জীবনকথা

সময়ের আলোচিত ফুটবলার নেইমার জুনিয়র

  যুগান্তর ডেস্ক ০৭ জুলাই ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সময়ের আলোচিত ফুটবলার নেইমার জুনিয়র

নেইমার দ্য সিলভা সান্তোস জুনিয়র সাধারণত নেইমার নামে পরিচিত। ব্রাজিলের এই পেশাদার ফুটবলার এবারের বিশ্বকাপে সর্বশেষ আলোচিত খেলোয়াড়। এই তারকার জীবনকথা লিখেছেন সেলিম কামাল।

নেইমার জন্মগ্রহণ করেন ব্রাজিলের সাও পাওলোতে ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯২ সালে। তার বাবা সিনিয়র নেইমার ডা সিলভা এবং মা নাদিনি দ্য সিলভা। তার বাবা একজন সাবেক ফুটবলার এবং পরবর্তী সময়ে নেইমারের পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন।

নেইমার তার প্রতিভা দেখানো শুরুর পর থেকেই তার বাবা এ দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নেইমার তার বাবার ভূমিকা সম্পর্কে বলেন, বাবা আমার পাশেই থাকেন সেই ছোটবেলা থেকেই এবং তিনি সবকিছু খেয়াল রাখেন।

তিনিই আমার সব সময়ের সঙ্গী এবং আমার পরিবারের অন্যতম একজন। ২০০৩ সালে, নেইমার তার পরিবারের সঙ্গে সাও ভিসেন্তে চলে আসেন। সেখানে তিনি যুব পর্তুগিসা সানতিস্তাতে খেলা শুরু করেন। ২০০৩-এর শেষে তারা সান্তোসে চলে আসেন।

সেখানে নেইমার সান্তোস ফুটবল ক্লাবে যোগ দেন। তিনি ব্রাজিল অনূর্ধ্ব ১৭, অনূর্ধ্ব ২০ পেরিয়ে মূল জাতীয় দলে জায়গা করে নেন। ২০০৯ সালে তিনি কম্পেনাতো পুলিস্তার শ্রেষ্ঠ যুবা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে সান্তোসের ২০১০ কম্পেনাতো পুলিস্তা জয় করেন।

তিনি ২০১০ কোপা দো ব্রাজিলে ১১ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার পান। তিনি ২০১০ সাল শেষ করেন ৬০ খেলায় ৪২ গোল করার মাধ্যমে।

১৫ বছর বয়সে তিনি স্পেনে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে যান। যে সময় ওই দলে রোনাল্ডো, জিনেদিন জিদান এবং রবিনহোর মতো বড় বড় তারাকা খেলছিলেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমে তিনি স্পেনের আরেক আলোচিত দল বার্সেলোনায় মেসি এবং সুয়ারেজের সতীর্থ হয়ে খেলার সুযোগ পান।

নেইমার বর্তমানে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে একজন ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলেন। তাকে আধুনিক বিশ্বের উদীয়মান ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম মনে করা হয়।

নেইমার ১৯ বছর বয়সে ২০১১ এবং ২০১২ সালে দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হন। ২০১১ সালে তিনি ফিফা ব্যালন ডি’অরের জন্য মনোনয়ন পান, তবে ১০ম স্থানে আসেন। ফিফা পুরস্কারও অর্জন করেন।

তিনি সর্বাধিক পরিচিত তার ত্বরণ, গতি, বল কাটানো, সম্পূর্ণতা এবং উভয় পায়ের ড্রিবলিং ক্ষমতার জন্য। তার খেলার ধরন তাকে এনে দিয়েছে অনেক প্রশংসা, সঙ্গে প্রচুর ভক্ত। কেউ কেউ তাকে সাবেক ব্রাজিলীয় ফুটবল কিংবদন্তি পেলের সঙ্গেও তুলনা করেন। পেলে নেইমার সম্পর্কে বলেন, নেইমার একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।

অন্যদিকে রোনালদিনহো বলেন, নেইমার হবে বিশ্বসেরা। ২০১৫ সালের ফিফা ব্যালন ডি অরের জন্য তিনজনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেন নেইমার। যেখানে তিনি মেসি ও রোনালদোর পরে তৃতীয় হন।

এই দুরন্ত প্রতিভাকে মূল্যায়নের সুযোগ করে দেন পেলে এবং রোমারিও। তারা সে সময়ের কোচ দুঙ্গাকে ২০১০ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে নেইমারকে রাখার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুঙ্গা তাদের চাপ উপেক্ষা করে সে স্কোয়াডে তাকে রাখেননি।

শেষমেশ ২০১০ সালের ২৬ জুলাই নেইমারকে ব্রাজিল মূল দলে ডাকা হয় নতুন কোচ মানো মেনেজেসের অধীনে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অভিষেক হওয়া রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলায় নিজের জাত চেনান নেইমার।

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ওই ম্যাচে ১১ নম্বর জার্সি পরে গোলও করেন। এরপর তাকে আর থেমে থাকতে হয়নি। ২ জুলাই ২০১৮ পর্যন্ত মূল জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে করেছেন ৫৭টি গোল।

নেইমার ২০১১ সালের আগস্টে মাত্র ১৯ বছর বয়সে শিশুর বাবা হন। শিশুর মায়ের নাম ক্যারোলিনা দান্তাস, কিন্তু নেইমারের সঙ্গে এখন তার কোনো সম্পর্ক নেই। শিশুর নাম দাভি লুকা- যে সাও পাওলোতে জন্মগ্রহণ করে।

নেইমার কিছু সময়ের জন্য ব্রাজিলিয়ান মডেল ব্রুনা মারকুইজিনের সঙ্গে সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। ২০১৫ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। কিন্তু তারা ভালো বন্ধু হিসেবে সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

নেইমার একজন খ্রিস্টধর্ম বিশ্বাসী। রিকার্ডো কাকাকে তিনি ধর্মীয় গুরু মানেন। নিজের বেতনের ১০ শতাংশ চার্চেও দান করেন নেইমার।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮

 

 

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter