গ্রিসের ওয়াই পাহাড়ে

  জিনাত সুলতানা ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওয়াই পাহাড়
মনোমুগ্ধকর ওয়াই পাহাড় দেখতে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসেন গ্রিসে

আবারও ঘণ্টাখানেক সাগর পাড়ি দিয়ে জাহাজ আমাদের নামিয়ে দিল ছোট্ট একটা জেটিতে। ওই উপরে, ১০০০ ফুট উঁচুতে ওয়াই, ওখান থেকে আমাদের আজকের সূর্যাস্ত দেখার কথা।

সে তো হবে কিন্তু উঠব কীভাবে? ধাপে ধাপে উঁচু সিঁড়ি উঠে গিয়েছে উপরে, পাহাড়ের খাঁজে খাঁজে বাড়ি, হোটেল, মোটেল। কিন্তু সারা দিনের অ্যাডভেঞ্চার শেষে খাড়া পথে এত উপরে ওঠার মতো মনের জোর আর আমাদের নেই। অবশ্য একটু সামনে যেতেই উপায় পাওয়া গেল। গাধার পিঠে চড়ে অনেকেই যাচ্ছে উপরে।

৫ ইউরো করে টিকিট কেটে আমি এক গাধায়, বুলবুল আর রূপকথা আর এক গাধায় সওয়ার হলাম। তারপরই বুঝলাম- সাধ করে কি ভয়ঙ্কর কাজই না করে ফেলেছি আমরা। গাধাগুলো বিশাল বড়সড়।

আমাদের দেশের সাধারণ ঘোড়ার থেকেও বড়। আর তাদের আচার-আচরণও মোটেও গাধাসুলভ নয়। একপাশে সুউচ্চ পাহাড়, অন্যপাশে অতলান্ত খাদ, সঙ্গে সুনীল সাগর।

পাহাড়ের খাঁজে নিচু নিচু সাদা ঘরবাড়ি। দরজা-জানালা সব নীল। এর মধ্যে লম্বা খাড়া সিঁড়ি বেয়ে গাধাগুলো প্রতিযোগিতা করে একে অন্যকে ধাক্কা মেরে লাফিয়ে লাফিয়ে উঠছে উপরে। পা হড়কালে বা হাত থেকে লাগাম ছুটে গেলে যেখানে গিয়ে পড়ব হাড়গোড়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না আর। ভীষণ ভয়ে বুক কাঁপছে। কিন্তু চোখ সরাতে পারছি না সুতীব্র সুন্দর চারপাশ থেকে।

আল্লাহর অশেষ রহমতে নিরাপদেই পৌঁছালাম ওয়াই। তবে হ্যাঁ, প্রতিজ্ঞা করেছি জীবনে গাধার পিঠে পর্বতারোহণ আর কখনও নয়।

ওয়াই যেন হাতে আঁকা এক ছবি। মোটামুটিভাবে সব দালানকোঠা এক রকম। মূল কাঠামো সাদা, দরজা-জানালা নীল। প্রতিটা বাড়ি বেয়ে উঠেছে বাগান বিলাস বা লতানো কোনো গাছ।

চিকন চিকন পায়ে চলার পথগুলো অতি মনোরম। নানা দেশের নানা বর্ণের হাজারও মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে সে পথে। পুরো ওয়াই শহর-তার ঘরবাড়ি, দোকানপাট, পথঘাট, মানুষজন সবকিছুই অদ্ভুত সুন্দর। ভুল হয়, ভ্যানগগ বা মাইকেল এঞ্জেলোর হাতে আঁকা কোনো ছবির জীবন্ত রূপ বুঝি এটি।

ওয়াই-র সূর্যাস্তের দৃশ্য অতি বিখ্যাত। নানা দেশের হাজারও পর্যটক ভিড় করে এখানে, তা দেখার জন্য। তাদের সঙ্গে পা মিলিয়ে আমরাও গিয়ে দাঁড়াই একটি সানসেট পয়েন্টে। দুপুরের সেই গরম আর নেই।

এজিয়ান থেকে বয়ে আসা শীতল বাতাস আমাদের গায়ে বুলিয়ে দিচ্ছে মধুর পরশ। উজ্জ্বল কমলা রঙের সূর্য সাগরের দিকে নামতে নামতে রং বদলে হয়ে গেল গোলাপি। ম্যাজিকের মতো গোলাপিও ক্রমশ বদলে হয়ে গেল বেগুনি।

আর সূর্যের সে বেগুনি রং ছড়িয়ে গেল পুরো আকাশে, বাতাসে, প্রকৃতিতে। অদ্ভুত, অপার্থিব, সুন্দর বেগুনি আলোয় দাঁড়িয়ে মোহাবিষ্টের মতো তাকিয়ে আছি সূর্যের দিকে। আমাদের মুগ্ধ চোখের সামনে দিয়ে নিমিষেই বেগুনি রং সে সূর্য টুপ করে ডুবে গেল এজিয়ানের বুকে।

এরপর একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে আমাদেরও পেরিসাতে লজে ফেরা। সান্তরিনীতে পরের দিনটিও আমাদের কেটেছিল নানা রকম চমকপ্রদ অভিজ্ঞতায়। তারপর সাগরপথে যাত্রা নতুন একটি আইল্যান্ড মিকোনাসের দিকে। মুগ্ধতা আর ভালো লাগায় মোড়ানো সেসব দিনের আরও অনেক গল্প না হয় হবে পরে কখনও।

লেখক : ভ্রমণ পিপাসু

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×