পরবাস সংবাদ

উৎসবমুখর পরিবেশে নববষর্কে বরণ করলেন প্রবাসীরা

  যুগান্তর ডেস্ক    ০৫ মে ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিয়াদ

সৌদি আরবের রিয়াদে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ বরণ করে প্রবাসীরা। রিয়াদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন শ্যাডো আল-তুমামাহর বাগানবাড়িতে বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনটি ছিল। আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। প্রবাসীরা নিজেদের পরিবার-পরিজন নিয়ে এ মেলায় যোগ দেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সৌদি আরবের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বাঙালিদের ঢল নেমেছিল। বিদেশিদেরও যোগ দিতে দেখা গেছে।

শুরুতে শ্যাডোর পক্ষ থেকে অতিথিদের গামছা উপহার দেয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহআলম চৌধুরী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি লালন করে বর্ষবরণের এ আয়োজনটিকে তিনি ‘অসাধারণ’ উল্লেখ করেন। বিদেশে নতুন প্রজন্মের স্বদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করে দেয়ার জন্য এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাষ্ট্রদূতের সহধর্মিণী সৈয়দা গুলে আরজু। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তা, তাদের পরিবারের সদস্যসহ কমিউনিটির সামাজিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সাধারণ প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় পণ্যের সমাহার নিয়ে প্রায় ৩৫টি স্টল পসরা সাজিয়েছিল। এতে দেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, জামদানি শাড়ি, দেশজ পণ্যের পসরা দর্শনার্থীদের আগ্রহের সৃষ্টি করে। অনেকে বলেছেন, দেশীয় পণের এ আয়োজনে তারা মুগ্ধ। কেননা সচরাচর এসব পণ্যের সমাহার সৌদি বিপণি কেন্দ্রে অঢেল পরিমাণে দেখা যায় না। স্টল ব্যবসায়ীরা বলেছেন, এবারের মেলায় তাদের ব্যবসা ভালো হয়েছে। দেশীয় পণ্যের প্রতি প্রবাসীদের কেনাকাটার আগ্রহ আগামী দিনে এ ধরনের আয়োজনে স্টল নেয়ার জন্য আগ্রহ বেড়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং তাদের সন্তানদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কাউন্সেলর ড. ফরিদ উদ্দিনের পরিকল্পনা ও সঞ্চালনায় এতে সমবেত সংগীত, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন করে কনসুলার সন্তানরা। গান গেয়ে শোনান দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব মো. সফিকুল ইসলাম ও মো. বশির। বৈশাখের কবিতা আবৃত্তি করেন প্রেসউইংয়ের সচিব ফখরুল ইসলাম। রিয়াদের তোমামায় ইস্তেরাহা নাওয়াফিতে বর্ষবরণে সমবেত কণ্ঠে এসো হে বৈশাখ গানটি পরিবেশন করা হয়। গান গেয়ে শোনায় নির্ঝর, আদৃত, স্বস্তি, লুবাবা, শেমুষী। কবিতা আবৃত্তি করে নাবিহা, অন্বেষা, মাহির ও নির্ঝর। নৃত্য পরিবেশন করে শেমুষী, স্বস্তি ও নাবিহা। দ্বিতীয় পর্বে শ্যাডো পরিবেশন করে সমবেত কণ্ঠে দেশের গান, প্রবাসী প্রজন্মদের নৃত্য, কবিতা আবৃত্তি, বিভিন্ন অঙ্গের সংগীত এবং ব্যান্ডের গান। এতে প্রবাসী শিল্পীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে কণ্ঠশিল্পী এবং যন্ত্রশিল্পীরাও যোগ দেন।

সাগর চৌধুরী, সৌদি আরব থেকে

ইতালি

ইতালির রাজধানী রোমে বাংলা নববর্ষ-১৪২৫ উদযাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে শনিবার বৈশাখী উদযাপন কমিটির আয়োজনে আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দিনটিকে ঘিরে দুপুর গড়াতেই লারগো প্রেনেসেতের একটি পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছুটে আসেন প্রাণের উচ্ছ্বাসে মেতে উঠতে। প্রবাসে বাঙালিয়ানা সাজে সেজে হৈহুল্লোড় করে বাংলা নববর্ষে পুরনো দিনের গ্লানি মুছে দিয়ে নতুন বছরকে ঘিরে ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পুরুষ পায়জামা, পাঞ্জাবি আর নারী দেশীয় কাপড়ে বিদেশিদের বেশ আকৃষ্ট করে বৈশাখী উৎসব। এযেন প্রবাসে একটুকরো বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে দেশীয় নানা রকম খাবার দিয়ে আমন্ত্রিত অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয়। বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সানজিদা আহমেদ ববি, সদস্য সচিব জেসমিন সুলতানা মিরা, প্রধান সমন্বয়কারী রুপালি গোমেজ, প্রধান উপদেষ্টা শান্তা সিকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদা আক্তার, সাবরিনা ইয়াসমিন, সদস্য সুমি ইসলাম, শারমিন ইসলাম পায়েল, সুমি বেপারি, উপদেষ্টা সায়েরা হোসাইন রানী, জামিলা মন্জুরী মিনু আহমেদ, পৃষ্ঠপোষকতায় সৈয়দা মাসুদা আক্তার, মুরিয়েল লিডা দি সিলভা, পারভীন আক্তার। অনুষ্ঠান পরিচালনায় শারমিন সুবানা, আমিনুল ইসলাম ও তারেক হাসান নয়ন, প্রচার ও প্রকাশনায় মিনহাজ হোসেন, সহযোগিতায় আবদুর রশিদ, জালাল আহমেদ মন্টু ও মোজাম্মেল হোসেন মোল্লা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জানলুকা পেছিওলা, বিশেষ অতিথি হাসানুজ্জামান কামরুল, জয়নাল আবেদিন হাজারী, মইনুল হোসাইন ময়না, জিএম ওমর ফারুক, মাফিজুল ইসলাম রাসেল, কাজী মোস্তাক আহমেদ সুমন, আশরাফুল হক, ইতালি ইপিবিএ সভাপতি লায়লা শাহ, মনোয়ারা বেবী সভাপতি মহিলা অঙ্গন, তুসকোলানা নারী সংস্থা সভাপতি মেরিন খান প্রমুখ। স্পন্সর উইন্ড সেন্টার ভিয়া প্রেনেসতিনা ১৬৬, জেবি ম্যানগো জুস আগস্তো ডোলছেএরি ১৫০, ইতালি বাংলা গ্রুপ এসএরএল, সার্ভিস ইতালিয়া, ইউরো বাংলা রেস্টুরেন্ট, ওরিএন্টেল ফাস্টফুড। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে দেশের বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিকস ও প্রিন্ট মিডিয়া ছিলেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধক ছিলেন মনোয়ারা মনি। পরে রোমের জনপ্রিয় শিল্পী কাজী জাকারিয়ার ব্যবস্থাপনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

জমির হোসেন, ইতালি থেকে

বার্সেলোনা

স্পেনের বার্সেলোনার কমিউনিদাদ দে বাংলাদেশ এন কাতালোনিয়া এবং ভয়েস অব বার্সেলোনা সংগঠনের যৌথ আয়োজনে বৈশাখী মেলা ১৪২৫ উদযাপিত হয়েছে। বার্সেলোনার স্থানীয় প্লাজা মাকবা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ মেলায় বৈশাখের বর্ণিল সাজে শিশু-কিশোর, নর-নারীসহ প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিদেশিরা উপস্থিত হয়ে মেলা উপভোগ করেন।

কমিউনিদাদ দে বাংলাদেশ এন কাতালোনিয়ার সভাপতি ফটিক মিয়ার সভাপতিত্বে এ মেলায় প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার এবং হেড অব চ্যান্সারি মো. হারুন আল রশিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বার্সেলোনায় বাংলাদেশি কাউন্সিল অফিসের কাউন্সিলর রামন পেদ্রো, কানাডা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মো. সরওয়ার হোসেন, জালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন ইউকের সভাপতি লায়ন মহিবুর রহমান মুহিব, ফ্রান্স জালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হেনু মিয়া। বৈশাখী সাজে সেজে কর্মীরা র‌্যালির মাধ্যমে মেলার মূল পর্ব মেলামঞ্চে নৃত্য, গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। নূরে জামাল খোকন, নিগার হোসাইন ও পুষ্পের উপস্থাপনায় বার্সেলোনার স্থানীয় শিল্পীরা ও লন্ডন থেকে আসা অতিথি শিল্পীরা অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ফোক, আধুনিক, দেশাÍবোধক গান পরিবেশন করেন। মেলার মাঠে বিভিন্ন স্টলে বাংলাদেশি পিঠা-পায়েস, ঝালমুড়ি, চানাচুর, ফুচকা, চটপটি, পেঁয়াজু, চপ, সিঙ্গারা-চমোচাসহ নানা বাহারি খাবারে সাজানো ছিল। প্রবাসী বাংলাদেশি ছাড়াও বিদেশিরা বাংলাদেশি খাবারের স্বাদ নিতে স্টলগুলোতে ভিড় জমান। এছাড়া মেলা উপলক্ষে বিশেষ লটারির ব্যবস্থা ছিল। লটারিতে বিশেষ পুরস্কারসহ প্রথম পুরস্কার ছিল বার্সেলোনা থেকে বাংলাদেশে ভ্রমণের বিমানের টিকিট।

মিরন নাজমুল, স্পেন থেকে

প্যারিস

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সুবর্ণ জয়ন্তীতে ফ্রান্স উদীচীর এক যুগের পথ চলায় ফ্রান্সের উবারভিলিয়েতে পালিত হল বর্ষবরণ উৎসব ২০১৮।

প্যারিসের উপকণ্ঠে উবারভিলিয়ে শহরের ‘লা এম্বার কাদে’ হলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে শুরুর পর্বে বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মূকাভিনয় শিল্পী পার্থ প্রতিম মজুমদার, উবারভিলিয়ে শহরের প্রথম সহকারী মেয়র আন্তনি দাগোই, ফ্রান্সস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কাউন্সেলর ও দুতালয় প্রধান হজরত আলী খান, ফ্রান্সের এসোসিয়েট প্রফেসর অফ নিউরো সাইন্স অ্যান্ড সাইক্রিয়েটিক ডা. উত্তম বড়ুয়া, বিজ্ঞানী ও গবেষক এবং ফ্রান্সের বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের সদস্য ড. অনাদী ভট্টাচার্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আমিরুল আরহাম।

ফ্রান্স উদীচীর সভাপতি কিরন্ময় মণ্ডলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী দুলালের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উবারভিলিয়ে মেরীর ‘ভি এসোসিয়েটিভ’-এর পরিচালক কর্লোস সামেদো, ফ্রান্সস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব নির্ঝর অধিকারী, প্রগতিশীল সমাজকর্মী ও শিক্ষয়ত্রী হাসনাত জাহানসহ আরও অনেকে।

আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল ফ্রান্স উদীচী পরিচালিত সদ্য প্রতিষ্ঠিত বাংলাভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফ্রান্সের ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের পরিবেশনায় তবলা, নাচ, গান, কবিতা ও নাটকের সমন্বয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান। বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের গানের প্রশিক্ষক রোজী মজুমদার ও সাগর বড়ুয়া, কবিতা বিভাগের প্রশিক্ষক শম্পা বড়ুয়া ও শর্মিষ্ঠা বড়ুয়া, নৃত্য বিভাগের প্রশিক্ষক মো. শরিফুল ইসলাম ও সুবর্ণা তালুকদার, তবলার প্রশিক্ষক অনুভব চট্টপাধ্যায়, শাপলু বড়ুয়া ও অভিজিৎ বড়ুয়া জিতু এবং কিশোর বিভাগের বাংলার প্রশিক্ষক কিরন্ময় মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে শিশু-কিশোরদের এই অনবধ্য অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে ফ্রান্স উদীচীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুস্মিতা বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিশু-কিশোররা হচ্ছে- দিব্য, আরশি, অরপা, জুলি, শরমিষ্ঠা, মেত্তা, সিম, ঐন্দ্রিলা, ঋতু, জয়ন্ত, দিপা, রৌদ্র, সম্ভার, অমিত, শ্রেয়া, নেহা, অন্দ্রেয়া, আনুশকা, অবন্তিকা-১, প্রিয়তা, অবন্তিকা-২, মিনাস্কি, রুদ্র, অবিতথ, স্বাগত, মিনহাজুল, উৎস, সঞ্জিব ও নিহাল।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও বক্তব্য ফ্রান্স ভাষায় অনুবাদ করেছেন যৌথভাবে হাসনাত জাহান ও হাসান খান।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ফ্রান্স উদীচীর নিয়মিত শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠিত হয় নাচ, গান ও কবিতা আবৃতি।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল আপ্যায়ন। সম্পাদক দুলাল চন্দ মিশেলের তত্ত্বাবধানে হরেক রকম দেশি ও ভর্তা ও খাবারের সমাহার। ফ্রান্স উদীচী পরিবার এবং বাংলা ভাষা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছাত্র-ছাত্রীর অভিভাবকবৃন্দ নিজ নিজ বাসা থেকে এই খাবার তৈরি করে অনুষ্ঠানে পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানে মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মহাদেব কর্মকার এবং পোশাক ও সাজ-সজ্জা পরিকল্পনায় ছিল রোজি মজুমদার। মঞ্ছ ও সাজ-সজ্জার কারিগরি সহায়তায় ছিলেন বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য হিমেল, পঙ্কজ কান্তি দে, শুভাশীষ রায় শুভ, দুলাল চন্দ মিশে, নাসির উদ্দিন, মো. আবুল মনসুর, মো. ইকবাল হোসেন, পলাশ বড়ুয়া, প্রণয় বড়ুয়া, তানভীর সানি ও জ্যোৎস্না বেগম, তারেক রহমান ও সাখাওয়াত হোসেন হাওলাদার। অনুষ্ঠানে বিশেষ সহায়তায় ছিল ইপিএস বাংলা কমিউনিটি-ফ্রান্স এবং রেডক্যাপ ট্রাভেল ট্যুরিজম।

আহমদ আলী দুলাল, ফ্রান্স থেকে

স্ট্রাসবুর্গ

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের স্ট্রাসবুর্গ শহরে বাঙালি রেস্টুরেন্ট উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসীদের বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা হয়। স্ট্রাসবুর্গের দাওয়াত রেস্টুরেন্টে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কাটে স্ট্রাসবুর্গ প্রবাসীদের বাংলা নববর্ষের প্রথম দিন। দিনব্যাপী এ আয়োজনের দাওয়াত রেস্টুরেন্টের সুমিত আউয়াল, দিলশাদ আউয়াল, ইমাম হোসেন শাওন, শামিম চৌধুরী, জামাল হোসেন রাশেদ, বেলাল হোসেন ছাড়া ও ৭০ জন বাঙালি অংশগ্রহণ করেন।

দিনশেষে দাওয়াত রেস্টুরেন্টের পরিচালক সুমিত আউয়াল ভবিষ্যৎ এ আরও বড় আঙ্গিকে এমন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি ভবিষ্যৎ এসব আয়োজনে সঙ্গে থাকার জন্য দাওয়াত এর ফেসবুক পেজ এ নজর রাখার অনুরোধ করেন। দাওয়াত এর ফেসবুক ঠিকানা https://fb.com/dawat.fr/

জামাল হোসেন রাশেদ ফ্রান্স থেকে

ক্যালিফোর্নিয়া

সনাতন বেঙ্গলি সোসাইট অব ক্যালিফোর্নিয়ার আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ ১৪২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। লসএঞ্জেলেসের অদূরে সেরিটোসের লিবাটি পার্কের মনোরম পরিবেশে বর্ষবরণ ও আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়। বৈশাখের ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী বর্ষবরণের আয়োজনে বিভিন্ন প্রকার চিত্রাকর্ষক প্রতিযোগিতা আগতদের মাতিয়ে রাখে। কয়েকজন বাসা থেকে বিভিন্ন প্রকার পিঠা, ভর্তা নিয়ে আসেন যা সবাই আনন্দের সঙ্গে খায়। সবাইকে সুস্বাদু মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বর্তমান সভাপতি বিদ্যুৎ দে, সহসভাপতি অমৃত বিবেক সরকার, সাধারণ সম্পাদক তুলসী সাহা, সহসাধারণ সম্পাদক সৈকত মজুমদার, অর্থ সম্পাদক সুগুপ্ত মজুমদার, সংস্কৃতি সম্পাদক উপমা মজুমদার, গণসংযোগ সম্পাদক রাজীব মজুমদার, প্রকাশনা সম্পাদক সমিত চৌধুরী, সৈকত সিনহা আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে ভরপুর ছিল বাঙালিয়ানার আনন্দ।

তপন দেবনাথ, লসএঞ্জেলেস থেকে

সিডনি

পহেলা বৈশাখ অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ভিন্ন মাত্রার আমেজ বয়ে এনেছিল। বাংলাদেশিদের প্রাণের শহর লাকেম্বা। দেশের আদলে গড়ে উঠা ছোট্ট বাংলাদেশ হিসেবেও পরিচিত প্রবাসীদের কাছে। আয়োজকরা বেশ আগে থেকেই পূর্ব অনুমতি নিয়ে রেখেছিলেন এখানকার প্রশাসন থেকে। এদিনে এলাকাটির রেলওয়ে প্যারেড রাস্তাটি সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ রাখা হয় ছিল এবং রাস্তাটির একপ্রান্তে মঞ্চ তৈরি করা হয়েছিল। ঢাকার রমনার বটমূলে বর্ষবরণের আয়োজনের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখেই সম্পন্ন হয় বৈশাখের প্রথম প্রহর; পান্তা-ইলিশে মুখ ও মুখোশের পহেলা বৈশাখ। প্রথমবারের মতো ছিল এ আয়োজন। ভোরের সূর্যালোকের সঙ্গে সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিড় জমেছিল। সকাল থেকে দিনব্যাপী বর্ষবরণের এ উৎসব ছিল। রঙ আর তুলিতে লাকেম্বার রেলওয়ে প্যারেড রাস্তাটি আল্পনার সাজে সজ্জিত করেছিল বাঙালিরা; আগত অতিথিদের কেউ কেউ ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউর মিল খোঁজে পেয়েছিল। মঞ্চে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেয়া হয়েছিল বৈশাখী প্রহরকে। এরপর স্থানীয় কবি-শিল্পীদের কবিতা-গান পরিবেশনের মাধ্যমে এ উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল। যৌথভাবে এ উৎসব আয়োজন করেছিল বাংলা হাব ও রেলওয়ে প্যারেড ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে স্থানীয় সংগঠন ওপেন ফ্রেন্ডস সার্কেল সহযোগিতা করেছিল।

উল্লেখ্য সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বাংলাদেশির বসতি এখানে। ফলে অলি-গলিতে সহজেই দেখা গিয়েছিল লুঙ্গি-গামছা পরিহিত দেশি ভাই, শাড়ি, সেলোয়ার-কামিজ, চুড়ি ও কপালে টিপ সাজে আপা/ভাবীদের। এ দৃশ্য প্রত্যেক প্রবাসী বাঙালিদের প্রিয়মুখ ভুলে থাকার ছায়া দিয়ে, মায়ার বাঁধনে জড়িয়ে নিয়েছিল। বিদেশটা কর্মব্যস্ততার; ঘণ্টায় উপার্জন করতে হয়। কাজে গেলে পয়সা, না গেলে হিসাবের খাতা শূন্য! এ ছাড়া দিনটি পড়েছিল উইক্যান্ডে। সবার সাপ্তাহিক ছুটি। সঙ্গে যোগ হয়েছে বাচ্চাদের স্কুল হলি ডে, তাই অস্ট্রেলিয়ায় ছুটির আমেজে এবারের বৈশাখ ছিল উৎসবের বর্ণিল আনন্দে ভরা। আয়োজকদের অন্যতম আশরাফ ও মুনির বিশ্বাস জানান, মূলত পরিপূর্ণ দেশীয় আমেজ ছড়িয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। পহেলা বৈশাখ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব। পুরনোকে ভুলে নতুনকে আলিঙ্গন করার দিন। আগামীতে সবার সহযোগিতায় এ আয়োজন বৃহৎ ও ব্যাপক আকারে উদযাপন করার পরিকল্পনা রইল।

হ্যাপি রহমান, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৮

converter