দেশে দেশে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৬ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইতালি

রোম বাংলাদেশ দূতাবাসে ৪৮তম মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবদুস সোবহান সিকদার ও দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে সমস্বরে জাতীয় সংগীত গেয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দূতাবাসের কর্মকাণ্ডকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আরও কাছে নিয়ে আসার জন্য বাংলাদেশি অধ্যুষিত তুস্কলানা এলাকার মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস। অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরসহ প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেন। পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে সভা শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়। দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভায় বাংলাদেশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যার নেতৃত্বে বাঙালি পেয়েছে এক স্বাধীন বাংলাদেশ। তারা বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশের ইতিহাস, কৃষ্টি-সংস্কৃতি বিষয়ে শিক্ষা দেয়া এবং চর্চার উৎসাহ দেয়া খুবই জরুরি। আবদুস সোবহান সিকদার তার বক্তব্যের শুরুতে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে; যার অবিসংবাদিত নেতৃত্বে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। তিনি বিনম্র শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধে সব শহীদদের এবং সম্ভ্রমহারা মা-বোনদের।

সব প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত। আলোচনা শেষে প্রবাসী খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হয়। ঐতিহ্যবাহী নৃত্য এবং দেশাত্মবোধক ও আধুনিক সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা।

জমির হোসেন, ইতালি থেকে

ডেনমার্ক

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে ডেনমার্ক আওয়ামী লীগ। ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সভাপতি মোস্তফা মজুমদার বাচ্চুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি হয়। শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগেরসহ সভাপতি খোকন মজুমদার। পরে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সবাইকে গভীর ভালোবাসায়, বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের প্রধান উপদেষ্টা বাবু সুভাষ ঘোষ, বিশেষ অতিথি উপদেষ্টা রিয়াজুল হাসনাত রুবেল। বক্তব্য দেন সহসভাপতি খোকন মজুমদার, নাছির উদ্দিন সরকার, মো. ইসমাইল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম, বোরহান উদ্দিন, বেলাল রুমী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম খালাসি, সোহাগ, সারিং সেলিম, গোলাম কিবরিয়া শামীম।

এছাড়াও বক্তব্য দেন ডেনমার্ক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম রনি। ডেনমার্ক যুবলীগ, ডেনমার্ক আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ডেনমার্ক ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা। এসময় বক্তারা বলেন, মার্চ মাস বাঙালি জাতির স্বাধীনতার মাস। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে সেদিন নিরস্ত্র বাঙালির বুকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চেয়ে হাজারও গুণ বেশি সাহস এসেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমরা যে গৌরব বোধ করি, এ গৌরব অর্জনের পেছনে দীর্ঘদিনের সংগ্রাম এবং ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিরাজমান। অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করে শোনান ছোটমণি তৃপ্তি ও তন্ময়। নৈশভোজের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি হয় অনুষ্ঠানের।

ডেনমার্ক থেকে

কুয়েত

স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কুয়েতে শতাধিক দেশের রাষ্ট্রদূত ও কুটনৈতিকদের অভ্যর্থনা ও মতবিনিময় সভা হয়েছে। কুয়েত সিটির জে ডব্লিউ ম্যারিয়ট হোটেলে কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত এসএম আবুল কালাম ও দূতাবাস কর্মকর্তারা আগত অতিথিদের বরণ করে নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কুয়েতের পানি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ড. খালেদ আলী আল ফাদহেল। কুয়েতের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ও বিএমসি কর্মকর্তারা, বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা অংশগ্রহণ করেন। রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও কার্যক্রম বিদেশিদের কাছে তুলে ধরেন। অতীতেরর মতো আগামীতেও বাংলাদেশের সঙ্গে সুসর্ম্পক আরও দৃঢ় হবে। কেক কাটার পর প্রবাসী বাংলাদেশি পরিবারের হাতের তৈরি নানা রকমের সুস্বাদু পিঠা প্রদর্শন ও প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়। সভায় কুয়েতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার প্রবাসী বাংলাদেশি ও কমিউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সাদেক রিপন কুয়েত থেকে

প্যারিস

প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকবিষয়ক ইউনেস্কোর সদর দফতর প্যারিসে কূটনৈতিক মহলের সম্মানে অভ্যর্থনা ও নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়। ফ্রান্সে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ফ্রান্স সিনেটের সদস্য, প্রবাসী বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ এতে অংশ গ্রহণ করেন।

বক্তব্য দেন ফ্রান্সের উচ্চ কক্ষ সিনেটের সদস্য এবং ফ্রান্স-দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপের প্রেসিডেন্ট ম্যাডাম জেকি দ্রোমেদি। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ত্রিশ লাখ শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। সবশেষে অতিথিদের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার পরিবেশন করা হয়।

ফয়সাল আহাম্মেদ দ্বীপ, ফ্রান্স থেকে

পর্তুগাল

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করা হয়। দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পর্তুগালে বসবাসরত তাদের পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. রুহুল আলম সিদ্দিকী। সন্ধ্যায় লিসবনের একটি অভিজাত হোটেলে অভ্যর্থনা ও নৈশভোজের আয়োজন করে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন।

পর্তুগালের সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতারা, সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং পর্তুগালে বাংলাদেশ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় দুই শতাধিক অতিথি এসেছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও পর্তুগালের মধ্যে বিরাজমান ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং গত ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত দু’দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে মানব সম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, সমুদ্র অর্থনীতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, পর্যটন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও দু’দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

অভ্যর্থনায় অংশগ্রহণকারী অতিথিদের বাংলাদেশি ও পর্তুগিজ ঐতিহ্যবাহী বাহারি খাবারের মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়। এমন সুন্দর একটি আয়োজনে অংশগ্রহণ করতে পেরে আনন্দিত বলে জানান, অনেকেই বাংলাদেশের এমন বিস্ময়কর সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

নাঈম হাসান পাভেল, লিসবন, পর্তুগাল থেকে

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×