বিচিত্রিতা

ক্রেতার মন জয়ে ব্যর্থ পণ্যের জাদুঘর

ব্যর্থতাই সফলতার চাবিকাঠি। সুইডেনের হেলসিনবার্গে প্রতিষ্ঠিত ‘দ্য মিউজিয়াম অব ফেইলর’ নামের জাদুঘরে শতাধিক পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। ক্রেতার মন জয় করতে না পারায় শুরু হতে না হতেই ওইসব পণ্যের বিদায় ঘণ্টা বেজেছিল। ব্যর্থতার তালিকায় আছে গুগল, অ্যাপল, আমাজন, মাইক্রোসফট, ট্ইুটার, নকিয়া, কোকাকোলা, হার্লে ডেভিসন, কোলগেট, সনি ও কোডাকের মতো নাম। সুইডিস মনস্তত্ত্ববিদ ডক্টর স্যামুয়েল ওয়েস্ট এ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা।

  যুগান্তর ডেস্ক    ২৪ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

* মাইক্রোসফটের কিন ফোন

২০১০ সালে প্রযুক্তি দুনিয়ার অন্যতম শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট ১০০ কোটি ডলার ব্যয়ে বাজারে আনে ‘কিন ফোন’। মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের দিকে ঝুঁকতে থাকা তরুণরা ছিল এটির প্রধান লক্ষ্য। যদিও ফোনটি দিয়ে অ্যাপ ডাউনলোড, ইউটিউব দেখা বা গেম খেলা যেত না। মাইস্পেসে ছবি আপলোড করা গেলেও টুইটারে করা যেত না। ফলে বাজারে আসার মাত্র ২ মাস পরই ফোনটির উৎপাদন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় মাইক্রোসফট।

* গুগল গ্লাস

গুগলের ‘গুগল গ্লাস’ পণ্যটি ভবিষ্যতে সবার হাতে হাতে থাকবে এমনটাই ভাবা হয়েছিল। ২০১২ সালে পণ্যটি অবমুক্ত করা হলে আগ্রহী ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই হতাশা প্রকাশ করেন। একজন রিভিউয়ার পণ্যটি সম্পর্কে বলেন, ‘সর্বকালের বাজে পণ্য’। অনেকেই রসিকতা করে এর নাম দেয় ‘গ্লাসহোলস।’ পণ্যটি অনুমোদন ছাড়াই যে কোনো বিষয় রেকর্ড করে ফেলত। প্রাইভেসি নিয়ে কাজ করা পক্ষগুলো ওই ফিচারের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয়। ২০১৫ সালে গুগল প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।

* আমাজনের ফায়ার ফোন

২০১৪ সালে স্মার্টফোন বাজার দখলের স্বপ্ন নিয়ে ‘ফায়ার ফোন’ আনে আমাজন। এর ২টি ফিচার হল থ্রিডি গ্রাফিকস ও ফায়ারফ্লাই অ্যাপ। ফায়ারফ্লাই অ্যাপের মাধ্যমে ছবি ও বারকোড ব্যবহার করে বভিন্ন জিনিস চিহ্নিত করা যেত। কিন্তু গুগল প্লেস্টোরে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি। ফলে ব্যবহারকারীকে আমাজন অ্যাপ স্টোরে থাকা সীমিত অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করতে বাধ্য হতো। এছাড়া গুগল ম্যাপ, জিমেইল, ইউটিউব সেবা ব্যবহারের সুযোগ ছিল না। এসব সীমাবদ্ধতা ফোনটির জীবনকাল সংক্ষিপ্ত করে দেয়। চাহিদা বাড়ানোর জন্য ২০০ ডলারের ফোনটি মাত্র ৯৯ সেন্টে নেমে আসে। এতেও শেষরক্ষা হয়নি। ২০১৫ সালে ফোনটির উৎপাদন বন্ধ করে দেয়া হয়।

* টুইটার পিক

২০০৯ সালে ‘টুইটার পিক’ নামের ডিভাইস বাজারে আসে। ১০০ ডলার মূল্যের ওই ডিভাইসটি দিয়ে কেবল টুইটারে এক্সেস পাওয়া যেত। মাসে ৮ ডলারের বিনিময়ে টুইট পড়া, ছবি দেখা, লিংক খোলা ও ফলোয়ার ম্যানেজের কাজ সম্পন্ন করা যেত। এর বাইরে ডিভাইসটি দিয়ে আর কিছুই করা যেত না। ফলে কেউ এ ভিভাইসটি কেনেনি। সবশেষ ২০১২ সালে পিকের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

* কোকাকোলা

১৯৮৫ সালে কোকাকোলা তাদের আদি ফর্মুলার কোক পাল্টে তুলনামূলক মিষ্টি স্বাদের ‘নতুন কোক’ নিয়ে আসে। কোকাকোলা কোম্পানি ৪ লাখের বেশি ফোন কল ও চিঠি পায় যেগুলোতে ভক্তরা বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করে নতুন স্বাদের কোক বাতিলের আবেদন জানায়। ফলে আগের স্বাদে ফেরত যায় কোকাকোলা। ১৯৯২ সালেও স্বাদ পরিবর্তনের চেষ্টা হিসেবে কোক-২ বাজারে ছাড়ে তারা। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালে সেটিও বাজার থেকে তুলে নিতে বাধ্য হয়।

সালমান রিয়াজ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×