জীবনকথা

থিয়েটার থেকে আসা অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ

  সেলিম কামাল ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

থিয়েটার থেকে আসা অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ
বলি অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ

থিয়েটার থেকে আসা বলিউডের এক নক্ষত্রের নাম নাসিরুদ্দিন শাহ। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে আলাদা ধরনের ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের হৃদয়ে দাগ কেটেছেন তিনি।

জন্ম ও পড়ালেখা : নাসিরুদ্দিন শাহ ভারতের উত্তর প্রদেশে আলি মোহাম্মদ শাহ ও তার স্ত্রীর সংসারে তিন ছেলের একজন হয়ে পৃথিবীতে আসেন ১৯৫০ সালের ২০ জুলাই। সেন্ট জোসেফস কলেজে পড়াশোনা শেষে নাসিরুদ্দিন শাহ আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি থেকে ১৯৭১ সালে মানবিক বিভাগে স্নাতক পাস করেন। পরে তিনি দিল্লিতে ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় পড়াশোনা করেন।

তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা : নাসিরুদ্দিন শাহের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে আছে আক্রোশ, নিশান্ত, মিরচ মাসালা, স্পর্শ, ত্রিকাল, আলবার্ট পিন্টোকো গুসসা কিউ আতা হ্যায়, ডার্টি পিকচার, ইশকিয়া ও আরও অনেক। ‘সারফারোশ’ ও ‘ওয়েডনেস ডে’র মতো সিনেমাগুলোয় তার অভিনয় যথেষ্ট প্রশংসা পায়। এ ছাড়া ছোট পর্দায় ও মঞ্চ নাটকে তিনি প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তার মঞ্চনাটকের দল ‘মোটলে প্রোডাকশনস’ তাদের প্রথম নাটক স্যামুয়েল বেকেটের ‘ওয়েটিং ফর গডো’ -এর মাধ্যমেই এ ক্ষেত্রে প্রশংসা কুড়াতে শুরু করে। অভিনয় তার কাছে অন্য সবকিছুর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থেকেছে সব সময়। মূলত এ কারণেই তাকে বলা হয় ভারতের থিয়েটার থেকে উঠে আসা বলিউড নক্ষত্র।

আত্মজীবনীতে উপলব্ধি : নাসিরুদ্দিনের জীবন তার সিনেমাগুলোর মতো অসাধারণ আর বৈচিত্র্যময়। পারিবারিক জীবনে বাবার সঙ্গে তার বেশ দূরত্ব ছিল আর সে কথা তার আত্মজীবনী থেকেই জানা যায়। বেশিরভাগ বাবা-মায়ের মতো তার বাবাও মেনে নিতে চাননি লেখাপড়ার প্রতি তার অনাগ্রহ এবং খারাপ প্রাতিষ্ঠানিক ফলাফল। তিনি চেয়েছিলেন পড়াশোনা করে নাসির কিছু করুক, জীবনে বড় কিছু হোক।

তাদের মধ্যকার সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে যখন নাসির প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া আর সামনে এগিয়ে নিয়ে না গিয়ে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটির নাট্যমঞ্চের সঙ্গে জড়িয়ে যান। কিন্তু নাসিরুদ্দিন নিজেই উল্লেখ করেছেন, তার পিতা বকাবকি করা ছাড়া কোনোদিন তার ওপর একটা আঙুলও তোলেননি। তা ছাড়া আত্মজীবনীতে তিনি স্বীকার করেন, নিজের সন্তানদের মাধ্যমেই তিনি এখন তার বাবার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারেন।

জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় পর্ব : তার ঘটনাবহুল জীবনের সবচেয়ে নাটকীয় পর্ব শুরু হয় যখন ১৯-২০ বছরের নাসির পরিবারের সবার মতের বিরুদ্ধে গিয়ে ৩৬ বছরের মানারা শিকরিকে বিয়ে করেন। তার প্রথম স্ত্রী মানারা শিকরি পারভিন মুরাদ নামেও বেশ পরিচিত। তিনি ছিলেন একজন তালাকপ্রাপ্ত মহিলা এবং প্রথম স্বামীর ঘরে তার একাধিক সন্তান ছিল।

নাসির ও পারভিনের বিয়ের এক বছরের মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে আসে একমাত্র সন্তান, তাদের কন্যা হিবা শাহ। কন্যার জন্মের এক বছরের মধ্যেই ঘর ভেঙে যায় পারভিন-নাসির দম্পতির। কিন্তু আগের বিয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে পারভিন যে পরিমাণ মোহর নাসিরের সঙ্গে বিয়ের সময় নির্ধারণ করেছিলেন তা পূরণ করে জীবন নতুন করে শুরু করতে অভিনেতা নাসিরের ১২ বছরের বেশি সময় লেগে যায়।

বাকি সংসার জীবন : পারভিনের সঙ্গে সম্পর্কে যখন ভাঙনের সুর বেজে উঠেছিল, তখন ১৯৭০ সালে নাসির স্বনামধন্য অভিনেত্রী ডিনা পাঠকের মেয়ে রত্না পাঠকের প্রেমে মজেন। ১৯৮২ সালে নাসির ও রত্না বিয়ের পিঁড়িতে বসেন। এ দম্পতি এখন তাদের দুই ছেলে ইমাদ শাহ ও ভিভান শাহ এবং নাসির ও পারভিন দম্পতির মেয়ে হিবার সঙ্গে বোম্বেতে থাকেন।

স্বীকৃতি ও সম্মাননা : ভারতীয় চলচ্চিত্রে অবদানের জন্য ভারত সরকার তাকে ১৯৮৭ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মশ্রী ও ২০০৩ সালে ভারতের তৃতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা পদ্মভূষণ পদকে ভূষিত করে। স্পর্শ ও পার ছবিতে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা এবং ইকবাল ছবিতে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। এ ছাড়া তিনবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×