শাল হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। তিন বছর পর তিনি স্কুল থেকে ড্রপ আউট হন কিন্তু ততদিনে সমমানের ডিপ্লোমা জেনারেল এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্জন করেন। দারিদ্র্যে পুড়ে পুড়ে একদিন সোনা হয়ে ওঠেন ডিক্যাপ্রিও।

কর্মজীবন : ডিক্যাপ্রিওর কর্মজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সেই। সে সময় মায়ের হাত ধরে মডেলিং ও অভিনয়ের কলাকৌশল শিখতে থাকেন। ওই বয়সেই তিনি কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্র ও শিক্ষামূলক চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে প্রতিভার জানান দেন।

হলিউডের সোনালি জগতে বিচরণ : ডিক্যাপ্রিওর চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯১ সালে কমেডি বিজ্ঞান কল্পকাহিনী ক্রিটারস থ্রি দিয়ে। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন ভূস্বামীর সৎছেলের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এর পরপরই তিনি এবিসির গ্রোয়িং পেইনস চলচ্চিত্রে এক অনাথ লুক ব্রোয়ার চরিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৯২ সালে ৪০০ শিশুশিল্পী থেকে তাকে রবার্ট ডি নিরো নিজে দিস বয়েজ লাইফের জন্য বাছাই করেন।

মূলধারার চলচ্চিত্র টাইটানিক ইতিহাস : ১৯৯৭ সালে জেমস ক্যামেরন পরিচালিত টাইটানিক চলচ্চিত্রে ডিক্যাপ্রিও ২০ বছর বয়সী জ্যাক ডসনের ভূমিকায় অভিনয় করেন। তিনি প্রথমে এ চরিত্রে অভিনয় করতে চাননি, কিন্তু ক্যামেরন তার অভিনয় দক্ষতার ব্যাপারে আস্থা প্রদর্শনের কারণে তিনি এ চরিত্রে অভিনয় করতে অনুপ্রাণিত হন। ছবিটি বক্স অফিসে দারুণভাবে সাড়া ফেলে এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নাম।

তার উল্লেখযোগ্য অন্যান্য ছবি : লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অভিনীত উল্লেখযোগ্য অন্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- সেলিব্রেটি, দ্য ম্যান ইন দ্য আয়রন মাস্ক, দ্য বিচ, গ্যাংস অব নিউইয়র্ক, ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান, দ্য অ্যাভিয়েটর প্রভৃতি।

ব্যক্তিগত জীবন : ১৯৯৭ সালে তাকে ব্রিটিশ গায়িকা এমা বান্টনের সঙ্গে ডেটিং করতে দেখা যায়। এছাড়া তাকে অভিনেত্রী বিজৌ ফিলিপস, মডেল ক্রিস্টেন জাং ও এমা মিলারদের সঙ্গেও প্রেম করতে দেখা গিয়েছিল। ২০০০ সালে ব্রাজিলীয় মডেল গিসেল বান্দচেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং ২০০৫ পর্যন্ত তাদের সম্পর্ক ছিল। ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলি মডেল বার রেফায়েলির সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×