স্মৃতির জাবর কেটে ঈদ কাটে প্রবাসীর

প্রকাশ : ৩০ জুন ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর ডেস্ক   

একই চাঁদ তবে ঈদের আমেজে রয়েছে ভিন্নতা। দূর প্রবাসীদের বেলায় ঈদের আমেজ সম্পূর্ণ ভিন্ন না হলেও অনেকাংশে ভিন্নতা রয়েছে। ঈদের রাতে দেশে যেভাবে প্রত্যেকটি মানুষের মনে আগ্রহ দেখা দেয় প্রবাসে তেমনটা দেখা যায় না। তাছাড়া ঈদের কেনাকাটা, ঈদের আগে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে ঈদে বেড়ানোর পরিকল্পনা করা এসবের তেমন কিছুই প্রবাসীদের নেই। তবে আপনজনদের পিড়াপীড়িতে হয়তো অনেকে ঈদের কিছু জামাকাপড় কেনেন। জন্মভূমিতে ঈদের দিন সকাল থেকে বাড়ির ছোট ছোট মিষ্টি মুখের হাসি যেভাবে রঙে রঙে ছড়িয়ে বড়দের মুগ্ধ করে প্রবাসে সেটি দেখা যায় না। পাড়া প্রতিবেশীদের সঙ্গে দলবেঁধে ঈদগাহে যাওয়ার সেই বন্ধনটা প্রবাসী জীবনে খুব মনে পড়ে। ঈদের নামাজ শেষে পরিচিত সব মুখদের সঙ্গে কোলাকোলি করার ভ্রাতৃত্বময় দৃশ্য স্মৃতিতে ভাসে। ঈদগাহ থেকে বাড়ি ফিরে খাওয়া দাওয়া করা স্মৃতি হয়ে সামনে আসে। দূর প্রবাসীদের ঈদের দিনের তেমন ব্যস্ততা নেই। প্রবাসী মানেই ত্যাগী। তাই তো দূর প্রবাসে এসে সব আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে পরিবারের মুখে হাসি দেখতে চায় তারা।

ঈদের আমেজে আনন্দিত না হলেও ছুটির আমেজে কিছুটা হলেও আনন্দিত থাকা যায়। দুই বা তিন দিনের ছুটি হচ্ছে প্রবাসীর আসল আনন্দ। ছুটিতে পরিচিতদের সঙ্গে দেখা করার রীতি হচ্ছে প্রবাসের ঈদ আনন্দ। অনেক প্রবাসীর ঈদের দিনে ছুটি থাকেনা অনেকে আবার শুধু ঈদের দিন ছুটি পান। তবে এই সংখ্যা বেশি নয়। অনেকে আবার ঈদের দু’দিন আগে থেকে ভাবনায় থাকেন এবার ছুটি পাচ্ছেন কী না।

প্রবাসীদের মনে ঈদের আনন্দ তখনই লাগে যখন শোনে দেশে মা বাবা আত্মীয়স্বজন ঈদ জাঁকজমক করে উদযাপন করেছে। মনে শান্তি পায় যদি দেশের মানুষ নিরাপদে ঈদ উদযাপন করে। ঈদের দিন সকালে ভিডিও কলে নতুন পোশাক পড়া সন্তানের মুখের হাসি প্রবাসী বাবার সব কষ্ট ভুলিয়ে দেয়। স্ত্রীর কাছ থেকে দূরে থাকা প্রবাসী স্বামীরা চুপিসারে চোখের পানি মুছেন। অনেক যুবক প্রবাসী মা-বাবার সঙ্গে ঈদ করতে না পারার বেদনায় প্রকাশ্যেই চোখ মুছতে থাকেন। আবদুল্লাহ আল শাহীন