দেশে দেশে উদযাপিত হল মাতৃভাষা দিবস

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পর্তুগাল

পর্তুগালের দ্বিতীয় বৃহত্তম সরকারি বিদ্যাপীঠ পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের রিক্টোরি হলে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগ। পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সহকারী, অধ্যাপক জোয়াও ভেলোসো আয়োজিত অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন। বাংলা ভাষা থেকে অনূদিত বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জনপ্রিয় কবিতাগুচ্ছ আবৃত্তি করেন অধ্যাপক জোয়াও ভেলোসো। এছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তো থেকে কবি আহমেদ মুর্শিদ উদ্দিন বাংলা ভাষার জনপ্রিয় কবিতাগুচ্ছ এবং ভাষা দিবস নিয়ে তার নিজের লেখা একটি কবিতা পড়ে শোনান।

আধুনিক বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান কবি প্রয়াত আল মাহমুদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ভাষা আন্দোলন নিয়ে আল মাহমুদের লেখা একুশের কবিতা আবৃত্তি করেন নাঈম হাসান পাভেল। পরে পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগের অধ্যাপক সোনিয়া রদ্রিগেজ এবং ফাতিমা সিলভা মাতৃভাষা দিবস নিয়ে প্রজেক্টরের মাধ্যমে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মাতৃভাষা ও ইতিহাস নিয়ে তাদের ভিন্ন ভিন্ন গবেষণা উপস্থাপন করেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সভাপতি শাহ আলম কাজল। দিবসটি উদযাপন করার উদ্যোগ নেয়ায় তিনি পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগকে ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্তুগিজ অংশগ্রহণকারী ছাড়াও বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পোর্তোর সদস্যরা ছিলেন।

উল্লেখ্য, পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সহকারী অধ্যাপক জোয়াও ভেলোসো দিবসটি পালনের পরিকল্পনা করেন এবং প্রথমবারের মতো পর্তুগালের কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পালিত হল অমর একুশে মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

নাঈম হাসান পাভেল, পোর্তো বিশ্ববিদ্যালয়, পর্তুগাল থেকে

জার্মানি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত একটি শহর ড্রেসডেন। ১৯৪৫ সালের ১৩-১৫ ফেব্রুয়ারি ইঙ্গ-মার্কিন পক্ষের শক্তি এ শহরকে ধ্বংসের জন্য ফেলেছিল ৭৭৩টির বেশি বোমা। সেই বোমা হামলায় কেড়ে নিয়েছিল ২৫ হাজারেরও বেশি তাজা প্রাণ। পুরো জার্মানিজুড়ে রক্ষণশীল ও কট্টরপন্থীদের জন্যও এ শহরের আছে বেশ নাম ডাক। আর এ শহরেই স্থানীয় একটি মিলনায়তনে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ১৮টি মাতৃভাষার সম্মিলনে প্রথমবারের মতো পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করা হল ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের সৈনিকদের। অনুষ্ঠানে ছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নিয়ে আলোচনা, ৫২ এর ভাষা শহীদ ও সৈনিকদের উদ্দেশ্যে নির্মিত অস্থায়ী বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, শিশুদের নিয়ে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও বিভিন্ন দেশের শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ সময় আয়োজকদের মধ্যে ড. শাহিনুর রহমান ও ড. মাহমুদ হোসেইন বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস ও বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় সমৃদ্ধ সংস্কৃতিকে ড্রেসডেনের গণমানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই আমাদের এ আয়োজন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন প্রফে. ড. জিনাহসহ আরও অনেকে। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ইঞ্জি. সাজ্জাদ, আমান, নিরব, শান্ত, আনিস ও রহমানসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন সৌরভ সরকার, অমৃতা মান্না ঘোষ, জাফরিন রহমান, সানিউজ্জামান শুভ, রামায়নাসহ বিভিন্ন দেশের শিল্পীরা।

