জীবনকথা

আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক

  আমান বাবু ২১ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক
আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক হিপোক্রেটিস

হিপোক্রেটিসের জন্ম ৪৬০ খ্রিস্টপূর্বে গ্রিসের ইজিয়ান সমুদ্রের কস দ্বীপে। তার জীবন সম্পর্কে খুব অল্পই জানা যায়। চিকিৎসাশাস্ত্র শেখাতেন বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে। তিনি জোর দিতেন ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্কের এবং বিভিন্ন রোগের বিভিন্ন মৌলিক তত্ত্বের ওপর।

হিপোক্রেটিসকে আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের জনক বলা হয়। রোগ নির্ণয়ের জন্য তিনি অসুখের উপসর্গ ভালোভাবে দেখতেন।

তিনি বলতেন, চিকিৎসকের উচিত রোগীকে যত্নের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করা এবং সেগুলো বিশেষত কঠিন অসুখের বেলা, লিপিবদ্ধ করা যাতে পর্যায়ক্রমে অসুখ সারানো যায়। পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করার পদ্ধতির কিছু পথও তিনি দেখিয়ে গেছেন, যেমন- রোগীর চোখ ও চামড়ার রং, দেহের তাপমাত্রা, ক্ষুধা আছে কী নেই, মলমূত্রের বিষয় ইত্যাদি।

হিপোক্রেটিস প্রতিদিন পরীক্ষা করা ও রোগীর অগ্রগতির হিসাব বা চার্ট রাখার ওপর জোর দিতেন। তিনি আরও বলতেন, বিভিন্ন রোগের ওপর আবহাওয়া, ঋতু পরিবর্তন এবং দিনে-রাতে তাপমাত্রার পরিবর্তনের বিষয়ে ডাক্তারদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

‘ক্র্যাকসন ও ডিসলোকেশন’ বইটি হিপোক্রেটিসের লেখা বলে অনুমান করা হয়। হাড়, লিগামেন্ট, পেশি ও ট্যাগুন, ব্যান্ডেজের বিষয়ে তার চিন্তা-ভাবনার আধুনিকত্ব দেখে অবাক হতে হয়। অস্ত্রোপচারের ঘর এবং তার যন্ত্রপাতি সম্পর্কেও হিপোক্রেটিস বিশদভাবে নির্দেশনা দিয়ে গেছেন।

চিকিৎসাশাস্ত্রে হিপোক্রেটিসের অবদান কতটা বৈপ্লবিক তা বোঝা যায় তার সমকালীন অবস্থার কথা বিবেচনা করলে- যখন তুকতাক, ডাকিনীমন্ত্র, ঝাড়ফুঁক ইত্যাদি মানুষ বিশ্বাস করত। এপিলেপসি রোগকে তখনকার দিনে ডাক্তাররাও ভাবতেন দুষ্ট আত্মার প্রভাব। তার লেখা ‘অন দ্য সেক্রেড ডিজিজ’ এ বিষয়ে সচেতনতা এনে দেয়।

আজও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি নেয়ার সময় যে শপথ পাঠ করতে হয় তা হিপোক্রেটিসের শিক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। তাই এ শপথ হিপোক্রেটিক শপথ নামে পরিচিত।

মূল শপথটি কালের বিবর্তনে সংক্ষিপ্ত ও পরিবর্তিত হয়ে মোটামুটি যে রূপ পেয়েছে তা এরকম- ‘আমি প্রতিজ্ঞা করছি যে, এই শপথ পালন করব। আমি রোগ নির্ণয় পদ্ধতি ব্যবস্থার কারণ নিজের সাধ্য ও বিচার-বিবেচনা অনুযায়ী অসুস্থকে সাহায্য করতে, কখনই কুকার্য করতে নয়। অনুরোধ করলেও আমি মারণকারী ওষুধ দেব না। যখনই কোনো গৃহে আমি প্রবশে করব অসুস্থকে সাহায্য করতেই যাব। পেশার কাজে যা দেখব যা শুনব, প্রকাশযোগ্য না হলে তা কখনও প্রকাশ করব না।’

আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্রের মহান জনক হিপোক্রেটিস ৩৭০ খ্রিস্টপূর্বে মৃত্যুবরণ করেন।

হিপোক্রেটিসের বচন

দুটো অভ্যাস করুন- উপকার করুন। না পারলে অন্তত অপকার করবেন না।

মানুষের জন্য সেরা ওষুধ হল- হাঁটা।

আরোগ্যলাভ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু কখনও তা সুযোগেরও বিষয়।

খাদ্যই আপনার ওষুধ এবং ওষুধই আপনার খাদ্য।

প্রকৃতিই সত্যিকার নিরাময় শক্তি।

জীবন সংক্ষিপ্ত কিন্তু শিল্প দীর্ঘস্থায়ী।

একজনের জন্য যা অমৃত অন্যের জন্য তা বিষ।

গ্রীষ্মের তুলনায় শীতকালে বেশি পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন হয়।

স্বাস্থ্যই মানুষের মূল্যবান সম্পত্তি।

ক্ষীণদেহ ব্যক্তির খাদ্যের প্রয়োজন কম, কিন্তু তা স্নেহজাতীয় হওয়া চাই। মেদবহুল ব্যক্তির খাদ্যের প্রয়োজন বেশি, কিন্তু তাতে স্নেহবস্তু কম থাকা ভালো।

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.