ধারাবাহিক রম্য টল TALK

উড়োর পাল্টা উড়োজাহাজ চিঠি

  শায়ের খান ১৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রিয় অজানা টল,

আপনার উড়ো চিঠিতে হেসেছি। কারণ, চিঠির পদে পদে আপনার পরিচয়ের ইশারা আছে। যদিও পদ কথাটা আমার কাছে কনফিউজিং। অপছন্দ-ও। পদে আছে বিপদ। ঘটে পদচ্যুতিও। আবার পদের জন্যই পদলেহন পদে পদে। অথচ পদ মানে পা। তাই পদচ্যুতি ঘটলেই মানুষের চিৎপটাং হওয়ার কথা। কিন্তু হয় না। পদচ্যুতিতে কখনও কি চিৎ হয়ে পড়ে যেতে দেখেছি কাউকে? পদলেহন মানে পা চাটা। কখনও কি দেখেছেন, কোনো মানুষ হাঁটু গেঁড়ে কারও পা জিহবা দিয়ে চাটছে? কথা প্রসঙ্গেই এলো শব্দটা। শব্দ করেই। পদশব্দ।

আপনি আমাকে পাইরেট লেখক বলায় ভয়াবহ খুশি হয়েছি। বেসিক্যালি পাইরেট মানে জলদস্যু। জলদস্যুরা সারাজীবন আমার কল্পনার হিরো। সমুদ্র অভিযাত্রীরাও। আমি প্রায়-ই ভেবেছি এদের নিয়ে। কিন্তু ভেবে পাইনি, ডাঙায় বা লোকালয়ে এত সম্পদ থাকতে কেন ওরা ২০-৩০ ফুট উঁচু ঢেউয়ে ভাসতে ভাসতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দস্যুগিরি করতে যাবে? কার সঙ্গেই বা করতে যাবে? লোকে বলে সমুদ্র অভিযানে বেরুতো ওরা অজানাকে জানতে। পড়ে হাসি আমি। আদিগন্ত সমুদ্রে পানির ফেনা আর ঢেউ ছাড়া কি-ই বা জানার আছে? তাহলে আমার ব্যাখ্যা শোনেন। সমুদ্রের অভিযাত্রীরা অজানাকে জানতেই সাগরে যেত, তবে সেটা অজানা মাছকে জানতে। মানুষ বা ল্যান্ডকে না। খাল-বিল-পুকুরের রুই-কাতলা-ট্যাংরা-পুঁটিতে আসলে ওরা টেস্ট হারিয়েছিল। ওরা ছিল উঁচু টেস্টের মানুষ। তাই সাগরে বেরিয়ে পড়েছিল অজানা মাছ শিকারে। মাছ ধরত, মধ্য সাগরে ভেসে ভেসে মিডনাইটে কোরাস গেয়ে গেয়ে করত বারবিকিউ পার্টি। যখনই ব্যাচারাদের তেল মসলা বা মদ শেষ হয়ে যেত, আক্রমণ করে বসত অন্য জাহাজ। কারণ মসলা ছাড়া মাছ ভাজা যাবে না, আর মদ ছাড়া ভাজা মাছ উল্টালেও পার্টি হবে না। অথচ আমরা ব্যাচারাদের নাম দিলাম দস্যু। জলদস্যু। কিন্তু জলের মতো পরিষ্কার ওদের মন। ওদের বেসিক নিড পার্টি করার মাল মসলা শেষ হলেই ওরা আক্রমণ করেছে অন্য জাহাজ। টাকা লুট ওদের উদ্দেশ্য ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল মসলা লুট। ওরা ছিল নিরীহ পার্টিবাজ। কলম্বাস তো মাছ ধরতে ধরতেই আমেরিকা পেয়ে গেলেন। আর আপনি আমাকে পার্টিবাজ বলে আমার হিরোদের মর্যাদায়ই নিয়ে গেলেন। হ্যাপি নিউ ইয়ার।

আপনার উড়ো চিঠির কিছু জায়গা-ই বলে দেয় আপনি মিথ্যুক। বলেছেন আমি আপনারসহ ফ্যামিলির নাম চুরি করে গল্প লিখছি। শুনে রাখেন, আমার টল সত্য চরিত্র। নামটাও। বলেছেন, আপনার ফুফুর নাম ছানামুখী। চাপাবাজিটা সাবধানে মারলে খুশি হব। বাংলাদেশে আমার ছানামুখী ছাড়া আরেকজন ছানামুখী দেখাতে পারবেন? আপনার ফুফুর আইডিটা বলেন তো? সার্চ দিয়ে তো পেলাম না। কেউ কখনও তার সুইট মেয়ের নাম ছানামুখী রাখে? চন্দ্রমুখী রাখতে পারে। মধুমুখী বা চিনিমুখীও রাখে না। কোনো বাবা-মাই চান না, তাদের মেয়ের মুখ সারাজীবন আধোয়া থাকুক।

বলেছেন, আপনার কাজিনের নাম নবাব। গাঞ্জুট্টি। মানে নেশাখোর। তাই গ্রামে রেখে দিয়েছেন নেশা থেকে দূরে রাখতে। হাইকোর্ট দেখান? গ্রামেই তো গাঁজা-হেরোইন-ফেন্সি-ইয়াবার চলাচল। চুলকানি সারাতে কেউ ছুতরা পাতার বনে পাঠায়?

আপনি চালাক। ধূর্ত। তাই এনালগ চিঠি পাঠিয়েছেন। মেসেঞ্জারে পাঠাননি। আপনি জানেন, ফেইক আইডি ধরার কায়দা বা ফোর্স আছে আমার। অথচ উল্টো চতুর বলেছেন আমাকে। আপনার চিঠি মার্জিত ছিল, তাই থানা পুলিশ করার প্রশ্ন আসে না। তবে এর পরে এ ধরনের চিঠি এলে বিপদে পড়বেন। ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে আছেন, থাকেন। ঘাঁটাঘাঁটি করতে আসবেন না মিস্টার সেন্ট মার্টিন। চমকে উঠলেন পেইড রাইটার? হা-হা-হা-! আপনি ভুলেই গেছিলেন যে, আমি পুরান ঢাকার পোলা-কোটি টাকা আমার এক তোলা!

আপনার উড়ো চিঠির জবাবে উড়োজাহাজ চিঠি পাঠালাম। পুরাই এনালগ। টিট ফর ট্যাট। ভালো থাকবেন।

Bye and Tc !

পাইরেট লেখক কলম বাস (বাজ) [চলবে]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×