লা মিজারেবলের জনক ভিক্টর হুগো

  সেলিম কামাল ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভিক্টর হুগো ছিলেন ফরাসি সাহিত্যিক, রাজনীতিবিদ এবং মানবাধিকার কর্মী। তাকে উনিশ শতকের সবচেয়ে প্রভাব বিস্তারকারী রোমান্টিক লেখক বলা হয়। তার জীবনকথা লিখেছেন সেলিম কামাল

ভিক্টর হুগো ১৮০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের বেসানকনে জন্মগ্রহণ করেন। জোসেফ লিওপল্ড সিগিসবার্ট হুগো ও সোফি ট্রেবাচেট দম্পতির সন্তান ভিক্টর। বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কাটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে- যা পরবর্তী সময়ে তার সাহিত্যে ফুটে ওঠে। ভিক্টর হুগো ছিলেন মা-বাবার তৃতীয় ছেলে। সম্রাট নেপোলিয়ানের শাসনামলে তার বাবা ছিলেন সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

রোমান্টিসিজম সাহিত্যিক ধারার অগ্রপথিক চ্যাটুব্রায়েন্ডের বিশেষ প্রভাব পড়েছিল ভিক্টরের লেখনীতে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই তার প্রতিজ্ঞা ছিল চ্যাটুব্রায়েন্ডের মতো লেখালেখির দক্ষতা অর্জন করার। রিপাবলিকানিজমের সমর্থক হিসেবে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি এবং একই কারণে নির্বাসনেও যেতে হয়। সংসদ সদস্য হয়েছেন একাধিকবার। অন্যদিকে ধর্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত ছিলেন সারা জীবন। শেষদিকে নিজেকে পরিচয় দিতেন মুক্ত চিন্তাশীল হিসেবে। সঙ্গীতের বিভিন্ন শাখায় ছিল তার অপূর্ব দক্ষতা। সঙ্গীত নিয়ে তার বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ রচনা রয়েছে। চিত্রকর ও চিত্র সমালোচক হিসেবেও ছিলেন সমান পারদর্শী।

‘ওডেস এট পয়েসিস ডাইভারসেস’ নামে তার প্রথম কবিতা সঙ্কলন প্রকাশিত হয় ১৮২২। এ গ্রন্থের জন্য রাজা অষ্টাদশ লুইয়ের ভাতা পেতেন তিনি। ১৮২৩ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘দ্য হ্যান্ড আইল্যান্ড’। ১৮২৯ থেকে ১৮৪০ সালের মধ্যেই তার পাঁচটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ‘লা অরিয়েন্টালিস’ ও ‘লা ভক্স ইন্টেরিয়রস’ তৎকালীন ইউরোপের কাব্য জগতে আলোড়ন তোলে। ১৮২৬ সালে প্রকাশিত হয় ‘ওড টু ব্যালাডস’ নামের কাব্যগ্রন্থ। ১৮২৯ সালে রচনা করেন উপন্যাস ‘দি লাস্ট ডে অব এ কন্ডেমড ম্যান’। ১৮৩০ সালে লিখেন সাড়া জাগানো উপন্যাস ‘হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম’। এরপর লিখেন বিশ্ব সাহিত্যের অন্যতম ক্ল্যাসিক উপন্যাস ‘লা মিজারেবল’। ১৮৬২ সালে প্রকাশিত হয় বইটি। তখন এটি নিয়ে হইচই পড়ে যায়। এ প্রসঙ্গে নানা সমালোচনা এবং নানা খবর পত্রপত্রিকায় আসে। কিন্তু সেখান থেকে ভিক্টর হুগো বুঝতে পারলেন না বইটি বিক্রি হচ্ছে কেমন। অবশেষে তিনি এর উত্তর জানার জন্য প্রকাশককে খুব সংক্ষেপে একটা চিঠি পাঠালেন শুধু ‘?’ লিখে। প্রকাশক ‘?’ এর মানে বুঝতে পারলেন এবং জবাব দিলেন ‘!’। এটাই ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট চিঠি আর তার উত্তর। উপন্যাসের নায়ক জা ভালজাকে কেন্দ্র করে বেড়ে ওঠে গল্পটি, যা ছিল এক বিবর্তনধর্মী চরিত্র এবং বিশ্বসাহিত্যে বিরল। এটা কোনো সাধারণ উপন্যাস নয়। জীবনের জয়-পরাজয়, উত্থান-পতন, সুখ-দুঃখ, আশা-আকাক্সক্ষা, অভিলাষ সংবলিত এক মহা অধ্যায়।

অন্যান্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে টয়লার্স অব দ্য সি ও দ্য ম্যান হু লাফস। এছাড়া রাই ব্লাস, হারমানি, ক্রমওয়েল ও নেপোলিয়ন লা পেতিতসহ আরও কিছু কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। সাহিত্য সমালোচনা লিখেছেন ফিলোসফি অব লিটারেচার।

খুব অল্প বয়সেই ভিক্টর হুগো প্রেমে পড়েন এডেলি ফাউচারের। ভিক্টরের মায়ের এ সম্পর্ক নিয়ে মন খারাপ থাকলেও তারা পিছপা হননি। এমনকি তারা গোপনেই ঘর বাঁধেন। ১৮২৩ সালে তাদের প্রথম সন্তান লিওপল্ডের জন্ম হয় এবং পরপরই মারা যায়। এরপর তারা আরও ৪ সন্তানের বাবা-মা হন।

হুগোর জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক ঘটনা তার মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর মৃত্যু। ১৮৪৩ সালে বিয়ের পরপরই হানিমুনে বেরিয়েছিল লিওপল্ডাইন ও তার বর। স্কার্টে পা জড়িয়ে নৌকা থেকে লিওপল্ডাইন পড়ে গেলে তার স্বামী তাকে বাঁচানোর জন্য পানিতে লাফিয়ে পড়েন। দুজনই সেখানে মারা যান। এসময় হুগো তার স্ত্রীকে নিয়ে ভ্রমণে ছিলেন দক্ষিণ ফ্রান্সে। সেখানে একটি ক্যাফেতে পত্রিকা পড়ে এ খবর জানতে পারেন।

হুগোর বেশ ক’টি বইয়ের বাংলা অনুবাদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে- লা মিজারেবল, হাঞ্চব্যাক অব নটরডেম, দ্য ম্যান হু লাফস ও নাইন্টি থ্রি।

১৮৮৫ সালের ২২ মে ভিক্টর হুগো প্যারিসে মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter