বিচিত্র

সতেজ বাতাসের দ্বীপ হেলিগোল্যান্ড

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জার্মানির দক্ষিণ সাগরের উপকূল থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে হেলিগোল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ। সেখানে কোনো যানবাহন নেই। আছে শুধু শান্তি আর সতেজ বাতাস। প্রতিদিন কমবেশি হাজার তিনেক পর্যটকের আনাগোনায় মুখর থাকে হেলিগোল্যান্ড। দ্বীপে পৌঁছতে সাগরের বুক চিরে তিন ঘণ্টার যাত্রা। জাহাজ তীরের বদলে সমুদ্রের বুকেই নোঙর করে। সেখান থেকে ওক গাছের তৈরি নৌকায় যাত্রীদের নেয়া হয় মূল দ্বীপে। এটা দ্বীপের দুইশ বছরের রীতি। নানা রঙে শোভিত বন্দরে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে রেস্তোরাঁ, দোকানপাট আর স্যুভেনির শপ।

সি ফুডের জন্য হেলিগোল্যান্ড খুবই দুর্দান্ত। লবস্টার তো আছেই, সঙ্গে পাওয়া যায় সমুদ্র থেকে তুলে আনা কাঁকড়া।

দ্বীপের উত্তর-পশ্চিমের সরু আকৃতির পাথরটি হেলিগোল্যান্ডের মাইলফলক। গোটা এলাকা জুড়ে ওড়াউড়ি করে নানা প্রজাতির পাখি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, নাৎসি বাহিনী তৈরি করেছিল পাথরের এক দুর্গ। এখন এই দুর্গটিই কেবল টিকে আছে, আর কিছু নেই। পর্যটকদের জন্য এটি উন্মুক্ত। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ বিমান বাহিনী অন্য সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করে ফেলে।

১৮২৬ সালে এই দ্বীপে সমুদ্র ঘেঁষে তৈরি করা হয় স্পা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে মানুষের আনাগোনাও ছিল বেশ। দ্বীপকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পও ছিল জমজমাট। বিশ্বযুদ্ধে সব শেষ হয়ে যায়। ১৯৫২ সালে আবারও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় জার্মানি। তারপর স্থানীয়রাও ফিরে পায় নিজভূমে ফিরে যাওয়ার অধিকার। তখন থেকেই গতিশীল হেলিগোল্যান্ডের পর্যটন। এর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর আইনের সম্পর্ক নেই। তাই পর্যটকরা শুল্কমুক্ত পণ্য যেমন কিনতে পারেন, তেমনি গুনতে হয় না মূল্য সংযোজন কর। জার্মানির কাছে ভূখণ্ডটি হস্তান্তর করা হলেও কর ছাড়ের ব্রিটিশ বিধানটি আজও আগের মতোই আছে।

এই দ্বীপপুঞ্জের ছোট্ট প্রতিবেশী ডুনে। ফেরিতে চেপে যেতে হয় সেখানে। প্রায় তিনশো বছর আগে ভয়ঙ্কর ঝড় জলোচ্ছ্বাসে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ডুনে। এখানে আছে বিমানবন্দর, ক্যাম্পসাইট, অবকাশ যাপনের বাংলো আর বেলাভূমি। গ্রীষ্মে এই দ্বীপের কদর বেড়ে যায়। উত্তর সাগরীয় ধূসর সিলের সবচেয়ে বড় আবাসভূমিও ডুনে।

শীতের সময় ডুনেতে ভিড় জমায় আলোকচিত্রীরা। ধূসর সিলের আদুরে বাচ্চাগুলো এ সময় জন্মায়। সিলের বাচ্চাগুলোর আনাগোনা বেশ মুগ্ধতা ছড়ায়। তবে কোনোভাবেই তাদের বিরক্ত করা যাবে না। এসময় ভ্রমণপিয়াসীদের নির্ধারিত দূরত্ব মেনে চলতে হয়।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×