জীবনকথা

অ্যান্ড্রু সার্কিস আর কিংকংয়ের গল্প

  সেলিম কামাল ২৪ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যান্ড্রু সার্কিস
অ্যান্ড্রু সার্কিস

দি জাঙ্গল বুক অথবা ডিজনির বিউটি অ্যান্ড দি বিস্ট-এর মতো অনেক ছবিই মোশন ক্যাপচারের মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পারফরমেন্স ক্যাপচারও এগিয়েছে অনেক দূর। আর এই বিশেষ কারিগরি কৌশলের রাজকুমার হলেন ব্রিটিশ অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার অ্যান্ড্রু সার্কিস।

কোনো বস্তু বা মানুষকে বিশেষভাবে ক্যামেরায় ধারণ করে, সেটি দুই কিংবা তিন মাত্রার অ্যানিমেশনে রূপান্তর করার নামই মোশন ক্যাপচার। সিনেমার এই প্রযুক্তি বর্তমানে এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে, যার মাধ্যমে যে কোনো অভিনেতার পারফরমেন্স বিশেষভাবে ধারণ করে, পরবর্তী সময়ে বিশেষ জীবন্ত অন্য রূপ দেয়া যায়।

আর অভিনেতার অভিনয়কে ডিজিটাল রূপ দেয়াকে বলা হয় পারফরমেন্স ক্যাপচার। এ বিষয়টিকে সার্কিস নিয়ে গেছেন ভিন্ন এক উচ্চতায়। এ কারণে তাকে ডাকা হয় গডফাদার বা কিং অব দি মোশন ক্যাপচার নামে। পুরো নাম, অ্যান্ড্রু ক্লেমেন্ট সার্কিস। তবে তিনি অ্যান্ডি সার্কিস হিসেবেও পরিচিত।

১৯৬৪ সালের ২০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের রুইস্লিপে জন্মগ্রহণ করেন অ্যান্ড্রু। তার মা লাইলি একজন ইংলিশ, কাজ করতেন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নিয়ে। আর বাবা ক্লেমেন্ট সার্কিস ছিলেন ইরাকি। তিনি ছিলেন গাইনিকোলজিস্ট। সেন্ট বেনেডিক্ট স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষাজীবন শেষ করে ভিজ্যুয়াল আর্টস নিয়ে পড়াশোনা করেন ল্যাঙ্কেস্টার ইউনিভার্সিটিতে।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি থিয়েটারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দীর্ঘদিন সেখানে কাজ করার ফলে মেথড অভিনয়ের কলা-কৌশল খুব ভালোভাবেই নিজের আয়ত্তে আনেন। ১৯৯৯ থেকে তিনি টিভি মুভিতে, থিয়েটারে নিয়মিত কাজ শুরু করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই ডাক এলো লর্ড অব দি রিংস ছবির ‘গলাম’ চরিত্রে অভিনয়ের। প্রথম কথাতেই রাজি হয়ে গেলেও চিন্তায় পড়ে যান তার চরিত্রটি নিয়ে।

চিন্তা করতে করতেই তার চোখ যায় বিড়ালের দিকে। তিনি খেয়াল করলেন, তার বিড়ালটি নিজের মুখ থেকে উলের বল বের করার সময় বারবার অদ্ভুত এক ধরনের শব্দ করতে থাকে। ব্যাপারটি মনে ধরে যায় তার। শুরুতে সেই শব্দটি নিয়ে আরও অনুশীলন করেন এবং এর দুদিনের মাথায় গলামের কণ্ঠস্বরের ব্যাপারটা গুছিয়ে নেন। শুরু হয় অ্যান্ডির পারফরমেন্স ক্যাপচারের জগতে পথচলা।

লর্ড অব দি রিংসে গলামের দুটো সত্তা থাকে। গলামকে এ জন্যই নিজের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তার অন্য সত্তাটার সঙ্গে কথা বলে সে। এই দুটি চরিত্র করতে গিয়েই দক্ষতার পরিচয় দেন তিনি। ফলে পরিচালক পিটার জ্যাকসনের পছন্দের ব্যক্তিদের কাতারে এসে পড়েন অ্যান্ডি। লর্ড অব দি রিংসের অসংখ্য চরিত্রের মধ্যে অ্যান্ডি আরও কিছু ছোটখাটো চরিত্রে কণ্ঠ দেয়ার সুযোগ পান।

২০০২ সালের জুলাইয়ে তিনি অভিনেত্রী লরেইন অ্যাশবর্নকে বিয়ে করেন।

লর্ড অব দি রিংস ট্রিলজির বিশাল সাফল্যের পর অ্যান্ডিও ধীরে ধীরে মানুষের কাছে পরিচিতি পেতে লাগলেন। পিটার জ্যাকসন অ্যান্ডিকে তার পরবর্তী সিনেমা কিংকংয়ে অভিনয় করার প্রস্তাব দিলেন কিংকং চরিত্রটি করার জন্য।

২০০৫ সালে কিংকং যখন মুক্তি পেল, চারদিকে সাড়া ফেলে দিলেন অ্যান্ডি সার্কিস। একটি গরিলা কিভাবে হাঁটে, কিভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করে সবকিছু দর্শকদের কাছে একদম নতুন লাগল। কিংকংয়ে অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ২টি অ্যাওয়ার্ড জেতেন তিনি।

২০০৯-এর দিকে আবারও তিনি পারফরমেন্স অ্যাক্টিংয়ের একটি অফার পান স্টিভেন স্পিলবার্গের সিনেমায়। স্পিলবার্গের চিন্তাভাবনা ছিল টিনটিন কমিকসের ওপর একটি ট্রিলজি তৈরি করবেন, যার প্রথম সিনেমা হবে দি অ্যাডভেঞ্চার অব টিনটিন। এই ছবিতে অ্যান্ডি সার্কিস ক্যাপ্টেন হ্যাডকের চরিত্রটি করেন। ২০০৯ সালে সিনেমাটির শুটিং হয় এবং ২০১১ সালে মুক্তি পায়। এই চরিত্রটিও ভক্তদের অনেক পছন্দ হয়।

অ্যান্ডি ২০১১ সালে রাইজ অব দি প্ল্যানেট অব দি এপস ছবিতে সিজার নামে একটি জিনগতভাবে উন্নত এপের চরিত্র করেন। এই চরিত্রটি তার ফিল্ম ক্যারিয়ারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার পর ব্লকব্লাস্টার হিট হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×