পাহাড়ি ছাগল দিয়ে অভিনব যুদ্ধ
jugantor
বিচিত্র
পাহাড়ি ছাগল দিয়ে অভিনব যুদ্ধ

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক  

০৫ জুলাই ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সালটা ১৪৯৯। সুইজারল্যান্ডের গ্রুয়ার নামক একটি রাজ্যে ঘটল এক ব্যতিক্রম ঘটনা। গ্রুয়ার শহর আক্রমণ করল পাশের শহরের বার্নিজ উপজাতিরা। নিজের দেশ রক্ষার জন্য গ্রুয়ার রাজ্যের জনগণও ঝাঁপিয়ে পড়ল যুদ্ধে।

সব পরিবারের পুরুষই ঘর ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দিল। প্রাণপণ যুদ্ধ করেও তাদের অবরোধ কিছুতেই ভাঙতে পারছিল না গ্রুয়াররা। বার্নিজ উপজাতিরা ক্রমশ এগিয়ে আসতে লাগল তাদের দিকে।

গ্রুয়ার শহরটা ছিল একটা পাহাড়ের ওপর। আর বার্নিজদের অবস্থান ঠিক পাহাড়ের নিচে। ওখান থেকেই তারা ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ওদিকে গ্রুয়ায় প্রত্যেক বাড়িতে মেয়ে ও শিশুরা মহাচিন্তায় পড়ে গেল। রাতে শহরের সব মেয়ে একটি গোপন বৈঠক করল। কী করে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়- বৈঠকের এটাই ছিল মূল প্রতিপাদ্য। অবশেষে তারা এক মজার সিদ্ধান্ত নিল।

গ্রুয়ার রাজ্যের সবাই ছিল ছাগল পালক। তাদের আয়ের প্রধান উৎসই ছিল পশুচারণ। সবার ঘরে দশ-বিশটি করে ছাগল থাকত। মেয়েরা করল কী, সবাই মিলে হাজারখানেক ছাগল একত্র করল। পাহাড়ি ছাগল। শিংগুলোও বেশ বড় বড়। মেয়েরা প্রত্যেক ছাগলের মাথায় বড় শিংয়ের সঙ্গে দুটো করে মসাল দিল বেঁধে। এরপর গভীর রাতে মশালে আগুন ধরিয়ে সেগুলোকে ছেড়ে দিল বাইরে।

ছাগলগুলো দৌড়াতে লাগল। অনেকদিন ধরে তারা মাঠে চরতে পারে না। ছাগলগুলো ভাবল, নিশ্চয় তাদের মাঠে পাঠানো হচ্ছে। মনের খুশিতে ছাগলগুলো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে লাগল। এ দৃশ্য দেখে বার্নিজরা বেশ ভয় পেয়ে গেল। তাদের ভেতরে ছিল প্রচুর ভূতের ভয়। দূর থেকে কিছু বোঝারও উপায় নেই।

হাজার হাজার আলোকে এভাবে আসতে দেখে তারা এটাকে ভূতের আক্রমণ ভেবে বসল। তখনই ঘটল একটা বিস্ময়কর ঘটনা। শয়তান ভেবে তারা যে যার মতো দিল ভৌ দৌড়। সব্বাই পালিয়ে গেল অস্ত্রশস্ত্র সব ফেলে। সকালে গ্রুয়াররা দেখল, বার্নিজরা সব উধাও। আর তাদের ছাগলগুলো মনের আনন্দে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের শিংয়ে তখনও

মশালগুলো বাঁধা ছিল। বাড়ি ফিরে নিজেদের স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনার পুরোটা জানতে পেরে শহরজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল।

বিচিত্র

পাহাড়ি ছাগল দিয়ে অভিনব যুদ্ধ

 একদিন প্রতিদিন ডেস্ক 
০৫ জুলাই ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

সালটা ১৪৯৯। সুইজারল্যান্ডের গ্রুয়ার নামক একটি রাজ্যে ঘটল এক ব্যতিক্রম ঘটনা। গ্রুয়ার শহর আক্রমণ করল পাশের শহরের বার্নিজ উপজাতিরা। নিজের দেশ রক্ষার জন্য গ্রুয়ার রাজ্যের জনগণও ঝাঁপিয়ে পড়ল যুদ্ধে।

সব পরিবারের পুরুষই ঘর ছেড়ে যুদ্ধে যোগ দিল। প্রাণপণ যুদ্ধ করেও তাদের অবরোধ কিছুতেই ভাঙতে পারছিল না গ্রুয়াররা। বার্নিজ উপজাতিরা ক্রমশ এগিয়ে আসতে লাগল তাদের দিকে।

গ্রুয়ার শহরটা ছিল একটা পাহাড়ের ওপর। আর বার্নিজদের অবস্থান ঠিক পাহাড়ের নিচে। ওখান থেকেই তারা ধীরে ধীরে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ওদিকে গ্রুয়ায় প্রত্যেক বাড়িতে মেয়ে ও শিশুরা মহাচিন্তায় পড়ে গেল। রাতে শহরের সব মেয়ে একটি গোপন বৈঠক করল। কী করে এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়- বৈঠকের এটাই ছিল মূল প্রতিপাদ্য। অবশেষে তারা এক মজার সিদ্ধান্ত নিল।

গ্রুয়ার রাজ্যের সবাই ছিল ছাগল পালক। তাদের আয়ের প্রধান উৎসই ছিল পশুচারণ। সবার ঘরে দশ-বিশটি করে ছাগল থাকত। মেয়েরা করল কী, সবাই মিলে হাজারখানেক ছাগল একত্র করল। পাহাড়ি ছাগল। শিংগুলোও বেশ বড় বড়। মেয়েরা প্রত্যেক ছাগলের মাথায় বড় শিংয়ের সঙ্গে দুটো করে মসাল দিল বেঁধে। এরপর গভীর রাতে মশালে আগুন ধরিয়ে সেগুলোকে ছেড়ে দিল বাইরে।

ছাগলগুলো দৌড়াতে লাগল। অনেকদিন ধরে তারা মাঠে চরতে পারে না। ছাগলগুলো ভাবল, নিশ্চয় তাদের মাঠে পাঠানো হচ্ছে। মনের খুশিতে ছাগলগুলো পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নিচে নামতে লাগল। এ দৃশ্য দেখে বার্নিজরা বেশ ভয় পেয়ে গেল। তাদের ভেতরে ছিল প্রচুর ভূতের ভয়। দূর থেকে কিছু বোঝারও উপায় নেই।

হাজার হাজার আলোকে এভাবে আসতে দেখে তারা এটাকে ভূতের আক্রমণ ভেবে বসল। তখনই ঘটল একটা বিস্ময়কর ঘটনা। শয়তান ভেবে তারা যে যার মতো দিল ভৌ দৌড়। সব্বাই পালিয়ে গেল অস্ত্রশস্ত্র সব ফেলে। সকালে গ্রুয়াররা দেখল, বার্নিজরা সব উধাও। আর তাদের ছাগলগুলো মনের আনন্দে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছে। তাদের শিংয়ে তখনও

মশালগুলো বাঁধা ছিল। বাড়ি ফিরে নিজেদের স্ত্রীর কাছ থেকে ঘটনার পুরোটা জানতে পেরে শহরজুড়ে হাসির রোল পড়ে গেল।