চিলকা থেকে পুরী : নীল পানি আর কত কিছু

  আবু আফজাল সালেহ ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চিলকা থেকে পুরী

উড়িষ্যাকে বলা হয় মন্দিরের প্রদেশ। শুধু রাজধানী ভুবেনশ্বর ও আশপাশেই প্রায় ৭০০ মন্দির রয়েছে। যেতে যেতে নান্দনিক ও মনোরম স্থাপত্যের মন্দিরগুলো চোখ জুড়িয়ে দেবেই। এ রাজ্যের জগন্নাথ মন্দির হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে পূজনীয় মন্দির। হাজার হাজার লোক আসে এখানে প্রতিদিন।

আর বর্ষাকালের রথযাত্রায় লাখ লাখ লোকসমাগম হয় পুরীতে। মায়াবী কিছু সমুদ্রতট আছে এ রাজ্যে। পুরীর সোনালি সৈকত মন কাড়বেই। আর কোণার্কের সূর্যমন্দির, বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ চিলিকাসহ বেশকিছু দর্শনীয়-ধর্মীয় স্থান পুরীর আশপাশেই রয়েছে।

পুরী থেকেই আপনার মতো করে বা বিভিন্ন এজেন্টের প্যাকেজ ট্যুরে যেতে পারবেন অতিসহজ, কম খরচ আর অপেক্ষাকৃত অল্প সময়ে। আবার রাতে পুরীতেই অবস্থান করতে পারবেন। তাই উড়িষ্যা ভ্রমণের লক্ষ্যমাত্রাটা হোক পুরী। যাতায়াত বা থাকা-খাওয়া পুরীকেই কেন্দ্র করলাম। রাজধানী ভুবেনশ্বর থেকে মাত্র ৬০ কিলোমিটার দূরের পথ জেলাশহর পুরী।

পুরী : ভারতের অনেক রেলস্টেশনই দেখতে সুন্দর। পুরী যেতে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘতম প্লাটফর্ম দেখতে পারবেন। পরিচ্ছন্ন খড়গপুর স্টেশন। কেরালা, গোয়া, উড়িষ্যা যেতে হলে এ স্টেশন দিয়েই যেতে হবে। পুরী রেলস্টেশনটিও বেশ দেখতে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- পুরীর চারপাশে অনেক দর্শনীয় ও পবিত্র স্থান আছে।

পুরীতে অবস্থান করে দিনে দিনে চাদিপুর সৈকত, চিলকা হ্রদ, সূর্য মন্দিরের শহর কোণার্ক (বিশ্ব ঐতিহ্যে স্থান পাওয়া মন্দির) এবং নিরিবিলি গোপালপুর সৈকত দেখতে পারবেন। আষাঢ় মাসের শেষের দিকে ‘রথযাত্রা’ হয়। সৌভাগ্য আমার, কয়েক বছর আগে আমি যখন পুরীতে গিয়েছিলাম তখন রথযাত্রার সময় ছিল। তিল ধারণের ঠাঁই থাকে না তখন রাস্তাঘাট, স্টেশন কিংবা হোটেলে।

পুরী মানেই উত্তাল সমুদ্র, নীল পানি আর সোনালি সি বিচ। পুরী মানেই জিভে গজা। পুরী মানেই ক্ষীর। পুরী মানেই জগন্নাথ মন্দির, জগন্নাথ দেব দর্শন। পশ্চিমবাংলার প্রতিবেশী হচ্ছে উড়িষ্যা। স্বপ্নের সমুদ্রসৈকত ‘পুরী’ এখানেই। সমুদ্রসৈকত তো নয়, যেন সোনা বিছানো ভূমি। অন্যান্য সমুদ্রসৈকত আর পুরীর পার্থক্য এখানেই। পুরীর উত্তাল সোনালি সৈকত যে কাউকেই মুগ্ধ করবে।

পুরীর মন্দিরের চূড়ায় যে পতাকাটি লাগানো রয়েছে তা সবসময় হাওয়ার বিপরীত দিকে ওড়ে। অন্যদিকে, মন্দিরের সুদর্শন চক্র পুরীর যে কোনো জায়গা থেকে তাকালে মন্দিরের চূড়ার সুদর্শন চক্র আপনার সামনে থাকবে। সাধারণত দিনে হাওয়া সমুদ্রের দিক থেকে আসে। আর সন্ধ্যার সময় সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে।

