তুষারের সাদা চাদরে ঢাকা রোম

  জমির হোসেন ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইতালির রোম শহর ইতিহাসের এক অন্যতম নির্দশন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঐতিহাসিক রোমনগরী দেখতে আসেন পর্যটকরা। রোম এভাবেই তার নিজস্ব কারুকার্য দিয়ে মনজয় করে আসছে যুগযুগ ধরে দর্শনার্থীর। আর সেই রোমের সৌন্দর্যের মাঝে নতুন আনন্দের মাত্রা যোগ করেছিল গত ফেব্রুয়ারির তুষারপাত; যা ছিল স্মরণীয় একটি দিন।

ইতালির আবহাওয়া কেন্দ্র আগেই বৈরী আবহাওয়ার কথা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছিল। রোমের সব স্কুল বন্ধের অফিসিয়াল নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তুষারপাতের একদিন আগে স্কুলগুলো বন্ধের ঘোষণা আসে। এতে সব শ্রেণীর শিক্ষার্থী নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় অবস্থান নিতে পেরেছিল। এভাবে সর্বস্তরের লোকজন সতর্ক হয়েছিল। আনুমানিক ভোর ৪টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রাকৃতিক ছোঁয়ায় রোম সাজে কয়েক ঘণ্টার জন্য নতুন এক রূপে। হাসি আর আনন্দ ভরা ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। তবে এর মাঝে ভোগান্তিও কম ছিল না। সেও অন্যরকম এক অনুভূতি। যা কখনই বোঝানো সম্ভব নয়। এসব কিছুই তুষারপাতকে ঘিরে। রোমে এ নিয়ে তিনবার তুষারপাত হয়। ৬ বছর আগে তুষারপাত হয়েছিল। তারও আগে ১৯৮৬ সালে অঝোর ধারায় বৃষ্টি পড়ার মতো তুষারকণা ঝড়ে পড়েছিল। আর এ বছর নতুন করে আরেকবার তুষারপাতের প্রশান্তি দেয় রোমবাসীর মনে। দীর্ঘ বিরতির পর তুষার পড়ায় প্রাকৃতিক এ দৃশ্য দেখতে সব বয়সের নরনারী ঘর থেকে বেড়িয়ে এসেছিল। টানা কয়েক ঘণ্টার তুষারপাত রোম শহরের অলিগলি-বাসার ছাদ এবং বারান্দায় তুষার পড়ে ধবধবে সাদা হয়ে যায়। যেন তুষারের সাদা চাদরে ঢাকা এক নতুন শহর। ক্ষণিকের জন্য রোম শহরের পাকা সড়কগুলো হয়েছিল সাদা তুষারের সড়ক। এ দিনটিকে স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখতে সবাই বিভিন্ন আঙিকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একের পর এক টাইমলাইনে পোস্ট করতে থাকে। তুষারপাত সাধারণত সব সময় হয় না, তাই এত আগ্রহ ছিল সবার। রোমের উত্তর-দক্ষিণাঞ্চলে সচরাচর তুষারের দেখা মিললেও রোম শহরে এটি নতুন এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সপ্তম পাহাড়ের শহর রোমে। যখন তুষারপাত হল তখন জনমনে যেন আনন্দ-সুখের কোনো কমতি ছিল না। আর এ আনন্দ ভাগাভাগি করেছিল আবালবৃদ্ধ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ। তবে এরকম তুষারপাতে সাময়িকভাবে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তুষারপাতের রোম শহর প্রায় স্থবির হয়ে যায়। লোকশূন্য হয়ে পড়ে রাস্তা। বিভিন্ন অফিস, ফ্যাক্টরি, দোকান বন্ধ রাখে বৈরী আবহাওয়ার কারণে। ঠাণ্ডাও প্রকট হতে থাকে যেখানে গত কয়েক মাস রোমের তাপমাত্রা ছিল ১৩-২০; কিন্তু হঠাৎ করে ২৬ তারিখ তাপমাত্রা মাইনাস ১-৬ নেমে আসে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ভাব এসেছিল। কেউ আবার অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পড়ায় বাসা থেকে নামতে পারেনি। এভাবে তুষারপাতের দৃশ্যে আটকা পড়ে রোমের জীবন। কারও জন্য তুষারপাত বয়ে এনেছে সুখ; কারও কাছে তুষারপাত এক বিরক্তির কারণ হয়েছিল। উৎফুল্ল হয়েছিলেন অনেক বাংলাদেশি পরিবার। অঝোরে পড়া তুষারের মাঝে বের হয়ে স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তুলে রেখেছেন তারা। এ যেন এক ভিন্ন আনন্দ। মজার ব্যাপার হল ইতালির বিভিন্ন শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রায় সময় তুষার ভ্রমণ করতে যায়। বিশেষ করে তুষার দেখতে উল্লেযোগ্য দুটি স্থানে লোকেলোকারণ্য হয়ে যায়। এক কামপো ফেলিছে অন্যটি রক্কা রাসো। এ দুটি স্থানে বাংলাদেশিসহ অন্য অভিবাসীরা ভিড় করেন; কিন্তু এ বছর বাংলাদেশিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তুষার দেখতে যেতে হয়নি। এবার হাতের নাগালে তুষারের ভেলা। যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি। পরে রোমের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক হলেও যানবাহন অনেকটা সময় বিচ্ছিন্ন ছিল। রোম ঢেকেছিল সাদা কাফনে। তুষারের পাশাপাশি শীতের তীব্রতা ছিল। ফলে সবাইকে বাড়তি শীতবস্ত্র গায়ে দিতে হয়েছিল। চোখ যে দিকে যায় সবই সাদা আর সাদা। তুষারাচ্ছন্ন জীবনে নতুন অনুভূতির দেখা পেয়েছিল রোমে। সত্যিই এ এক অন্যরকম স্মৃতিময় ফ্রেমে বাঁধানো দিন ছিল। এভাবেই একটি দিন সুখ-দুঃখ নিয়ে কাটল আমাদের। ঘুমিয়ে আর তুষার দেখে দিন পার করি আমরা।

লেখক : সংবাদকর্মী, ইতালি

আরও পড়ুন
pran
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
bestelectronics

mans-world

 

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter
.