বাঙালির পহেলা বৈশাখ

পহেলা বৈশাখের বাঙালিপনা বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের পারিবারিক-সামাজিক এমন কি জাতীয় জীবনে বাংলা সন-তারিখের ব্যবহার নেই। নেই প্রচলনও। উৎসব আনন্দের জন্যই উৎসব করে থাকি। বাহ্যিকভাবে হয়ে যাই নির্ভেজাল বাঙালি

  মযহারুল ইসলাম বাবলা ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ঘিরে উৎসব-পার্বণ-আনুষ্ঠানিকতার ঘাটতি-কমতি কোনোটি নেই। পহেলা বৈশাখ এলেই শহরজুড়ে অনুষ্ঠানাদির আধিক্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী ঢাকার কর্মব্যস্ত মানুষ নিরানন্দ নাগরিক জীবনে বৈচিত্র্যের আশায় হালের নববর্ষের অনুষ্ঠানগুলোতে উপচে পড়ে। চারু-কারুকলার ছাত্রছাত্রীদের বর্ণিল মিছিল, রমনার বটমূলে ছায়ানটের ঐতিহ্যপূর্ণ বর্ষবরণ অনুষ্ঠানসহ দিনটিকে কেন্দ্র করে পালিত হয় নানা অনুষ্ঠানাদি। আর তাতে তিল ধরানোর ঠাঁই থাকে না। লোকে-লোকারণ্য হয়ে যায়। রমনা পার্কের পাশে মাটির সানকিতে ইলিশ ভাজা-নানা পদের ভর্তার সঙ্গে পান্তা ভাত খাওয়া শহরের মানুষের কাছে অতি আকর্ষণীয় এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নববর্ষের বর্ষবরণের তাবৎ অনুষ্ঠান, উপকরণ সমস্তই আমাদের বাঙালিয়ানার ঐতিহ্যভুক্ত। এদিনে আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির অভাবনীয় প্রতিফলন সর্বত্র দেখা যায়। বিজাতীয় সংস্কৃতির প্রবেশের সুযোগ থাকে না। শতভাগ বাঙালিয়ানার যে আবেগ উপচে পড়ে, তা দেখে ভিন্ন জাতিসত্তার যে কাউকে অবাক-বিস্মিত করবে। আশান্বিত করবে নিজ জাতিসত্তার প্রতি এমন আবেগ। সারা দিনমান বাঙালিপনার এমন নজির বছরের অন্য একটি দিনে কিন্তু খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে দিনের সূর্য ডুবে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী একটি বছরের জন্য আমাদের বাঙালিপনার সমস্ত আবেগ-উচ্ছ্বাসের পরিসমাপ্তি ঘটে। আরেক পহেলা বৈশাখ না আসা পর্যন্ত বাঙালিয়ানার সমস্তই আমরা নিমিষে ভুলে যাই। হয়ে যাই পাঁচ মিশালি, গতানুগতিক। পহেলা বৈশাখের বাঙালিপনা বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে খুঁজে পাওয়া যায় না। আমাদের পারিবারিক-সামাজিক এমন কি জাতীয় জীবনে বাংলা সন-তারিখের ব্যবহার নেই। নেই প্রচলনও। উৎসব আনন্দের জন্যই উৎসব করে থাকি। বাহ্যিকভাবে হয়ে যাই নির্ভেজাল বাঙালি। অন্তর্গতভাবে হতে পারি না বলেই আমাদের দেশপ্রেম-ভাষাপ্রেম ভাসা ভাসা ভাবেই আমাদের জীবনে বহমান। নেই গভীরতা, তাই নেই ভালোবাসাও। পহেলা বৈশাখ ব্যতীত আমাদের জাতীয় দিবসগুলোর অপর একটি দিবসও বঙ্গাব্দের-তারিখের ভিত্তিতে নেই। রাষ্ট্রীয়ভাবেও এ দিনটি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো জাতীয় দিবস বঙ্গাব্দের তারিখের ভিত্তিতে পালিত হয় না।

বাংলা সাহিত্যে গল্প-উপন্যাস-কবিতায় বাংলা নববর্ষের যেসব বর্ণনা পাওয়া যায় তা আজ রূপকথার মত।

