পরবাস সংবাদ

দেশে দেশে প্রবাসীদের রমজান ও ইফতার

  যুগান্তর ডেস্ক    ১৮ মে ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রমজান

মালয়েশিয়া

মাহে রমজান ঘিরে প্রতি বছর থাকে বাহারি ইফতারের বিশেষ আয়োজন। মালয়েশিয়ার শাহ আলম, পেনাং, কোয়ান্তান, মেলাকাসহ প্রতিটি রাজ্যে চলে ইফতার মেলা। মারদেকা মাঠেও করা হয় ইফতারের বিশেষ আয়োজন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারিভাবে আয়োজন করা হয় ফ্রি ইফতারের। ধনী-গরিব সবাই একসঙ্গে বসে ফ্রি ইফতার করেন। এ যেন আল্লাহর সান্নিধ্য পাওয়ার বড় আয়োজন।

মালয়েশিয়ার পিং-সিটি পুত্রাযায়ার রমজান বাজার পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তুন ডা. মাহাথির মোহাম্মদ। স্থানীয়রা ইফতার করেন বিভিন্ন ধরনের হাতে বানানো পিঠা, হালুয়া জাতীয় নাশতা, সাদা ভাত, ফলমূলসহ মালয়েশিয়ান খাবার দিয়ে। সঙ্গে থাকে আম, তরমুজ, বাঙ্গি, কলা, পেঁপে, আপেল, আঙুর, কমলাসহ নানা রকম মালয়েশিয়ান ফল। এ মাসে বেশ অতিথি পরায়ণ হয়ে ওঠে মালয়েশিয়ানরা। রমজানে মালয়েশিয়াতে সরকারি অফিস, আদালত স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় ছুটি হয়। ক্রেতাদের জন্য আকর্ষণীয় ছাড় ঘোষণা করে শপিংমলগুলো। রোজার দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়ে যায় কেনাকাটার ধুম।

মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান পালন করেন অনেকটা দেশীয় আমেজে। মুসলিম অধ্যুষিত দেশ হওয়ায় রমজানে শ্রমিকদের নামাজ পড়ার ও রোজা রাখার সুযোগ করে দেয়া হয়। মসজিদগুলোয় বিনামূল্যে ইফতারির সুযোগ থাকে। মসজিদে মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া হয়। মালয়েশিয়া প্রবাসী বাংলাদেশিরা রমজান মাসে ইফতার করেন দেশীয় খাবার দিয়েই। বাংলাদেশি মালিকানাধীন রেস্টুরেন্টগুলোয় দেশীয় ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখে ইফতারি বানানো হয়। ইফতারিতে খেজুর, জিলাপি, শরবত, জুস, হালিম, ছোলা, মুড়ি, পিয়াজু, বেগুনি, চপ, লাচ্ছিসহ নানা ধরনের খাবার রাখা হয়।

বাংলাদেশিরা যেখানে থাকেন সেখানেই একসঙ্গে ইফতার করেন। তাই মালয়েশিয়ানদের পাশাপাশি বাঙালিদের আয়োজনটা বড় হয়। মালয়েশিয়ানরা অভিভূত হয় বাঙালিদের ইফতারির বিশাল আয়োজন দেখে। রমজান মাসে প্রতিদিন বিকালে মালয়েশিয়ার পিং-সিটি পুত্রাযায়া, শাহ আলম, মারদেকাসহ প্রায় সব জায়গায় বাজার রমাদান নামে ইফতারি বেচাকেনার মেলা বসে। বাজার রমাদানে বিভিন্ন ধরনের মালয়েশিয়ান খাবারের সমারোহ ঘটে। তবে এসব খাবার প্রবাসী বাঙালিদের খুব একটা টানে না। ইফতারির আসল আইটেমগুলো তারা বাসায় নিজেরা তৈরি করেন বা বাংলাদেশি রেস্টুরেন্ট থেকে কিনে আনেন।

রমজানে মুসলমানদের দিনে প্রকাশ্যে খাওয়া মালয়েশিয়ার আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। প্রতিবছর এ অপরাধে আটক হন অনেকে। এ ছাড়া পুরো রমজানে সরকারি নজরদারিতে জিনিসপত্রের দাম অন্যান্য সময়ের থেকে কম রাখা হয়। এ মাসে মসজিদগুলোয় প্রতি ওয়াক্ত নামাজে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যায়। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও নামাজ আদায় করতে মসজিদে যান। নামাজের পরে কোরআন তেলাওয়াত করতে পছন্দ করেন মালয়েশিয়ানরা। মসজিদে মসজিদে ইফতারিতে বিনামূল্যে শরবত ও বুবুর বা নরম খিচুড়ির ব্যবস্থা থাকে।

