কাজুবাদামের ফুল এবং রাজকন্যা
jugantor
পৌরাণিক গল্প
কাজুবাদামের ফুল এবং রাজকন্যা

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক  

২৮ আগস্ট ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাজুবাদাম ফুলের গল্পটা এর ফুলের মতোই সুন্দর। রূপবতী রাজকন্যা ফিলিস ছিলেন একজন থ্রিসিয়ান রাজার একমাত্র মেয়ে। আর ডেমফন ছিলেন থেসাসের পুত্র, তিনি ট্রয় থেকে থ্রিসিয়ানে এসেছিলেন বাণিজ্যের জন্য। রাজকন্যা ফিলিস প্রথম দেখাতেই সুদর্শন ডেমফনের প্রেমে পড়ে যান। আর সুদর্শন বুদ্ধিমান ডেমফনও অল্পদিনেই রাজার মন জয় করে নেন। ফলে রাজা ধুমধাম করে রাজকন্যা ফিলিসের সঙ্গে ডেমফনের বিয়ে দেন এবং তাকে অর্ধেক রাজত্ব দান করেন।

থ্রিসিয়ানে এভাবে কিছুদিন বসবাস করার পর ডেমফনের হঠাৎ জন্মভূমির কথা খুব মনে পড়তে থাকে। তিনি তখন ফিলিসের কাছে এথেন্সে যাওয়ার অনুমতি চান। ফিলিস প্রথমে রাজি না হলেও ডেমফন দ্রুতই থ্রিসিয়ানে ফিরে আসবেন এই প্রতিজ্ঞা করার পর তাকে এথেন্সে যাওয়ার অনুমতি দেন। ডেমফন এথেন্সের উদ্দেশে রওনা দেন এবং ফিলিস তাদের বিয়ের বেদিতে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। দিন যায়, মাস যায়, ফিলিস অপেক্ষা করতেই থাকেন- কিন্তু ডেমফনের আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে একসময় ভগ্নহৃদয় নিয়ে রাজকন্যা ফিলিস তার বিয়ের বেদিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফিলিসের এই গভীর ভালোবাসা দেখে দেবতারা তাকে সেখানে একটি কাজুবাদামের গাছে রূপান্তর করে দেন- এ গাছকে বলা হয় আশার প্রতীক।

এরপর একদিন অনুতপ্ত ডেমফন ভুল বুঝতে পেরে ফিলিসের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে তিনি ফিলিসকে ফুল ছাড়া, পাতা ছাড়া মৃতপ্রায় একটি গাছ রূপে খুঁজে পান। ডেমফন তখন সজল চোখে গাছটিকে জড়িয়ে ধরেন। সঙ্গে সঙ্গে গাছটি প্রাণ ফিরে পায় আর ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। এভাবেই রাজকন্যা ফিলিস তার মৃত্যুর পরও ডেমফনকে তার ভালোবাসা প্রকাশ করেন।

পৌরাণিক গল্প

কাজুবাদামের ফুল এবং রাজকন্যা

 একদিন প্রতিদিন ডেস্ক 
২৮ আগস্ট ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

কাজুবাদাম ফুলের গল্পটা এর ফুলের মতোই সুন্দর। রূপবতী রাজকন্যা ফিলিস ছিলেন একজন থ্রিসিয়ান রাজার একমাত্র মেয়ে। আর ডেমফন ছিলেন থেসাসের পুত্র, তিনি ট্রয় থেকে থ্রিসিয়ানে এসেছিলেন বাণিজ্যের জন্য। রাজকন্যা ফিলিস প্রথম দেখাতেই সুদর্শন ডেমফনের প্রেমে পড়ে যান। আর সুদর্শন বুদ্ধিমান ডেমফনও অল্পদিনেই রাজার মন জয় করে নেন। ফলে রাজা ধুমধাম করে রাজকন্যা ফিলিসের সঙ্গে ডেমফনের বিয়ে দেন এবং তাকে অর্ধেক রাজত্ব দান করেন।

থ্রিসিয়ানে এভাবে কিছুদিন বসবাস করার পর ডেমফনের হঠাৎ জন্মভূমির কথা খুব মনে পড়তে থাকে। তিনি তখন ফিলিসের কাছে এথেন্সে যাওয়ার অনুমতি চান। ফিলিস প্রথমে রাজি না হলেও ডেমফন দ্রুতই থ্রিসিয়ানে ফিরে আসবেন এই প্রতিজ্ঞা করার পর তাকে এথেন্সে যাওয়ার অনুমতি দেন। ডেমফন এথেন্সের উদ্দেশে রওনা দেন এবং ফিলিস তাদের বিয়ের বেদিতে বসে তার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। দিন যায়, মাস যায়, ফিলিস অপেক্ষা করতেই থাকেন- কিন্তু ডেমফনের আর কোনো খবর পাওয়া যায় না। এভাবে অপেক্ষা করতে করতে একসময় ভগ্নহৃদয় নিয়ে রাজকন্যা ফিলিস তার বিয়ের বেদিতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ফিলিসের এই গভীর ভালোবাসা দেখে দেবতারা তাকে সেখানে একটি কাজুবাদামের গাছে রূপান্তর করে দেন- এ গাছকে বলা হয় আশার প্রতীক।

এরপর একদিন অনুতপ্ত ডেমফন ভুল বুঝতে পেরে ফিলিসের কাছে ফিরে আসেন। কিন্তু সেখানে তিনি ফিলিসকে ফুল ছাড়া, পাতা ছাড়া মৃতপ্রায় একটি গাছ রূপে খুঁজে পান। ডেমফন তখন সজল চোখে গাছটিকে জড়িয়ে ধরেন। সঙ্গে সঙ্গে গাছটি প্রাণ ফিরে পায় আর ফুলে ফুলে ভরে ওঠে। এভাবেই রাজকন্যা ফিলিস তার মৃত্যুর পরও ডেমফনকে তার ভালোবাসা প্রকাশ করেন।