ইতিহাস

একটি ছবির মর্মান্তিক গল্প

প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  সেলিম কামাল

একটি ছবির মর্মান্তিক গল্প। ছবি: সংগৃহীত

ওই সম্মেলনটাই যেন কাল হল। ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওআইসি সম্মেলন। এতে সভাপতিত্ব করেন জুলফিকার আলী ভুট্টো।

বিশ্বরাজনীতির তৎকালীন পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বিশ্বের বেশক’টি ইসলামি দেশের নেতা ওই সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছিলেন।

সেখানে উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ফিলিস্তিনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাত, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট কর্নেল মুয়াম্মার গাদ্দাফি, সৌদি আরবের বাদশা শাহ ফয়সাল ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত।

এ সম্মেলনের পরপর অল্প সময়ের মধ্যে এ নেতাদের কাউকে হত্যা করে, আর কাউকে বিচারের আওতায় এনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়।

এই ফাঁসিকেও বিশ্লেষকরা বলেছেন ‘জুডিশিয়াল মার্ডার’। এরকম ছয়জনের কথা এখানে তুলে ধরা হল। তাদের পাঁচজন ওপরের ছবিতে আছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল সৌদি বাদশাহ শাহ ফয়সালকে দিয়ে। সম্মেলনের পরের বছর ২৫ মার্চ ১৯৭৫-এর ঘটনা।

তিনি রাজপ্রাসাদে কুয়েতের প্রতিনিধি দলকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ঢুকেছিল বাদশাহর এক ভাইপো, তার নামও ফয়সাল।

বাদশাহ শাহ ফয়সাল যখন ঝুঁকে পড়ে ভাগ্নে খালেদকে চুমু খেতে যাচ্ছিলেন- তখনই ভাইপো ফয়সাল পরপর তিনটি গুলি করে তাকে, বুক, কান ও চিবুকে।

হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

এরপরই সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঘটনা।

জাতির জনকের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ কুচক্রী নেতার যোগসাজশে একদল উচ্চাকাঙ্ক্ষী সেনা কর্মকর্তা ওই দিন তার ধানমণ্ডির বাড়িটি ঘেরাও করে ভেতরে ঢোকে।

একে একে পরিবারের সবাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা জার্মানি থাকায় বেঁচে যান।

জুলফিকার আলী ভুট্টো ছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী।

জিয়াউল হকের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক দল ক্যুয়ের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৭৭ সালের ৫ জুলাই এবং এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে ১৯৭৯ সালের ৪ এপ্রিল তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মারা হয়।

১৯৮১ সালের ৬ অক্টোবর। ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিসরের সর্বশেষ যুদ্ধের বার্ষিকী উদযাপন করা হচ্ছে কায়রোতে।

সামরিক কুচকাওয়াজ পরিদর্শনের জন্য প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত। কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে শুরু হল বিমানবাহিনীর মহড়া।

আচমকা মঞ্চের কাছে বিস্ফোরিত হল দুটি গ্রেনেড। দুটি সামরিক যান থেকে একদল সৈনিক লাফিয়ে নামল এবং গুলি করতে করতে তারা মঞ্চের কাছে এলো।

মুহুর্মুহু গুলিতে ঝাঁঝরা করা হল প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাতের দেহ।

তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রয়োগ করা হয়েছিল ফিলিস্তিনি আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেতা ইয়াসির আরাফাতকে। ২০০৪ সালের ১১ নভেম্বর তিনি প্যারিসের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মুয়াম্মার গাদ্দাফিই সর্বশেষ বেঁচে ছিলেন ওই সম্মেলনের বড় নেতাদের মধ্যে।

২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের পর ২০ অক্টোবর তিনিও সির্তে মারা যান ন্যাটো বাহিনীর হামলায়। ড্রেনেজ পাইপের মধ্যে তার লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এই হামলা থেকে বাঁচতে তিনি জারিফ উপত্যকায় পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। কারও কারও মতে লিবিয়ান বিদ্রোহীদের গুলিতে তিনি মারা যান।