চিত্রবিচিত্র

বিচিত্র তিন গুহা

প্রকৃতির সৌন্দর্যের ভাণ্ডার অফুরন্ত। জলে-স্থলে রয়েছে বহু অদেখা বস্তু। ভূমির অতল গহ্বরে রয়েছে বহু গুহা। এর কোনোটা প্রাকৃতিক, কোনোটা কৃত্রিম। বৈশিষ্ট্যে আবার প্রত্যেকটি স্বতন্ত্র। বিশ্বের এমন তিনটি বিচিত্র গুহা সম্পর্কে লিখেছেন সালমান রিয়াজ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

* অতিকায় ম্যামথ গুহা

‘সবচেয়ে বড় অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অদ্ভুত এক জায়গা’ -প্রায় ১৮০ বছর আগে ম্যামথ গুহা সম্পর্কে স্টিফেন বিশপের মন্তব্য ছিল এমনই। তিনি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গুহা অনুসন্ধানী ও ম্যামথ গুহার একজন গাইড। প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বিলুপ্ত বরফ যুগের ম্যামথ প্রাণীর নামে এ গুহার নামকরণ। কারণ গুহাটির বিশালতা। চুনাপাথরের এ গুহাটির অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি রাজ্যে। ভূতত্ত্ববিদদের ধারণা, প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগে এই বিস্ময়কর গুহা সৃষ্টি হয়। গুহাটির বর্তমান দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৪৩ কিলোমিটার, যা এখনও ক্রমবর্ধমান।

* বরফের দুনিয়া

লংজোকুল আয়তনে আইসল্যান্ডের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ হিমবাহ। প্রায় ৯৫০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ হিমবাহের একটি অংশে গড়ে তোলা হয়েছে বরফের গুহা। ২০১০ সালে ইনটু দ্য গ্লেসিয়ার নামে আইসল্যান্ডের একটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ব্যবসায়ী গুহাটি তৈরির উদ্যোগ নেন। প্রায় ৫০০ মিটার দৈর্ঘ্যরে কৃত্রিম গুহাটি তৈরিতে সময় লেগেছে চার বছর। গত বছরের শেষ দিকে পর্যটকদের জন্য সেটি উন্মুক্ত করা হয়। গুহায় তীক্ষ্ণ ফলার মতো ঝুলে থাকা বরফ পেরিয়ে সামনে এগোতে এগোতে রোমাঞ্চের স্বাদ নেয়া যায়। এটিই বিশ্বের বৃহত্তম কৃত্রিম বরফ গুহা।

* জিপসামের গোলকধাঁধা

পাথুরে গুহায় মার্বেল, চুনাপাথর, জিপসাম এমন বিভিন্ন খনিজ উপাদানের মিশ্রণ থাকে। কিন্তু ইউক্রেনের অপটিমিস্টিক গুহার কথা আলাদা। ২৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে গুহাটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় জিপসাম গুহা। খনিজ পদার্থের আস্তরণের ফাঁকা অংশ নিয়েই তৈরি হয়েছে গুহাটি। ১৯৬৬ সালে গুহাটির সন্ধান মেলে। ধীরে ধীরে মানুষের ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়। গুহার ৭টি প্রবেশপথ রয়েছে পর্যটকদের জন্য। বছরজুড়ে গুহার ভেতরের তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।