জীবনকথা

খ্যাতিমান সঙ্গীতস্রষ্টা সলিল চৌধুরী

  সেলিম কামাল ৩১ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সলিল চৌধুরী
সলিল চৌধুরী

সলিল চৌধুরী ভারতের খ্যাতিমান সঙ্গীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার, গল্পকার। আজ রইল অসংখ্য জনপ্রিয় গানের এই স্রষ্টার জীবনকথা।

সলিল চৌধুরী মূলত বাংলা, হিন্দি এবং মালয়ালাম চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন। আধুনিক বাংলা গানের সুরস্রষ্টা এবং গণসঙ্গীতের প্রণেতা হিসেবে তিনি একজন স্মরণীয় বাঙালি। তার গুণগ্রাহীদের কাছে তিনি সলিলদা বলেই পরিচিত।

তার সঙ্গীতপ্রতিভা মূলত ভারতীয় চলচ্চিত্র শিল্পেই ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। তিনি একজন আয়োজক ছিলেন এবং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র যেমন বাঁশি, পিয়ানো, এসরাজ ইত্যাদি বাজাতে জানতেন। তার মৌলিক কবিতাগুলোর জন্য তিনি ব্যাপকভাবে নন্দিত এবং প্রশংসিত।

সলিল চৌধুরী দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার রাজপুর সোনারপুর অঞ্চলের গাজিপুরে এক হিন্দু কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জ্ঞানেন্দ্রময় চৌধুরী আসামের লতাবাড়ি চা বাগানে ডাক্তারি করতেন। বাবার কাছেই সলিল চৌধুরীর সঙ্গীত শিক্ষার হাতেখড়ি।

পিতৃব্য নিখিল চৌধুরীর কাছেও সঙ্গীতের তালিম গ্রহণ করেন তিনি। মূলত নিখিল চৌধুরীর ঐক্যবাদন দল ‘মিলন পরিষদ’-এর মাধ্যমে গানের জগতে শৈশবেই সম্পক্ত হন। তার শৈশবের অধিকাংশ সময় কেটেছে আসামের চা বাগানে। আট ভাইবোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।

দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সুভাষগ্রামে মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। হারিনাভি বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন এবং আইএসসি পাস করেন। এরপর কলকাতার বঙ্গবাসী কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।

১৯৪৪ সালে যখন তরুণ সলিল স্নাতক পড়াশোনার জন্য কলকাতায় আসেন, তখনই তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক দল ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আইপিটিএ-এ যোগ দেন। এ সময় তিনি গণসঙ্গীত লিখতে এবং সুর করতে শুরু করেন।

আইপিটিএ-এর সাংস্কৃতিক দলটি বিভিন্ন শহর এবং গ্রামগঞ্জে ভ্রমণ করতে থাকে, যা এই গানগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছাকাছি নিয়ে আসে। বিচারপতি, রানার এবং অবাক পৃথিবীর মতো গানগুলো তখন সাধারণ জনতার কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

‘গাঁয়ের বধূ’র মতো গান তখন বাংলা সঙ্গীতে একটি নতুন ধারা তৈরি করেছিল, যা মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি সুর করেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে তখনকার প্রায় প্রত্যেক প্রতিষ্ঠিত শিল্পী এসব গান গেয়েছেন। এর মধ্যে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, লতা মঙ্গেশকর, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ উল্লেখযোগ্য।

তার প্রথম বাংলা চলচ্চিত্র ‘পরিবর্তন’ মুক্তি পায় ১৯৪৯ সালে। তার ৪১টি বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বশেষটির নাম ‘মহাভারতী’ যা ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায়।

১৯৫৩ সালে বিমল রায় পরিচালিত দো ভিঘা জামিন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে সলিল চৌধুরীর হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্পে অভিষেক ঘটে। তার ছোট গল্প ‘রিকশাওয়ালা’ অবলম্বনে এটি নির্মিত হয়েছিল। এই চলচ্চিত্রটি তার কর্মজীবনে নতুন মাত্রা যোগ করে যখন এটি প্রথমে ফিল্মফেয়ার সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং কান চলচ্চিত্র উৎসবে আন্তর্জাতিক পুরস্কার জিতে নেয়।

বাংলা এবং হিন্দি চলচ্চিত্রে ২০ বছর কাজ করার পরে সলিল চৌধুরী ১৯৬৪ সালে ‘চিম্মিন’ দিয়ে মালায়লাম চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন। তিনি ৭৫টির বেশি হিন্দি, ৪০টির বেশি বাংলা, ২৬টি মালায়লাম এবং বেশ কিছু মারাঠী, তামিল, তেলেগু, কান্নাড়া, গুজরাটি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

সলিল চৌধুরী সবিতা চৌধুরীকে বিয়ে করেন এবং তাদের সংসারে দুই কন্যা এবং এক পুত্র রয়েছে।

১৯৯৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর এই গুণীর মৃত্যু হয় পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।

সলিল চৌধুরীর জনপ্রিয় বাংলা গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম, ও বাঁশি কেন গায় আমারে কাঁদায়, ও মোর ময়না গো, ওগো আর কিছু তো নয়, কেনো কিছু কথা বল না, কোনো এক গাঁয়ের বধূর কথা, না যেও না রজনি এখনও বাকি, পথ হারাব বলেই এবার পথে নেমেছি, যারে উড়ে যারে পাখি, সাত ভাই চম্পা জাগরে জাগরে, বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×