বিটু বড়ুয়া, ড্রেসডেন, জার্মানি থেকে

ডেনমার্ক

যথাযথ মর্যাদা দিয়ে ডেনমার্কের রাজধানী কোপেনহেগেনে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দোয়া, মোনাজাত এবং আলোচনা সভার মাধ্যমে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা বাবু সুভাষ ঘোষের সভাপতিত্বে ও ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় সর্বপ্রথমে ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে শহীদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ঢাকা চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের জন্য বিশেষভাবে শোক জানিয়ে দোয়া করা হয় এবং আহতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। বক্তারা বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করার দাবি জানান। প্রবাসে বাঙালি নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষার গুরুত্ব ও ভাষার জন্য যুদ্ধ কীভাবে এবং কেন হয়েছিল তা তুলে ধরতে সব মাতা-পিতার প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়। ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সস্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, একটি জাতি কত উন্নত তা বোঝা যায় তার ভাষা থেকে। তিনি আরও বলেন, বাহান্ন ও একাত্তর আমাদের জাতির পরিচয়, চেতনা ও অস্তিত্ব। আর এ পরিচয় আমরা পেয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য যিনি ভাষা আন্দোলনসহ সুদীর্ঘ স্বাধীনতা-সংগ্রামের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন; যার জন্ম না হলে বাংলাদেশ হতো না। তাই বাংলাদেশ মানে বঙ্গবন্ধু আর বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ। আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চু, উপদেষ্টা হাসনাত রুবেল, জাহিদুল ইসলাম কামরুল। সহ-সভাপতি খোকন মজুমদার, নাসির উদ্দিন সরকার, মোহাম্মদ ইসমাইল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাঈম উদ্দিন , নুরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, বেলাল হোসেন রুমী, সাংগঠনিক সস্পাদক সরদার সাইদুর রহমান, শামীম খালাসী, মোহাম্মদ সেলিম, সারিং সেলিম, মোহাম্মদ সোহাগ উপস্থিত ছিলেন কার্ষকারী কমিটির- অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম খোকন, দফতর সস্পাদক জাহিদুল ইসলাম মামুন, ইব্রাহীম তুহিন খাঁন, জিল্লুর রহমান, আনোয়ার হোসেন পলাশ, শিপন মোহাম্মাদ, সাইফুল ইসলাম সাইফ, শরীফুল ইসলাম, গোলাম রাব্বী, সামছু উদ্দিন, মুক্তিযাদ্ধাবিষয়ক সস্পাদক আজাদুর রহমান, সদস্য তাজবীর আহম্মেদ, আরিফুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন, রাসেল মাতবার, এরশাদ মিয়া, নিজাম উদ্দিন, সোহেল খাঁন, পরিতোষ সাহা ,অনু মিয়া, সফিকুর রহমান, আবু সোহাব, কামরুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন, মামুন রশীদ, সাহেরা জেসমিন, আলম চৌধুরী, পারভিন আরা, খলিলুর রহমান, গোলাম শামীমসহ উপস্থিত ছিলেন ডেনমার্ক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন ও সাধারণ সস্পাদক রনি আলম। সন্ধ্যাকালীন খাবার পরিবেশন করে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

ডেনমার্ক থেকে

আমিরাত

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন ও পুরান ঢাকার চকবাজার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং শোকসভা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার সংগঠন মিরসরাই ইয়ুথ ফোরাম।

আরব আমিরাতের আল আইন হাফিজ মুবাজারা পার্কে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি আরশাদ নূরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ হাফেজ উল্লাহ ও এমরান হক। শুরুতে ভাষাশহীদ ও চকবাজার ট্র্যাজেডিতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলা ভাষাভাষীদের পদচারণায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও আপন মহিমায় স্থান করে নিচ্ছে বাংলা ভাষা। চকবাজার ট্র্যাজেডি প্রসঙ্গে বক্তারা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ অনুরোধ করছি, আর যেন এমন ঘটনা না ঘটে। সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের প্রতিটি শহরে এমনকি গ্রাম পর্যায়েও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন করা হোক। অগ্নিকাণ্ড রোধে পূর্ব থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। যাতে করে মানুষ সুন্দর ও সুস্থভাবে নিরাপদে জীবনযাপন করতে পারে। এ সময় অন্যান্যের সঙ্গে বক্তব্য দেন সালাউদ্দিন, নুরুল ইসলাম প্রমুখ। পরে দেশ, জাতি ও নিহতদের স্মরণে দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

জাহাঙ্গীর আলম শামীম, আমিরাত থেকে

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×