যার বিন্দু-বিসর্গও গ্রামীণ জীবন-যাপনে খুঁজে পাওয়া যায় না। গ্রামীণ জীবন ও জনপদে কবি বর্ণিত নববর্ষের চিত্রও অনুপস্থিত-উধাও। বিদ্যুৎ, গ্যাস, স্যাটেলাইটের আগমনের বহুপূর্বে খ্রিস্টাব্দের সন-তারিখও গ্রামাঞ্চলে পোক্তভাবে জায়গা করে নিয়েছে। কৃষকের গোলায় নতুন ধান, পুলি পিঠার মৌ মৌ গন্ধে কৃষকের ঘর উৎসব আমেজে পরিপূর্ণ, পাঠ্যপুস্তকের সেই সমস্ত বর্ণনা বাস্তবের সঙ্গে যথার্থই অসঙ্গতিপূর্ণ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, আমাদের কৃষকের নিজস্ব জমি নেই। আমাদের কৃষকরা মূলত বর্গা চাষী। সামন্ত-জোতদারদের জমি চাষ করেই ভাগে ফসল পেয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষকের শ্রম-মেধা ও অর্থের বিনিয়োগে অর্জিত ফসলের অর্ধেকভাগ দিতে হয় জমির প্রকৃত মালিকদের। যাদের উৎপাদনের সঙ্গে নেই সামান্য সম্পৃক্ততা। নেই শ্রম-মেধা ও অর্থ বিনিয়োগও। অপরদিকে কৃষকের কায়িক শ্রম, ভাড়ায় নেয়া গরুসহ হাল, বাকিতে নেয়া বীজ, সার, কীটনাশক, সেচসহ ইত্যাদি খাতের ব্যয়ে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক ভাগ থেকে মিটিয়ে সঙ্গত কারণেই কৃষকের ঘরে নববর্ষের উৎসব-পার্বণের সুযোগ থাকে না। থাকে না পিঠা-পুলি তৈরির সামাজিক অনুষ্ঠানাদিও। আমাদের গ্রামীণ জীবনে তাই নববর্ষের উৎসব-পার্বণ বলে বাস্তবে কিছু নেই। যেটুকু আছে তা আমাদের সাহিত্যেই।

ঢাকা বলতে তখন পুরান ঢাকাকেই বুঝাত। নতুন ঢাকা হাঁটি হাঁটি পা পা করে সম্প্রসারিত হচ্ছে মাত্র। সে সময়ে পুরান ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উদ্যাপন হতো হিন্দু সম্প্রদায়ের সামাজিক ও পারিবারিক পরিমণ্ডলে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসমূহে। সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরনো খাতা বদলে হালখাতা খোলা হতো। লালশালু কাপড়ে মোড়ানো হালখাতায় নতুন বছরের হিসাব লিপিবদ্ধ হতো। পুরনো বছরের দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুনভাবে ব্যবসা শুরুর আহ্বান সংবলিত শুভেচ্ছা কার্ড-আমন্ত্রণ পত্র খদ্দেরদের কাছে পাঠাতো ব্যবসায়ীরা। নিজেরাও সশরীরে গিয়ে খদ্দেরদের পুরনো দেনা-পাওনা মিটিয়ে দেয়ার তাগিদ দিত। শুভ হালখাতা দিবসের নিমন্ত্রণ করতেও ভুলতো না। চৈত্রের শেষ দিনে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা হতো। পহেলা বৈশাখে আগত খদ্দেরদের মিষ্টি খাওয়ানো ছিল অপরিহার্য রেওয়াজ। চকবাজার, তাঁতীবাজার, বাদামতলী, মোগলটুলী, সোয়ারিঘাট, নয়াবাজার, শ্যামবাজার, পাটুয়াটুলী, সদরঘাট, ইসলামপুর প্রভৃতি ব্যবসাকেন্দ্রগুলোতে পালিত হতো শুভ হালখাতা উদ্বোধন। মুসলমান ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মৌলভী দিয়ে মিলাদ হতো। বিতরণ হতো মিষ্টি। অপরদিকে হিন্দু মালিকানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পুরোহিত দিয়ে স্বল্প মেয়াদি গণেশ পূজা, লক্ষ্মী পূজা হতো ঘট, আমের শাখা, নারিকেল, ফুলসহকারে। খদ্দের-পথচারী সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করা হতো। চৈত্র মাসের শুরু থেকেই বকেয়া অর্থ আদায়ের নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করত ব্যবসায়ীরা। এদিনে বাকিতে ক্রয়-বিক্রয়ের রেওয়াজ ছিল না। বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় নববর্ষ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় বানাত। সব বয়সীই এদিনে নতুন পোশাক পরিধান করত। ঘরে ঘরে রান্না হতো উন্নত খাদ্য-জলখাবার। তবে মুসলমান সম্প্রদায়ে নববর্ষের উৎসব-আনুষ্ঠানিকতা বলে বাস্তবে কিছুই ছিল না। একমাত্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ ছিল তাদের হালখাতাকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড। বর্তমানে হালখাতার আনুষ্ঠানিকতা ব্যাপক হারে সংকুচিত হয়েছে। তাঁতীবাজার, শাখারীবাজারসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের কিছু কিছু ব্যবসায় টিকে আছে। মুসলমান ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখের স্থলে রোজার মাসে হালখাতা করছে। সারা বছরের দেনা-পাওনার হিসাব-নিকাশ রোজার মাসের তৃতীয় সপ্তাহে করে থাকে। পাওনা আদায়, আয়-ব্যয়ের ভিত্তিতে যাকাত প্রদানের সুবিধার্থে সিংহভাগ মুসলমান ব্যবসায়ী রোজার মাসেই হালখাতা করে থাকে। হালখাতার ঐতিহ্য আজ আর আগের মতো নেই। স্বল্প সংখ্যক ব্যবসায়ে হালখাতার উদ্বোধন পহেলা বৈশাখে হয়ে থাকে, বেশিরভাগই লুপ্ত প্রায়।

