বিচিত্র

নানা দেশে শিশুর নাম রাখার বিধিনিষেধ

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক ২৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নানা দেশে শিশুর নাম রাখার বিধিনিষেধ

শিশুর নাম রাখা নিয়ে নানা দেশে নানারকম রীতি চালু আছে। এসব রীতি আবহমান কাল ধরেই প্রচলিত। কোনো কোনো দেশে এ বিষয়ে আইনও আছে।

এসব আইনে শিশুর জন্যে কী ধরনের নাম বাছাই করা যাবে না তার কিছু ইঙ্গিতও দেয়া আছে। কী নাম হবে শুধু সেটাই নয়, নাম রাখার কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও আছে। আরও আছে নাম রাখার সময়সীমা।

যেমন ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে মা-বাবাকে তাদের সন্তানের জন্মের ৪২ দিনের মধ্যে একটি নাম নির্ধারণ করতে হয়। এ সময়ের মধ্যে শিশুর নাম কর্তৃপক্ষের কাছে নিবন্ধন করা না হলে গুনতে হবে বড় অংকের জরিমানা।

ইউরোপের অন্যান্য দেশে অভিভাবকরা নাম চূড়ান্ত করার জন্য আরও লম্বা সময় পেয়ে থাকেন। যেমন সুইডেনে এজন্য তিন মাস এবং ডেনমার্কে ছ’মাস পর্যন্ত সময় দেয়া হয়।

অনেক অভিভাবক শিশুর জন্মের আগেই কিছু নাম পছন্দ করে রাখেন। তারা খুব স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গেই সন্তানের নাম ঠিক করে ফেলেন। আবার কী নাম রাখা হবে সেটা নিয়ে অনেক গবেষণা হয় পরিবারে। অনেক পরিবারে ভোটাভুটির মাধ্যমেও নামটি চূড়ান্ত করা হয়।

ব্রিটেনে একটি প্যারেন্টিং ওয়েবসাইট বেবিসেন্টারের সম্পাদক স্যারাহ রেডশোর মতে, সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করেই নামের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন। এমন নাম না রাখা যাতে পরে এ নিয়ে অনুশোচনা করতে হয়।

ব্রিটেনে শিশুর নাম রাখার ব্যাপারে কিছু নির্দেশনা দেয়া আছে। এই নির্দেশনা বিশ্বের অন্যান্য দেশের রীতিনীতির তুলনায় বেশ উদারই বলা চলে।

জেনারেল রেজিস্টার অফিস শিশুর নামের নিবন্ধন করে থাকে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী নাম রাখার ব্যাপারে ব্রিটেনে সেরকম কোনো বিধিনিষেধ নেই, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া। যেমন যেসব নাম অন্য কারও জন্য আক্রমণাত্মক হতে পারে এরকম নাম না রাখার কথা বলা হয়েছে। সেরকম কিছু মনে হলে কর্মকর্তারা ওই নাম নিবন্ধন করার ব্যাপারে অস্বীকৃতিও জানাতে পারেন।

কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে যার যা ইচ্ছেমতো শিশুর যে কোনো নাম রেখে দিতে পারেন। যেমন ২০১৬ সালে একটি ঘটনা ঘটেছিল। এক মা তার শিশুকন্যার নাম রাখতে চেয়েছিলেন সায়ানাইড। এই সায়ানাইড এক ধরনের বিষ। গুলি করে আত্মহত্যার আগে এডলফ হিটলার এই বিষ খেয়েছিলেন। এধরনের নাম রাখার ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে।

নাম রাখার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের ব্যাপারে সুইডেন বিখ্যাত। দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নষ্ট হতে পারে এরকম কোনো নাম রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা আছে দেশটিতে। নামের বানান ঠিকমতো লেখা হচ্ছে কিনা সেদিকেও নজর রাখা হয়। মা-বাবার জন্য আছে নামের একটি তালিকা। সেখান থেকে একটি বেছে নিয়ে ওই নামটি রাখার অনুমতি নিতে হয় সরকার ও স্থানীয় গির্জার কাছ থেকে। এমন কোনো নাম রাখা যাবে না, যে নাম থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় না যে শিশুটি ছেলে নাকি মেয়ে।

জার্মানিতেও একই আইন প্রচলিত। সেখানে শিশুর এমন নাম রাখতে হবে যা থেকে ছেলে না মেয়ে সেটি স্পষ্ট বোঝা যায়। স্থানীয় নিবন্ধন অফিস থেকেও এই নামের অনুমোদন নিতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে শিশুর নাম রাখার ব্যাপারে মা-বাবা বেশ স্বাধীনতা ভোগ করেন। তবে সেখানে কিছু বিধিনিষেধ আছে। এ ব্যাপারে একেক অঙ্গরাজ্যে একেক রীতি প্রযোজ্য। কোনো কোনো রাজ্যে বলা আছে একটি নাম সর্বোচ্চ কত লম্বা হতে পারে। এমনকি কোথাও কোথাও নামের মধ্যে নম্বর ব্যবহারের ওপরেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

মিসরে শিশুর জন্মের এক সপ্তাহ পর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে জ্বালানো হয় তিনটি মোমবাতি। একেকটি মোমবাতি একেকটি নামের প্রতিনিধিত্ব করে। শেষ পর্যন্ত যে নামের মোমবাতিটি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে জ্বলে সেই নামটিই বিজয়ী হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×