জীবনকথা

পদার্থবিদ্যায় প্রথম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

  আমান বাবু ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদার্থবিদ্যায় প্রথম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী

১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার দেয়া শুরু হয়। ওই বছরই পদার্থবিদ্যায় পুরস্কার পান উইলহেলম রনজেন এক্স-রশ্মি আবিষ্কারের জন্য। এক্স-রশ্মি বা রঞ্জনরশ্মি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যবিশিষ্ট এক ধরনের তাড়িত চৌম্বক বিকিরণ। রঞ্জনরশ্মির তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সাধারণ আলোর চেয়ে অনেক কম বলে দর্শন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে না।

১৮৯৫ সালে উইলহেম রনজেন এই রশ্মি আবিষ্কার করেন। তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট হয় পদার্থ ভেদ করার ক্ষমতা তত বেশি হয়।

১৮৪৫ সালে জার্মানির রাইনল্যান্ডের লেনেপ বর্তমানের রেমশিল্ড শহরে জন্মগ্রহণ করেন রনজেন। ছোটবেলায় হল্যান্ডে পড়াশোনার পর জুরিখ পলিটেকনিকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েন। সেখানে তিনি বিখ্যাত তাপগতি-তত্ত্ববিদ ক্লসিয়াস এবং শব্দবিজ্ঞানী কুনভটের সংস্পর্শে আসেন।

১৮৬৮ সালে তিনি øাতক হন এবং পরের বছরই ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন জুরিখ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। জার্মানিতে ফিরে এসে পদার্থ বিজ্ঞানে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন ভুরত বিশ্ববিদ্যালয়ে।

গবেষণায় তার প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজ হল তড়িৎ প্রবাহ নিয়ে। তিনি দেখালেন, তড়িতাধান স্থানান্তরিত করলে যে প্রবাহ হয় তা তারের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের সঙ্গে অভিন্ন। গভীর অধ্যাবসায় নিয়ে গবেষণা করতেন রনজেন। গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করতেন নিয়মিত।

১৮৯৫ সালে ক্রুকস টিউব কালো কাগজের মোটা মোড়কে আচ্ছাদিত করে গবেষণা করছিলেন রনজেন। ক্রুকস টিউব হল সম্পূর্ণ শূন্য কাঁচের টিউব যার ভেতর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহ পাঠানো যায়। বিদ্যুৎ প্রবাহ পাঠানোর পর কাছে রাখা একটি ফটোগ্রাফ-প্লেটের ওপর দেখলেন কালো প্রতিবিম্ব।

টিউব ও প্লেটের মাঝখানে রাখলেন নিজের হাত। প্লেটে হাতের হাড়ের ছবি ভেসে উঠল। তিনি সিদ্ধান্তে এলেন, একটি অদৃশ্য রশ্মির সৃষ্টি হচ্ছে। এই রশ্মি সহজেই মাংসের মধ্য দিয়ে যেতে পারে কিন্তু হাড় অথবা ধাতুতে বাধা পায়। এই অদৃশ্য রশ্মির নাম দিলেন এক্স-রশ্মি।

এই যুগান্তকারী আবিষ্কার চিকিৎসাশাস্ত্রে, বিশেষত অস্ত্রচিকিৎসায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা করল। শরীরে বিদ্ধ বুলেটের অস্তিত্ব সহজেই নির্ধারণ করা সম্ভব হল। বিকিরণ-তত্ত্ব এবং পরমাণু আকৃতি বিষয়ে নতুন আলোকপাতে সাহায্য করল। সারা বিশ্বে তিনি আদৃত হলেন। অনেকে শ্রদ্ধার সঙ্গে এক্স-রশ্মিকে বলতেন রনজেন-রশ্মি।

১৯২৩ সালে ১০ ফেব্রুয়ারি উইলহেলম রনজেন মৃত্যুবরণ করেন।

এক্স-রশ্মির ব্যবহার

* স্থানচ্যুত হাড়, হাড়ে দাগ বা ফাটল, ভেঙে যাওয়া হাড়, শরীরের ভেতরের কোনো বস্তুর বা ফুসফুসের কোনো ক্ষত, দাঁতের ক্যারিস ইত্যাদির অবস্থান নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

* সিটি স্ক্যান হল কম্পিউটারের সাহায্যে এক্স-রশ্মির মাধ্যমে গৃহীত চিত্র সমন্বয় করে ত্রিমাত্রিক বা প্রস্থছেদ চিত্র বানানোর ব্যবস্থা।

* ক্যান্সারের চিকিৎসায় রঞ্জন রশ্মি বিকিরণ ব্যবহৃত হয়।

* পরিপাক নালি দিয়ে খাদ্যবস্তুর গমনপথ অনুসরণ, আলসার নির্ণয় ইত্যাদির জন্য ব্যবহার করা হয়।

* ধাতব ঢালাইয়ের দোষ, ত্রুটিপূর্ণ ওয়েল্ডিং, ধাতব পাতের গর্ত ইত্যাদি নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়।

* কেলাস গঠন পরীক্ষায় এক্স-রে ব্যবহৃত হয় এবং স্বর্ণকাররা এর সাহায্যে আসল ও নকল গহনা চিহ্নিত করতে পারেন।

* টফি, লজেন্স ইত্যাদির মান বজায় আছে কিনা বা টফি ও লজেন্সে ক্ষতিকর কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা তা জানার জন্য ব্যবহৃত হয়।

* কাঠের বাক্স বা চামড়ার থলিতে বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখলে তা খুঁজে বের করতে ব্যবহার করা হয়।

* কাস্টম কর্মকর্তারা চোরাচালানের দ্রব্যাদি খুঁজে বের করতে ব্যবহার করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter