বিচিত্র

ডুবে যাওয়া জাহাজের গুপ্তধনের খোঁজ

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক ০২ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডুবে যাওয়া জাহাজের গুপ্তধনের খোঁজ

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বা নানা কারণে হারিয়ে যাওয়া বা ডুবে যাওয়া জাহাজের অনেক গুপ্তধন রয়েছে সমুদ্রতলে। এসব হারিয়ে যাওয়া মণি-মানিক্যের খোঁজে আজও চলে রোমাঞ্চকর অভিযান।

এমনই হারিয়ে যাওয়া গুপ্তধনের খোঁজ মিলেছে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ এক জাহাজে। সেই জাহাজের নাম নুয়েস্ট্রা সেনোরা দে আটোশা।

আমেরিকার ফ্লোরিডায় অবস্থিত একটি দ্বীপ শহর হল ‘কি ওয়েস্ট’। ১৬২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনা। নুয়েস্ট্রা সেনোরা দে আটোশা, সান্তা মার্গারিটা, দ্য স্প্যানিশ গ্যালন্স নামের তিনটি স্প্যানিশ জাহাজ কিউবা থেকে স্পেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। জাহাজ তিনটিতে ছিল প্রচুর সোনা-রুপা, মহামূল্যবান হীরে সমেত প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও অধিক সম্পদ।

৬ সেপ্টেম্বর কি ওয়েস্ট উপকূলের কাছে এসে জাহাজগুলো এক ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ের সম্মুখীন হয়। সেখানে সব জাহাজই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং সমুদ্রে ডুবে যায়। এর প্রায় সাড়ে তিনশ বছর পর ১৯৮৫ সালে মেল ফিসার নামের এক ধনী গুপ্তধন সন্ধানী সেই গুপ্তধনের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েন। মেল ফিসার সমুদ্রের অন্তত ৬০০ ফুট নিচে একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পান।

আচমকা স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ১৬২২ সালে সামুদ্রিক ঝড়ের কবলে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল যে স্প্যানিশ জাহাজ আটোশা- এ কি সেই আটোশা! যদি তা-ই হয়, তাহলে...! মেল ফিসার তার হৃৎপিণ্ডের প্রতিটি হৃদস্পন্দন স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছেন। সেই দপদপানি শুনতে শুনতেই তিনি মনস্থির করে ফেললেন।

তিনি এই ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ঢুকলেন। ১৯৮৫ সালের ২০ জুলাই মেল ফিসার সত্যিই তার স্বপ্নকে হাতের মুঠোয় ধরেছিলেন।

বুকের ভেতরে তাল-তাল সোনা, রুপো, হীরে আর পান্না নিয়েই আটোশা সত্যিই এতদিন সমুদ্রের তলদেশে নিশ্চুপ হয়ে পড়েছিল। সাড়ে তিনশ বছরেরও বেশি সময় কেটে গেছে।

মেল ফিসার আটোশাকে নিয়ে এলেন আবারও পৃথিবীর আলোয়। মেল ফিসারের দাবি, তিনি প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ সম্পদের সন্ধান পেয়েছেন।

এর মধ্যে ৪০ টন সিলভার ও সোনার বার, ১ লাখ স্প্যানিশ রৌপ্য মুদ্রা, সোনা ও রুপার হস্তনির্মিত সামগ্রী এবং নানা মণি-মুক্তা। কিন্তু অন্যান্য জাহাজের বেঁচে যাওয়া ক্যাপ্টেন ও নাবিকদের কথা অনুযায়ী আরও প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছিল অন্য জাহাজগুলোতে, যা এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এর মধ্যে ছিল প্রায় ১৭ টন রুপার বার, ১ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা, ২৭ কেজি পান্না এবং ৩৫টি স্বর্ণের বাক্স। এর খোঁজ এখনও চলছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত সেগুলো অধরাই রয়ে গেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×