জীবনকথা

আমেরিকার অমর বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন

  সেলিম কামাল ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন
বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন

আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা-জনকদের অন্যতম বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। লেখক, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী- এ সবই তার পরিচয়।

আমেরিকার প্রতিষ্ঠাতা-জনকদের অন্যতম বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন। লেখক, রাজনীতিবিদ, সঙ্গীতজ্ঞ থেকে শুরু করে বিজ্ঞানী- এ সবই তার পরিচয়। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন ব্রিটিশ-আমেরিকার অঙ্গরাজ্য ম্যাসাচুসেটসে। তার বাবা জোসিয়া ফ্রাঙ্কলিনের ১৭ সন্তানের একজন বেঞ্জামিন। তার মা আবিয়া ফলগার ছিলেন জোসিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। বোস্টন ল্যাটিন স্কুলে পড়াশোনা করেন বেঞ্জামিন। তবে স্নাতক শেষ করেননি। অবশ্য প্রচুর পড়তেন।

পরিচয় : বিজ্ঞানী হিসেবে আমেরিকার আলোকিত যুগের ও পদার্থ বিজ্ঞানের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিত্ব বিদ্যুৎসংশ্লিষ্ট আবিষ্কার ও তত্ত্বের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। ১৭৪৭ সালে তার প্রচারিত ধনাত্মক ও ঋণাত্মক বিদ্যুৎ মতবাদ দারুণভাবে প্রশংসিত হয়। ফ্রাঙ্কলিন স্টোভ, লাইটনিং রড তার আবিষ্কার। ১৭৫১ সালে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন। আমেরিকার স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন তিনি। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি দ্য নিউ ইংল্যান্ড কারেন্ট নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করেন। ১৭৮৫-১৭৮৮ সাল পর্যন্ত তিনি পেনসিলভেনিয়ার গভর্নর ছিলেন। জীবনের শেষ দিকে তিনি তার দাসদের মুক্ত করে দেন। আমেরিকার মুদ্রা, শহর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সময়ে তার নাম ছবিসহ মুদ্রিত হয়েছে।

অন্যান্য অবদান : বিজ্ঞান, বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে তার অবদানগুলো বেশ উল্লেখযোগ্য। যেমন, বজ্রনিরোধক দণ্ড, বাইফোকাল লেন্স, ফ্রাঙ্কলিনের চুলা, অডোমিটার, ফ্রাঙ্কলিন হারমোনিকা ইত্যাদি। ১৭৩০ সালে ডবেরা নামে এক বিদুষী নারীকে বিয়ে করেন। তিনি ১৭৩১ সালে ফিলাডেলফিয়া পাবলিক লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন।

বিদ্যুৎ আবিষ্কার নিয়ে মজার গল্প : আকাশের চমকানো বিদ্যুৎ আর আমাদের ঘরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যে একই জিনিস তা জানতেন না তখনকার বিজ্ঞানীরা। বেঞ্জামিন প্রমাণ করে দেখান যে, আকাশের চমকানো বিদ্যুৎ আর ঘরে তৈরি করা বিদ্যুৎ একই জিনিস। ১৭৫২ সালের ১৫ জুন তিনি প্রচণ্ড এক ঝড়ো বাতাসে বিপজ্জনক এক পরীক্ষা করেছিলেন।

সেই রাতে প্রবল বাতাসের সঙ্গে চলছিল বৃষ্টি। তিনি সেদিন উড়িয়ে দিলেন রেশমি কাপড়ের তৈরি এক ঘুড়ি। ঘুড়ির যে সুতা সেখানেও ব্যবহার করলেন রেশমি সুতা। সুতার শেষ মাথায় মানে হাতের কাছে বেঁধে দিলেন ধাতুর তৈরি এক চাবি। আর চাবিটি ছিল একদম তার হাতের কাছে। রেশমি সুতা নেয়ার কারণ, রেশমি কাপড় ইলেক্ট্রন পরিবহন করতে পারে ভালো। রেশমি কাপড়ে কাচের কাঠি ঘষে নিলে তা ছোট ছোট কাগজ টুকরো বা কাঠের টুকরোকে আকর্ষণ করে তা প্রচলিত ছিল অনেক আগেই। তার ওপর ছিল বৃষ্টির জলে ভিজে পরিবহন ক্ষমতা গেল বেড়ে।

ফ্রাঙ্কলিন জানতেন না কত বড় বিপদের কাজ করছেন তিনি। আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর সঙ্গে সঙ্গে সে বিদ্যুৎ ভেজা সুতো বেয়ে নেমে এল চাবির মাঝে। চাবির মধ্যে বয়ে গেল প্রবল বিদ্যুতের ঝলক। বেঞ্জামিনের ভাগ্য যে কী পরিমাণ ভালো ছিল ভাবতেই অবাক লাগে। কারণ এ কাজে দু’জন মারা গিয়েছিল। আকাশে যে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ থাকে! প্রায় আড়াইশ’ বছর আগে পরীক্ষাটি করেছিলেন বিজ্ঞানী বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।

বজ্রনিরোধক দণ্ড : সেসময়ে অধিকাংশ বাড়িই ছিল কাঠের তৈরি। আর বজ্রপাত হলে অধিকাংশ সময়ই এতে আগুন ধরে যেত। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিনের পরীক্ষা অনুসারে বাড়ির ছাদে একটি চোখা ধাতব দণ্ড লাগিয়ে তারের সাহায্যে একে মাটির তলায় নিয়ে গেলে, এ বৈদ্যুতিক ডিসচার্জকে সহজেই শর্টসার্কিট করে দেয়া সম্ভব হয়। বিদ্যুৎ বাড়ির কাঠামোতে আঘাত না হেনে রড হয়ে সরাসরি চলে যায় মাটিতে। রডের মাথাটি গোলাকার না রেখে চোখা রাখার কারণ হচ্ছে, এর ফলে এর চারপাশে তুলনামূলক শক্তিশালী তড়িৎক্ষেত্র তৈরি হয়।

তার মৃত্যু : মধ্যবয়স থেকেই স্থূলতা রোগে ভুগছিলেন ফ্রাঙ্কলিন। এ কারণে তার শরীরে নানারকম রোগ বাসা বেঁধেছিল। প্লুরিটিক অ্যাটাকে তিনি ৮৪ বছর বয়সে মারা যান ১৭৯০ সালে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×