পুরীর সোনালি সৈকত মন ভরিয়ে দিল

সমুদ্রসৈকত তো নয় যেন সোনা বিছানো প্রান্তর। অন্যান্য সমুদ্রসৈকত আর পুরীর পার্থক্য এখানেই। পুরীর উত্তাল সোনালি সৈকত যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। জগন্নাথ মন্দিরের জন্য পুরী বিখ্যাত। এটি হিন্দুদের তীর্থক্ষেত্র

  আবু আফজাল মোহাম্মদ সালেহ ২০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমুদ্রতট

বাঙালির চিরকালীন নস্টালজিয়া রয়েছে পুরীকে ঘিরে। ইতিহাসেও বহু প্রাচীনকাল থেকেই পুরী বা পুরুষোত্তম ক্ষেত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়।

ওড়িশার এ একান্ত বাঙালিপ্রবণ শহরটির মূল আকর্ষণ দীর্ঘ সমুদ্রতট আর জগন্নাথ দেবের মন্দির। পুরীর বিচগুলিতে স্বর্গদ্বারের প্রশান্তিই সবচেয়ে বেশি। পুরীতে সমুদ্র স্নান করার চল থাকলেও সমুদ্র অনেক সময়ই বেশ বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই সাবধানতা নেয়া উচিত। বেড়ানোর সেরা সময় অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি। তবে সারা বছরই ভিড় লেগে থাকে এখানে।

ভারতের হিন্দুদের চারধাম অর্থাৎ বদরীনাথ, দ্বারকা, রামেশ্বরম এবং পুরী। পুরাণের কথায়, শ্রীজগন্নাথ বদরীতে স্নান করে দ্বারকায় অঙ্গসজ্জা করেন। তারপর পুরীতে অন্নভোগ সেরে রামেশ্বরমে শয়ান বা বিশ্রাম নেন।

বাংলা-উড়িষ্যা-বিহার। শেষ নবাব ছিলেন সিরাজ-উদ-দ্দৌলা। বলার কারণ হচ্ছে পশ্চিমবাংলার প্রতিবেশী হচ্ছে উড়িষ্যা রাজ্য। স্বপ্নের সমুদ্র সৈকত ‘পুরী’ এখানেই অবস্থিত। সমুদ্র সৈকত তো নয় যেন সোনা বিছানো প্রান্তর। অন্যান্য সমুদ্র সৈকত আর পুরীর পার্থক্য এখানেই।

আমাদের গর্বের ধন অপরূপ কক্সবাজার সৈকতের মতই পুরীর উত্তাল সোনালী সৈকতও যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। জগন্নাথ মন্দিরের জন্য এ পুরী বিখ্যাত। এটি হিন্দুদের তীর্থক্ষেত্র। শ্রী জগন্নাথ মন্দির। সারা ভারতবর্ষের লোক প্রায় প্রতিদিনই আসে এ মন্দির দর্শনে। ফাও হিসাবে পায় দর্শনীয় গোল্ডেন ‘সি বিচ’-পুরী। পুণ্যস্নান করে অনেক ধর্মপ্রাণ হিন্দু। বলে রাখা ভালো উড়িষ্যা রাজ্যকে বলা হয় মন্দিরের রাজ্য। অলি-গলি, রাস্তায় নয়নাভিরাম মন্দির।

কলকাতা/হাওড়া দিয়ে যখন ভুবেনেশ্বর, গোপালপুর দিয়ে যাবেন একথাটির সত্যতা খুঁজে পাবেন। ট্রেনে হাওড়া থেকে পুরী যাত্রা খুবই আরামদায়ক। কলকাতার ধর্মতলা থেকে বিভিন্ন রাজ্যের বাস পাওয়া যায়। ট্রেনের মতো স্লিপিং (ঘুমানোর ব্যবস্থা) সিটের ব্যবস্থা আছে।

নিচে সিটের যাত্রী আর মাথার ওপর ঘুমানোর ব্যবস্থা রয়েছে। দারুণ অভিজ্ঞতা! এসি-ননএসি সব বাসই পাবেন। ভারতের অনেক রেল স্টেশনই দেখতে সুন্দর। পুরী যেতে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম প্লাটফরম দেখতে পারবেন! পরিচ্ছন্ন খড়গপুর স্টেশন। কেরালা, গোয়া, উড়িষ্যা যেতে হলে এ স্টেশন দিয়েই যেতে হবে আপনাকে। পুরী রেল স্টেশনটিও অনেক সুন্দর।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে পুরীর চারপাশে অনেক দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান রয়েছে। পুরীতে অবস্থান করে দিনে দিনে চাদিপুর সৈকত, চিলকা হ্রদ, সূর্য মন্দিরের শহর কোণার্ক (বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়া মন্দির) এবং নিরিবিলি গোপালপুর সৈকত দেখতে পারবেন। আষাঢ় মাসের শেষের দিকে ‘রথযাত্রা হয়’। সৌভাগ্য আমার কয়েক বছর আগে আমি যখন পুরীতে গিয়েছিলাম তখন রথযাত্রার সময় ছিল। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না তখন, রাস্তাঘাট স্টেশন কিংবা হোটেলে সর্বত্র লোক গমগম করছে।

যাওয়ার পথ বাতলে দিচ্ছি হাওড়া, শিয়ালদহ এবং সাঁতরাগাছি থেকে ট্রেন রয়েছে পুরী যাওয়ার। হাওড়া থেকে বেশ কিছু ট্রেন ছাড়ে। রাতের ট্রেনে গেলে থাকার ঝামেলা একদিন কমে যাবে, কিন্তু আরামদায়ক হবে। টিকিট আগেই কাটতে হবে।

একটু বেশি ভাড়া দিয়ে দুদিন আগে আসনওয়ালা টিকিট পাওয়া যাবে। আর কলকাতার ফেয়ারলি থেকে বিদেশিদের জন্য সংরক্ষতি টিকিট পাওয়া যায়। টিকিট পাওয়া না গেলে পাসপোর্ট দেখিয়ে টিকিট পাওয়া যায়। স্লিপার, এসি, নরমাল, চেয়ার প্রভৃতি শ্রেণীভেদে ভাড়া বিভিন্ন রকম হয়। উচ্চ শ্রেণীর টিকিটের সঙ্গে নাস্তা ও খাবারের চার্জও ধরা হয়ে থাকে।

পুরীর হোটেল বুক কলকাতা থেকেই এজেন্টের মাধ্যমে করে নিলে ভালো হয়। টিকিটের ব্যবস্থাও এরা করে দেয়। স্টেশনের আশপাশেই ট্যুরিস্ট এজেন্ট পাবেন। যে হোটেল বুক করেছেন, তাদের পিকআপের ব্যবস্থা রয়েছে কিনা আগেভাগেই জেনে নেবেন।

সৈকত ঘিরে ও আশপাশে ঘুরে ঘুরে অনেক হোটেলই পাবেন। যদি আগেই বুকিং না করে থাকেন তাহলে পছন্দমতো হোটেল থাকা-খাওয়ার জন্য অনায়াসেই বেছে নিতে পারবেন।

এখানে নানা ধরনের ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা রয়েছে। নিজের মতো করে চাঁদোয়া খাটিয়ে নিন। কেউ ভিড় করবে না। বিচে সময় কাটিয়ে, পরের দিন রাখুন সাইট দেখার জন্য। এজেন্টদের সঙ্গে মোটামুটি দরদাম করলে যে কোনও চিল্কা, কোণার্ক ঘুরিয়ে আনবে হাজার দুয়েক টাকার (রুপি) মধ্যেই।

লেখক : উপপরিচালক (বিআরডিবি) লালমনিরহাট

[email protected]

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
×