সংরক্ষিত পাঠক আসন

হাসুর ডিজিটাল পড়াশোনা

  প্রদীপ হালদার ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হাসুর বাবা ভীষণ ব্যস্ত মানুষ। ছেলের পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখার তেমন সময় পান না। মাঝে মাঝে একটু-আধটু খবর নেন। একদিন হাসুকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বাবা, নিয়মিত পড়টড় তো?’

হাসু মাথা দুলিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, খুব পড়ি। গতকালও পড়েছি। গতকাল আমাদের স্কুলের সিঁড়ি দিয়ে পড়ে দুই তলা থেকে তিন তলায় চলে গেছি। স্যরি! তিন তলা থেকে পড়ে দুই তলায় চলে গেছি।’

বাবা বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘আরে গাধা! ওই পড়া না, লেখাপড়ার কথা বলছি।’

‘হ্যাঁ, তা-ও প্রচুর পড়ছি। ফেসবুকে বন্ধুরা যে যা লিখছে তা সঙ্গে সঙ্গেই পড়ে ফেলছি। আমিও প্রায়ই এটাওটা লিখে পোস্ট করছি!’

‘চুপ কর অসভ্য! কী যা তা বলছিস। আমি বলছি বই পড়ার কথা।’

‘নিয়মিত বইও পড়ছি বাবা।’

‘আচ্ছা, পরীক্ষার পর রেজাল্ট দেখলে বুঝতে পারব কেমন পড়ছিস।’

হাসু কিছু বলল না। বাবাও আর কথা বাড়ালেন না।

দুই মাস পর হাসুর বার্ষিক পরীক্ষা হল। ফলাফলে দেখা গেল, দশটা বিষয়ের মধ্যে হাসু সাতটিতেই ফেল করেছে। ফলে হাসু পরের ক্লাসে উঠতে পারল না। এই খবর শুনে হাসুকে তার বাবা আচ্ছামতো ধমকে বলল, ‘তুই নাকি নিয়মিত বই পড়েছিস, তাহলে পরীক্ষায় ফেল করেছিস কেন?’

হাসু জবাব দিল না। বাবা রেগে বললেন, ‘এই ছাগলের বাচ্চা, কথা বলছিস না কেন? বই পড়লে কেউ সাত সাবজেক্টে ফেল করে?’

হাসু গম্ভীর হয়ে বলল, ‘ক্লাসের বই না পড়ে শুধু গল্পের বই পড়লে কেউ পাস করে এ কথা তোমাকে কে বলেছে ছাগলের বাপ? আমি তো সারা বছর গল্পের বই পড়েছি।’

বাবা বিড়বিড় করে বললেন, ‘তুই ঠিকই বলেছিস, আমি আসলেই একটা ছাগলের বাপ!’

হাসু বলল, ‘ঠিকই তো, তুমি তো শুধু বই পড়তে বলেছ, কী বই পড়ব তা তো বলোনি!’

রেখাখালী, ইন্দুরকানী, পিরোজপুর

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×