পুরান ঢাকার অনেক স্থানে চৈত্র সংক্রান্তি মেলা হতো। স্থানীয় ভাষায় যাকে ‘চৈত পূজার মেলা’ বলা হতো। লালবাগ শ্মশান ঘাটের দক্ষিণের বিশাল খালি জায়গাজুড়ে বসতো চৈত্র সংক্রান্তি মেলা। সেই মেলা আমাদের ভীষণ উপভোগ্য ছিল। নাগরদোলা হতে মেলার সামগ্রিক উপকরণ ছিল। ছিল নানা পদের খাবার। বাঁশি-পুতুল, মাটি ও কাঠের তৈরি নানা ধরনের খেলনা সামগ্রী। প্রতিবার মেলা থেকে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে বাসায় ফিরতাম। চৈত্র সংক্রান্তির শেষ বিকালে ঝড়-বৃষ্টি ছিল অনিবার্য। আজকে যা দেখা যায় না। প্রকৃতির সঙ্গে আমাদের নিষ্ঠুর আচরণের বদলা প্রকৃতিও নিচ্ছে নানাভাবে। ঢাকা শহরে এখন আর কোথাও চৈত্র সংক্রান্তি মেলা হয় না। শহরজুড়ে ঘটা করে পালিত হয় পহেলা বৈশাখ। তবে তা কেবলই ভোগের পর্যায়ে। চেতনার স্থানটি ফাঁকা এবং অন্তসারশূন্য। তাই জাতীয়তার চেতনার গভীরতার চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না।

