সহমত ভাই হাজির

  রুবেল কান্তি নাথ ২৮ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘আইজ ভ্যাপসা গরম পড়ছে। ভাবতাছি, এককাপ আগুন গরম চা খামু। গরম বেশি পড়লে আমার আবার গরমাগরম চা খাইতে মন চায়।’

ফেসবুকে জনৈক ব্যক্তি স্ট্যাটাসটা পয়দা করতে না করতেই দ্রুত একটা কমেন্ট চলে এলো।

কমেন্টে লেখা হয়েছে, ‘সহমত ভাই।’

স্ট্যাটাসদাতা জবাবে লিখলেন, ‘ধন্যবাদ ভাই।’

আবারও কমেন্ট এলো, ‘সহমত ভাই।’

কমেন্টদাতা হলেন, রহমত ভাই। স্ট্যাটাসদাতা আর কাল বিলম্ব না করে দ্রুত সহমত ভাই থুড়ি, রহমত ভাইয়ের ত্রিসীমানা পেরোতে চাইলেন। তাই কমেন্টের জবাবে আর কিছু লেখা তার কাছে সমীচীন বলে মনে হল না। তিনি অন্য কমেন্টকারীর দিকে নজর দিলেন।

সহমত ভাই তথা রহমত ভাই তার কমেন্টের রিপ্লাই না পেয়ে গোস্বা করে, অন্য আরেকজন ফেসবুক বন্ধুর পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করলেন, ‘সহমত ভাই।’

পোস্টটি ছিল, ‘বউকে বশে রাখতে মাঝে-মাঝে শপিং করে দিন।’

বলছিলাম, আমাদের এলাকার স্বনামধন্য সহমত ভাইয়ের কথা। যদিও তার প্রকৃত নাম, রহমত। আমরা একসময় তাকে ‘রহমত ভাই’ বলেই ডাকতাম। কিন্তু ইদানীং তার কর্মকাণ্ডে এক প্রকার অতিষ্ঠ হয়েই সর্বসম্মতিক্রমে তার নতুন নাম রেখে দিই। বর্তমানে তাই তিনি আমাদের কাছে ‘সহমত ভাই’।

ফেসবুকের মতো বাস্তবেও সহমত ভাই তার নামের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকেন। যে কোনো কথায়, যে কোনো কাজে, যে কোনো সময়ে এবং যে কোনো ব্যক্তির কাছে তিনি তার ঐতিহাসিক(!) মন্তব্যের ঝাঁপি খুলে বসেন। যদিও তার মন্তব্যের ঝাঁপিতে কয়েকটামাত্র বাক্যই মজুদ রয়েছে। সেগুলো হল- ‘আপু, খুব নাইচ লাগছে’, ‘অ্যাড মি, পিলিজ’, ‘ক্যামনে পারেন, ম্যান’, ‘ক্যামন আছেন, ভন্দুরা’, ‘হ্যালো, ফ্রান্স-উগান্ডা’ ও ‘জ্বি ভাই, সহমত’।

সেদিন আশ্চর্যজনক এক ঘটনা (নাকি দুর্ঘটনা?) দেখে তাজ্জব হয়ে গেলাম। দেখলাম, আমাদের এলাকার কলিম্যার চায়ের দোকানে বসে সহমত ভাই উপর্যুপরি মাথায় ঠাণ্ডা পানি ঢেলে চলেছেন। ব্যাপারটা কী? ভাবছি, সহমত ভাইয়ের মাথার নাটবল্টু যা ছিল, সব কি ইতিমধ্যে খুলে পড়ে গেছে নাকি?

কাছে গিয়ে সহমত ভাইকে কোনোরকমে আমতা-আমতা করে জিজ্ঞেস করলাম, ‘ভাই, প্রবলেমটা কী?’

তিনি হড়বড় করে এক নিঃশ্বাসে যা বললেন, তার সারমর্ম হল- ক’দিন আগে ফেসবুকে একজন লিখেছিলেন, ‘বউকে বশে রাখতে মাঝে-মাঝে শপিং করে দিন।’

সেখানে তিনি সহমত পোষণ করেছিলেন। যা চোখে পড়েছিল সহমত ভাইয়ের একমাত্র বউ মানে, আমাদের ভাবী মালেকা বানু’র। তিনি আজকে সেই ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে, সহমত ভাইকে প্রায় পাঁজাকোলা করেই মার্কেটে নিয়ে গিয়ে-বিরাট অংকের শপিং করে এসেছেন। যার ফলে ভাইয়ের বহুত টাকা গচ্চা গেছে। তার মতে, জলে গেছে। এবং বউয়ের এহেন কুকর্মে তার পিত্তি জ্বলে গেছে। ‘সহমত’ বলার কারণেই ভাই রসাতলে গেছে। মানে, ভাবীকে নিয়ে শপিংয়ে যেতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে। তাই তো সহমত ভাইয়ের অবস্থা এখন ক্যারাব্যারা।

এমতাবস্থায় তিনি আজ থেকে প্রতিজ্ঞা করলেন, আর কখনও কারও কথায় সহমত পোষণ করবেন না। আমি মনে-মনে বললাম, ‘সহমত ভাই, তবুও আপনার ঐতিহাসিক নামটা চেঞ্জ হবে বলে মনে হয় না!’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×