জীবনকথা

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড

  সেলিম কামাল ০৬ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড
অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড

মাথায় কাউবয় হ্যাট আর চোখে অনুসন্ধানী দৃষ্টি নিয়ে ঘোড়ায় চেপে টগবগ করে ছুটে চলা। তারপর হঠাৎ কান ফাটানো গুলির আওয়াজে কুপোকাত করে ফেললেন শত্রুকে। এরকম অ্যাকশন দৃশ্যের বর্ণনা মানেই ওয়েস্টার্ন ঘরানার অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা ক্লিন্ট ইস্টউড।

বিস্তৃত ক্যারিয়ারজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন বহু চরিত্রে অভিনয় করেছেন ক্লিন্ট ইস্টউড। ডলারস ট্রিলজি দিয়ে শুরু করে পরপর তিন দশকে বক্স অফিসে সেরা তারকাদের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। পরে নিজের পরিচালিত ছবিগুলো দিয়ে অস্কার বাগিয়ে নিয়েছেন দু’বার।

১৯৩১ সালের ৩০ মে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে জন্ম নেন ক্লিন্ট ইস্টউড। জন্মের সময় তার ওজন ছিল ১১ পাউন্ড ৬ আউন্স। সেজন্যই শক্তিদেবতার নামানুসারে হাসপাতালে তার ডাকনাম দেয়া হয়েছিল স্যামসন।

ক্যালিফোর্নিয়ার পাইডমন্টের মধ্যবিত্ত দম্পতি ক্লিন্টন ইস্টউড এবং রুথ উড আদরের ছেলেকে ভর্তি করতে চেয়েছিলেন সেখানকার হাই স্কুলে। কিন্তু ছন্দবদ্ধ জীবনে মনে হয় ছোটবেলা থেকেই অরুচি ছিল তার।

একটু বড় হয়ে অরিগন এবং টেক্সাসের বনগুলোতে অগ্নি নির্বাপণের কাজ করেন। সে সময় নাকি সিয়াটল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোরিয়ান যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আর্মিতে যোগ দেন। অবশ্য সম্মুখসমরে যাওয়া হয়নি তার, সময় কেটেছে ফোর্ট অর্ডে সাঁতার প্রশিক্ষক এবং লাইফগার্ড হিসেবে।

সেখান থেকে ফিরে আসার সময়, পঞ্চাশের দশকের শুরুর দিকে একবার প্লেন ক্র্যাশে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসেন ইস্টউড। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় ক্যালিফোর্নিয়ার পয়েন্ট রেয়েসের কাছাকাছি সাগরে আছড়ে পড়ে বিমানটি। ইস্টউড আর সেই বিমানচালক প্রায় তিন মাইল সাঁতরে হাঙ্গর উপদ্রুত নদী থেকে তীরে উঠেছিলেন।

পঞ্চাশের দশকে কিছু সাধারণ মুভি আর টিভি সিরিজ বাদে বলার মতো তেমন কোনো সাফল্য ছিল না তার। সে সময় নিজের খরচ চালানোর জন্য হলিউডের আলিশান বাড়িগুলোয় সুইমিং পুল খননের কাজ করতেন তিনি।

আরভিং গ্লাসবার্গ নামে ইউনিভার্সাল স্টুডিওর এক সিনেমাটোগ্রাফার ছিলেন তার বন্ধু। তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ক্যামেরার সামনে স্কিন টেস্ট দেন ইস্টউড। অনেকটাই নার্ভাস ছিলেন। তারপরও ইউনিভার্সাল স্টুডিও দেড় বছরের জন্য চুক্তি করে তার সঙ্গে।

পঞ্চাশের দশকে তিনি কাজ করেছিলেন ‘রিভেঞ্জ অফ দ্য ক্রিয়েচার’, ‘টারান্টুলা’, ‘ডেথ ভ্যালি ডেজ’ এরকম কিছু মধ্যমমানের চলচ্চিত্রে। ১৯৫৮ সালে সিবিএস টেলিভিশনের সেটে এক বন্ধুর কাছে দেখা করতে যাওয়ার সময় তার ভাগ্য পাল্টে যায়।

সেখানকার এক কর্মকর্তার কাছে ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার ইস্টউডকে দেখে একজন সাক্ষাৎ কাউবয় মনে হয়েছিল। ‘রহাইড’ নামের ওয়েস্টার্ন টিভি সিরিজের রাউটি ইয়েটসের চরিত্রটি তাই সহজেই পেয়ে যান তিনি। মাথা গরম কাউবয়ের ভূমিকায় অনায়াসেই মানিয়ে নেন নিজেকে। পেয়ে যান ক্যারিয়ারের নতুন ঠিকানা। টিভি সিরিজটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। চলেছিল টানা আট বছর। সেখান থেকেই তার সাফল্যের শুরু।

১৯৬৩ সালে সের্গিও লিওন নামের তৎকালীন অচেনা এক ইতালীয় পরিচালক তার নতুন ওয়েস্টার্ন মুভির প্রধান চরিত্রকে খুঁজছিলেন। ‘রহাইড’ সিরিজের নাইস গাই ইমেজ ঝেড়ে ফেলায় বদ্ধপরিকর ইস্টউড ভিন্নধর্মী কোনো চরিত্র খুঁজছিলেন।

সে সময় এজেন্সি তাকে এই কাহিনী পড়ে দেখতে বলে। পড়ামাত্র তিনি বোঝেন, স্ক্রিপ্টটি তার পছন্দের আকিরা কুরোসাওয়ার ‘ইয়োজিমবো’ ছবির কাহিনী। অ্যান্টিহিরো চরিত্রটি খুবই পছন্দ হয় তার। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার সময় পারিশ্রমিকের পাশাপাশি তাকে একটি মার্সেডিজ গাড়িও উপহার দেয়া হয়। নিজের স্টাইল দিয়েই বাউন্টি হান্টারের চরিত্রটিকে আইকনিক করে তোলেন তিনি।

এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ক্যারিয়ারে একেরপর এক যুক্ত হতে থাকে সাফল্যের পালক। আসেন পরিচালনায়ও।

তার পরিচালিত ও প্রযোজিত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্য ঈগার স্যাংকশন, ব্রঙ্কো বিলি, ফায়ার ফক্স, সাডেন ইমপ্যাক্ট, পেইল রাইডার, দ্য রুকি, আনফরগিভেন, অ্যাবসলিউট পাওয়ার, মিলিয়ন ডলার বেবি, মিস্ট্রিক রিভার, হেয়ারআফটার, অ্যামেরিকান স্নাইপার, ইন্ডিয়ান হর্স ইত্যাদি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×