মোগল সম্রাট আকবর তার শাসনামলে বঙ্গাব্দের প্রবর্তন করেছিলেন খাজনা আদায়ের মোক্ষম সময় বিবেচনায়। বাংলার ঋতু-প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বাংলা সন-তারিখের ব্যাপক প্রচলন ছিল উপমহাদেশের বাঙালিদের মাঝে। পরে ইংরেজ শাসনামলে তাদের চাপিয়ে দেয়া খ্রিস্টীয় সন-তারিখের প্রভাবে এবং সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান রাষ্ট্রের বাংলা-বাঙালি বিদ্বেষে বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি-বাংলা সন-তারিখের প্রচলন নানাভাবে হুমকির সম্মুখীন হয়েছিল। যার অনিবার্য পরিণতিতে বাংলা সন-তারিখের ব্যবহার নানাভাবে ব্যাহত হয়েছিল। বাঙালি জাতীয়তাবাদের দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামে এবং সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশেও বাংলা ভাষা-কৃষ্টি-সংস্কৃতি পুঁজিবাদী তৎপরতায় উপেক্ষিত। রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েছে সত্য তবে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষার প্রচলন হয়নি। একইভাবে বাংলা সন-তারিখের রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার নেই। নেই বাধ্যবাধকতাও। শহুরে মধ্যবিত্ত আদাজল খেয়ে নেমেছে বিদেশি ইংরেজি ভাষার পেছনে। বাংলাভাষানির্ভর শিক্ষাকে ক্রমশ দূরে ঠেলে দেয়ার পাঁয়তারা চলছে। সেখানে বাংলা সন-তারিখের ব্যবহার তো ভাবাই যায় না। শহুরে মধ্যবিত্ত শ্রেণী আজকে যেমন ব্রিটিশ ভারতেও তেমনি উন্মাদ ছিল বিদেশি ইংরেজি ভাষানির্ভর হতে, পার্থিব সুবিধার আশায়। আমাদের প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গে প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার সুযোগ না থাকায় সেখানকার মানুষ প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি শিক্ষার অধিকারে আন্দোলন করেছে। ইংরেজি কম জানার কারণে ভারতীয় বাঙালিরা সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। সঙ্গে তো হিন্দির আগ্রাসন রয়েছেই। বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে ইংরেজি ভাষা শিক্ষা আগাগোড়াতেই ছিল। আমাদের মধ্যবিত্তরা তাতে তুষ্ট হতে পারেনি বলেই বাংলা বর্জন করে নির্ভেজাল ইংরেজি শিক্ষায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

বাংলা ভাষা-সংস্কৃতি গ্রাম্য বা আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতির সমমর্যাদায় বিবেচিত এখন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে। অথচ পহেলা বৈশাখের উৎসব-পার্বণে মধ্যবিত্তদের মাত্রাতিরিক্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। আমাদের ত্রিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজিনির্ভর, মাধ্যমিক স্তর, আরবি ভাষানির্ভর পশ্চাৎপদ মাদ্রাসা শিক্ষা। তিনটিকে একত্রে একমুখী করে বিজ্ঞানভিত্তিক মাতৃভাষানির্ভর না করা পর্যন্ত আমাদের বৈষম্যপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থার অবসান হবে না। পাশাপাশি আমাদের অধিক ত্যাগের বিনিময়ে প্রাপ্ত অর্জন-সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না।

স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রভাষা বাংলা হয়েছে। তবে সেটা কাগজে-কলমে। বাস্তবে সর্বক্ষেত্রে রাষ্ট্রভাষার প্রচলন হয়নি। বাংলাভাষা-বাংলা সন-তারিখের ব্যবহারে রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা নেই। পাকিস্তানি রাষ্ট্রে ধর্মীয় লেবাসে আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি ধ্বংসের চক্রান্ত হয়েছিল অত্যন্ত স্বৈরতান্ত্রিকভাবে। যার বিরুদ্ধে বাঙালিরা প্রবল প্রতিরোধ করেছিল। সেই চেতনায় ত্রিশ লাখ বীর শহীদের আত্মদানে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র পেয়েছি। সেই ইস্পাত কঠিন চেতনা আমরা ক্রমশ হারিয়ে চলেছি। তাই আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি আজ আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ভোগ-উপভোগেই পহেলা বৈশাখ উচ্চ ও মধ্যবিত্তদের উৎসব-আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত। চেতনায় নয় মোটেও।

আমাদের ভাষা-সংস্কৃতির বিকাশের ধারাকে সচল ও সর্বব্যাপী করা যেমন জরুরি। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাও মাতৃভাষানির্ভর বিজ্ঞানভিত্তিক একমুখী হওয়া আবশ্যিক। একদিনের উৎসব-পার্বণ পালনের চেয়ে জরুরি মনে-প্রাণে বাঙালি হওয়া। তাতেই নিজেদের দৈন্য-হীন মানসিক বৈকল্য বদলানো সম্ভব হবে। সেটা সম্ভব না হলে বাংলাদেশ থাকবে কিন্তু বাংলাভাষা-সংস্কৃতি-ঐতিহ্য যেভাবে থাকা উচিত সেরূপ নিশ্চয় থাকবে না। আমরা আমাদের জাতিসত্তা হারিয়ে সংকর জাতিতে পরিণত হব।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×