কিন্তু পুরীর ক্ষেত্রে তা ঠিক উল্টো। সকালে তটের দিক থেকে সমুদ্রের দিকে হাওয়া চলে এবং সন্ধ্যায় সমুদ্রের দিক থেকে তটের দিকে হাওয়া বয়। স্বর্গদ্বার একটি বিখ্যাত সমুদ্র ঘাট। স্বর্গের দুয়ার নামে বিখ্যাত এ জায়গা উড়িষ্যাবাসীর কাছে খুব প্রিয় মৃতদেহ সৎকারের জন্য। প্রচলিত আছে যে এখানে সৎকার করলে স্বর্গে যাওয়া যায়। এছাড়াও পুরীতে আছে অনেক হিন্দু মন্দির এবং মঠ, যেমন- শ্রী লোকনাথ মন্দির, সুনারা গৌরাঙ্গ মন্দির, বেদি হনুমান মন্দির, চক্র তীর্থ মন্দির ইত্যাদি।

চিলিকা হ্রদ : দেখে আসি পুরী থেকে নতুন মেরিন ড্রাইভ ধরে সাতপাড়ার দূরত্ব মাত্র ৪৯ কিলোমিটার। গাড়িতে সময় লাগে ১ ঘণ্টার মতো। আবার পুরী মিউনিসিপ্যাল বাসস্ট্যান্ড থেকে আধাঘণ্টা অন্তর বাস সার্ভিস রয়েছে। চিলিকা হ্রদে পাখি দেখার সবচেয়ে ভালো জায়গা মঙ্গলজোড়ি। হ্রদের উত্তর কোণে এক ছোটগাঁ।

ভারতের বৃহত্তম উপকূলবর্তী লবণাক্ত হ্রদ চিলকা। প্রায় ৫২টি নদী এ হ্রদে এসে মিশেছে। এটি ভারতের বৃহত্তম এবং পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম লবণাক্ত হ্রদ। আয়তন ১০০০ বর্গকিলোমিটার, বর্ষায় পরিধি বিস্তৃত হয়ে ১১৭০ বর্গকিলোমিটার। আকার অনেকটা নাশপাতি ফলের মতো। ভারতীয় উপমহাদেশের সব পরিযায়ী পাখিদের বৃহত্তম ঠিকানা হল চিলকা।

এখানে প্রায় ১৬০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। ভারতের জীববৈচিত্র্যের অন্যতম অঞ্চল চিলকা হ্রদকে পরিযায়ী পাখিদের অন্যতম গন্তব্যস্থল হিসেবে সাতটি অঞ্চলের সঙ্গে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে চিলকা। প্রকাণ্ড চিলকা লেকের মাঝে জেগে রয়েছে বেশকিছু দ্বীপ যেমন সাতপাড়া, নলবন, কালীযাই ইত্যাদি। সব দ্বীপ মিলিয়ে প্রায় দেড় লাখ মৎস্যজীবীর বাস। কোনো দ্বীপের খ্যাতি হিন্দু মন্দিরের জন্য, কোথাও তৈরি হয়েছে পক্ষীনিবাস, কোথাও আবার গড়ে উঠেছে ডলফিন গবেষণা কেন্দ্র।

এ রাজ্যের তিনটি জেলায় (পুরী, খুরদা ও গাঞ্জাম) এটি পড়েছে। দিয়া নদীর তীরের প্রায় ১১০০ কিলোমিটারর এলাকাটি মুগ্ধ করবেই। নিউক্যালিডোনিয়ার প্রবাল প্রাচীরের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপকূলীয় লবণাক্ত হ্রদ এটি। খুবই মনোরম চিলকার এ জলবিহার।

যারা পাখি দেখতে ভালোবাসেন তাদের জন্য নলবন দ্বীপ তথা নলবন বার্ড স্যাংচুয়ারিটি অতি মনোরম। সাতপাড়া থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে চিলকা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গম। ঝাউ আর পোলাং গাছে ছাওয়া ছোট্ট দ্বীপের একপ্রান্তে চিলকা আর অন্য প্রান্তে বঙ্গোপসাগর।

লেখক : কবি ও প্রাবন্ধিক

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×