জীবনকথা

শতবর্ষী জীবন্ত কিংবদন্তি লেখক হারম্যান ওক

প্রকাশ : ০২ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  একদিন প্রতিদিন ডেস্ক

হারম্যান ওক আমেরিকার এক বয়োবৃদ্ধ খ্যাতিমান লেখক। বর্তমানে তার বয়স ১০২ বছর। ১৯৫১ সালে দ্য কেইনি মিউটিনি উপন্যাসের জন্য তিনি পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছেন। দ্য উইন্ডস অব ওয়্যার এবং ওয়্যার অ্যান্ড রিমেমব্রেন্স দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে তার দুটি বিখ্যাত গ্রন্থ। শতবর্ষী এই লেখকের জীবনকথা লিখেছেন সেলিম কামাল।

হারম্যান ওকের জন্ম ১৯১৫ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কে। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। তার বাবা একটি লন্ড্রি সার্ভিস শুরু করার আগ পর্যন্ত চরম দারিদ্র্য দেখে দেখে তিনি বড় হয়েছেন।

১৩ বছর বয়সে তার নানা মেন্ডেল লিব লেভিন তাদের পরিবারের সদস্য হিসেবে যোগ দেন এবং তার ইহুদিবিষয়ক পড়াশোনার খরচ চালানোর দায়িত্ব নেন। কিন্তু ইহুদি ধর্মমতের পড়াশোনা শেষ করতে যে সময় ব্যয় হবে- ওক তা দিতে নারাজ।

তার বাবা হুমকি দিয়ে বললেন, ‘আমার শ্বাসপ্রশ্বাস যতক্ষণ থাকবে, ততক্ষণ বলব- তুমি এটা পড়া ছাড়বে না।’ বাবার এ উপদেশ তিনি হৃদয়ে গেঁথে নিলেন এবং ধর্মীয় শিক্ষা চালিয়ে গেলেন। শৈশব ও কৈশোরে হাইস্কুল, ডিপ্লোমা শেষ করে তিনি ১৯ বছর বয়সে ১৯৩৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান নেভিতে যোগ দেন হারম্যান ওক। বিশ্বযুদ্ধে সাফল্যের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন তিনি। যুদ্ধকালীন অবসরেই তিনি একের পর এক লিখতে থাকেন উপন্যাস। সত্য ঘটনা অবলম্বনে রচিত তার প্রথম উপন্যাস অরোরা ডন প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে।

পরের বছরই প্রকাশিত হয় সিটি বয় : দ্য অ্যাডভেঞ্চারস অব হার্বি বুকবাইন্ডার। ১৯৫১ সালে দ্য কেইন মিউটিনি প্রকাশের পর ঔপন্যাসিক হিসেবে তার নাম ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বে। কারণ এই ফিকশন বইটিই তাকে এনে দিয়েছে বিখ্যাত পুরস্কার পুলিৎজার।

শুধু পুলিৎজারই নয়, সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি একে একে অর্জন করেন- কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডেল ফর এক্সেলেন্স, আলেক্সান্ডার হ্যামিল্টন মেডেল, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়ার বার্কেলি মেডেল, আমেরিকান একাডেমি অব অ্যাচিভমেন্ট গোল্ডেন প্লেট অ্যাওয়ার্ড, বার-ল্যান ইউনিভার্সিটি গার্ডিয়ান অব জিয়ন অ্যাওয়ার্ড, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়ার স্যান ডিয়েগো ইউসিএসডি মেডেল, জিউশ বুক কাউন্সিল লাইফটাইম লিটারেসি অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের দেয়া লাইভটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ফর দ্য রাইটিং অব ফিকশন প্রভৃতি পুরস্কার।

খ্যাতিমান এই ঔপন্যাসিকের অনেক গ্রন্থ বিশ্বের ২৭টি ভাষায় অনুবাদ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৩৭ সাল থেকে তিনি ডায়েরি লিখতে শুরু করেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত লেখা এই ডায়েরির শতাধিক কপি তিনি লাইব্রেরি অব কংগ্রেসকে উপহার হিসেবে দেন।

এই ডায়েরিগুলোতে তার লেখা প্রকাশ থেকে শুরু করে যাবতীয় তথ্য গচ্ছিত রয়েছে। তার জীবনী লেখার সুবিধার্থে ডায়েরিগুলো পরখ করা যাবে। সম্প্রতি স্ক্যানিং সার্ভিস ব্যুরো তার ডায়েরিগুলোর ডিজিটাল ফরম্যাট তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। আটটি বিশ্ববিদ্যালয় তাকে বিভিন্ন সময়ে সম্মানসূচক বিশেষ ডিগ্রি উপহার দিয়েছে।

সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে গ্রাজুয়েশন করা বেট্টি সারা ব্রাউনের সঙ্গে ওকের পরিচয় হয় ১৯৪৪ সালের শেষদিকে। তারা পরস্পরের প্রেমে পড়েন।

১৯৪৫ সালের ১০ ডিসেম্বর তারা বিয়ে করে সংসারি হন। তাদের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথমজন মারা গেছেন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। বাকিরা আছেন। তার স্ত্রী সারা ব্রাউন মারা যান ২০১১ সালের ১৭ মার্চ।

হারম্যান ওকের অন্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- দ্য ট্রেইলর, স্ল্যাটারি হারিকেইন, দ্য কেইন মিউটিনি কোর্ট মার্শাল, ইয়াং ব্লাড হক, ডোন্ট স্টপ দ্য কার্নিভাল, দ্য উইন্ডস অব ওয়ার, দ্য হোপ, দ্য গ্লোরি, দ্য হোল ইন টেক্সাস, দ্য ল’ গিভার প্রভৃতি।

ওকের লেখা নিয়ে হলিউডে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- রবার্ট অল্টম্যান পরিচালিত দ্য কেইন মিউটিনি কোর্ট মার্শাল, এডওয়ার্ড দিমিত্রিক পরিচালিত দ্য কেইন মিউটিনি, এডওয়ার্ড বাজেল পরিচালিত কনফিডেন্সিয়াল কোনি, অ্যান্ড্রি ডি টথ পরিচালিত স্ল্যাটারিজ হারিকেন প্রভৃতি।