বাংলাদেশের মতো সব ইফতার আইটেমই আছে। জিলাপি কেজিপ্রতি ১০ রিঙ্গিত, বুন্দিয়া ১২ রিঙ্গিত, ছোলা ১২ রিঙ্গিত, পিয়াজু প্রতিটা এক রিঙ্গিত। এ ছাড়া রকমারি মিষ্টিতে ভরপুর। শত কষ্ট থাকা সত্ত্বেও সবার মুখে আনন্দ উছলে ওঠে। রমজান যেন এই সুখ বার্তাই নিয়ে আসে। দেশীয় খাবার ছাড়া ভিনদেশি খাবারে ইফতার জমে না বাঙালিদের। সুদূর প্রবাসে থেকেও তাই তৃপ্তি মেটাতে ইফতারে বাঙালি খাবার-ই তাদের প্রথম পছন্দ। প্রবাসী বাংলাদেশি অধ্যুষিত কোতারায়াতে রাস্তায় জমতো বিশাল জামায়াত। চিরচেনা কোতারায়ায় এখন আর নেই প্রবাসীদের জমাট আড্ডা। অভিবাসন বিভাগের ব্যাপক ধরপাকড়ের কারণে জনশূন্য হয়ে পড়েছে কোতারায়া। আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া থেকে

কানাডা

বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন অফ নোভাস্কসিয়ার উদ্যোগে লিমান ড্রাইভ, ডার্টমাউথ মসজিদে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের লোকদের নিয়ে ব্যতিক্রমী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাল্টিকালচারাল কানাডার বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই ইফতার। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিসহ অন্যান্য কম্যুনিটির লোকদের আমন্ত্রণ জানানো হয় সংগঠনের পক্ষ থেকে।

কানাডাকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে হলে বিভিন্ন সংস্কৃতির অধিবাসীদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আর এ ধরনের আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহমর্মিতার মানবিকতায় উজ্জীবিত হয়ে সেই সুযোগ করে দেবে বলে বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশান অফ নোভাস্কসিয়া দৃঢ় বিশ্বাস করে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় সংস্কৃতি ও ইসলামী সংস্কৃতির পরিচিতি ঘটাতে এ ধরনের ইন্টারফেইথ ইফতার মাহফিল করা হয়। হ্যালিফ্যাক্স ও ডার্টমাউথ (কানাডা)তে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ ও স্থানীয় লোকজন এই মাহফিলে যোগ দেন। সবার কাছে কৃতজ্ঞতা শুভেচ্ছা জানান, বাংলাদেশ কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশন নোভাস্কসিয়ার সেক্রেটারি মো. গোলাম কিবরিয়া তালুকদার।

আবদুল্লাহ আল জুবায়ের, কানাডা থেকে

শারজাহ

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু পরিষদ শারজাহ কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা হয় সারজাহের উমুল আল কুইয়ান হোটেলের হল রুমে। নবনির্বাচিত সভাপতি শাহ মোহাম্মদ মাকসুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম কাদের জিলানীর সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভাইস কনসাল মোয়াজ্জেম হোসেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ আহম্মেদ ছগির চৌধুরী, অন্য বক্তারা হলেন- মোহাম্মদ খোরশেদ মোবারক, আলহাজ হারুন, কাজী মোহাম্মদ আলী, ইঞ্জিনিয়ার এনাম, হাজী সেলিম, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ এনাম চৌধুরী, আবুল বশর (বাবুল), মোরশেদুল মুন্না, মোহাম্মদ হারুন, আবু সুফিয়ান, একে আজাদ, নুরুল আবছার, আবুল মনছুর, এরশাদ আলম, নাছির উদ্দীন খোকন, আরমান, রহমত, মনসুরসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আজম খান, আবদুল কাদের মোহাম্মদ নিজান, মোহাম্মাদ নাছির, মাহফুজ, আবদুল খালেক, গিয়াস উদ্দিন, খোকন, মনসুর ফেনী ও মংলা।

মাহাবুব হাসান হৃদয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে

স্পেন

মুসলমানদের সবচেয়ে পবিত্র মাস রমজান শুরু হয়েছে ইউরোপে। ইউরোপে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ লাখ, ইতালিতে প্রায় ২ লাখ, স্পেনে প্রায় ৩০ হাজার, ফ্রান্সে প্রায় ২৫ হাজার বাংলাদেশিসহ ইউরোপজুড়ে প্রায় ১০ লাখের অধিক বাংলাদেশি রমজান পালন করছেন। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো মুসলমান সংখ্যালঘু হওয়া সত্ত্বেও রাষ্ট্রের সহযোগিতায় তৈরি হওয়া মসজিদে তারাবির নামাজ থেকে শুরু করে ইফতার অনুষ্ঠানের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কর্মস্থলে রমজান মাসের জন্য বিশেষ রুটিন না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যারা ইফতার বা সেহরির সময় কাজের মধ্যে থাকে তাদের জন্য রোজা পালনে সমস্যা হচ্ছে। এ জন্য অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি আবার প্রতি বছরের এক মাসের ভেকেশন হিসেবে রোজার মাসকে নির্ধারণ করে নিচ্ছেন এবং পরিবার নিয়ে এক মাস রোজাব্রত ও ঈদুল ফিতর পালন করছেন। এ বছরের রোজা ইউরোপে শুরু হল সামার শুরু হওয়ার সময়ে। তাই দিনের অংশ বড় এবং গরম। যারা কর্মস্থলে শক্ত কাজ করেন, তাদের জন্য রোজা তুলনামূলকভাবে সহজ নয়। স্পেনের বার্সেলোনায় থাকেন চাঁদপুরের আমিনুল হক। তাকে রমজানের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, ‘আমি একটা রেস্টুরেন্টে কাজ করি প্রতিদিন ১১ ঘণ্টা। আমার ইফতারের সময় কাজ থাকবে। এ ছাড়া পরিশ্রমের কাজ বিধায় ঘেমে পানিশূন্য হয় শরীর। ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হয়তো শুধু ছুটির দিনগুলোতেই রোজা রাখতে পারব। এমন পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিই পড়ছেন। রোজা উপলক্ষে বাংলাদেশিসহ মুসলিম কমিউনিটি অধ্যুসিত ইউরোপের শহরগুলোতে রোজার দিনের বিশেষ উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশি ও পাকিস্তানিসহ এ হালাল রেস্টুরেন্টগুলোতে ইফতার অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকেই রিজার্ভেশন করা হচ্ছে। বাংলাদেশি সংগঠনগুলোর আয়োজনে প্রতিদিনই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠান হচ্ছে। ইউরোপে ছড়িয়ে থাকা মসজিদগুলোতে আদায় করা হচ্ছে তারাবির নামাজসহ ইসলামী বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

স্পেন থেকে

কাতালোনিয়া

পবিত্র সিয়াম সাধনা ও তার আনুষ্ঠানিকতা এখন থেকে কাতালান সাংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে। কাতালোনিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ মুসলমান ধর্মের অনুসারী হিসেবে রোজা পালন করেন। তারা কাতালোনিয়ার অধিবাসী হিসেবে রমজান এবং ইফতার অনুষ্ঠানে সহযোগী হতে পেরে খুশি হয়েছেন।

স্পেনের বার্সেলোনায় ইফতার অনুষ্ঠানে কাতালান বাম রাজৈতিক দল এসকেররা রিপুবলিকানা এন কাতালোনিয়া ইআরসি-এর নেতারা এসব কথা বলেন। বার্সেলোনায় আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে শহরের বাক দে রোদায় প্রায় তিন শতাধিক মানুষের জন্য ইফতারের আয়োজন করে কাতালান এ বামপন্থী দলটি। সাম্প্রতিক সময়ে কাতালোনিয়ায় এত মানুষের অংশগ্রহণে ইফতার অনুষ্ঠানের ঘটনা বিরল বলে মন্তব্য করেন ইফতার অনুষ্ঠানে আসা অনেক রোজাদার।

আসরের পর থেকে দলটির শুভাকাক্সক্ষী বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, মরক্কো, ভারতীয়সহ কাতালান নেতাকর্মীরা ইফতার অনুষ্ঠানে জড়ো হতে শুরু করে। প্রকাশ্যে মাগরিবের আজানের পর সম্মিলিতভাবে মুসলমান রোজাদারসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীরা একসঙ্গে ইফতার করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসকেররা রিপুবলিকানা দে কাতালোনিয়া পার্টির নেতা রবার্ট মাসি নাহার, আবদেল ওয়াহেদ, মারিয়া দানতাস, ওরিওল আমারোস, মার্ক বোররাস বাতায়া।

দলটির বাংলাদেশ বিষয়ক সমন্বয়ক সালেহ আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশি। এসময় উপস্থিত ছিলেন দলটির সিনিয়র সদস্য আলাউদ্দিন হক নেসা, জাহাঙ্গীর আলম, শাহ আলম স্বাধীন, সোহেল দেওয়ান, আবুল কালাম, হানিফ শরিফ, নজরুল ইসলাম, আশেক এ আরমান নাদিম, সোহেল খান। সাংবাদিক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অল ইউরোপ বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ও স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রথম সদস্য মিরন নাজমুল ও স্পেন বাংলা প্রেসক্লাবের সদস্য জাফার হোসাইন।

মিরন নাজমুল, স্পেন থেকে

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×