ধ্রুপদি রস

বীরবলের গপপো

  গ্রন্থনা : রাফিয়া সুমি ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতের উত্তর প্রদেশে ১৫২৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন বীরবল। মূল নাম মহেশ দাস হলেও বীরবল নামেই তিনি পরিচিত। মোঘল সম্রাট আকবরের দরবারে অন্যতম সভাসদ ছিলেন। চতুরতার জন্যই বীরবল মূলত সবার কাছে সুপরিচিত। ১৫৫৬-১৫৬২ সালের দিকে কবি ও গায়ক হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে সম্রাটের অত্যন্ত কাছের মানুষে পরিণত হন এবং নানা সেনা অভিযানে অংশ নেন। যদিও তিনি এই বিষয়ে কোনো রূপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি। ১৫৮৬ সালে সম্রাট তাকে ভারতের উত্তর-দক্ষিণ দিকে অভিযানে (বর্তমান আফগানিস্তান) পাঠান। কিন্তু এই অভিযানে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়ে বিদ্রোহী উপজাতিদের আক্রমণে বহু সৈন্যসহ বীরবল মৃত্যুবরণ করেন। আকবরের শাসনামলের শেষের দিকে তার ও বীরবলের মধ্যকার মজার ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে। ধীরে ধীরে এসব কাহিনী পুরো ভারতীয় উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয়।

মনের কথা

একদিন যমুনার তীরে এক বাগান বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে বাদশাহ আকবর সূর্যাস্তের শোভা দেখছিলেন। বীরবল পাশেই দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি হঠাৎ জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা জাহাপনা! সূর্য পশ্চিম দিকে অস্ত যায় কেন বলতে পারেন?

বাদশাহ দেখলেন, এ প্রশ্নের সঠিক জবাব দেয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি কথাটা উড়িয়ে দেয়ার জন্য বললেন, ভারী তো একটা প্রশ্ন! যে কোনো মূর্খ লোকও এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে।

সঙ্গে সঙ্গে বীরবল বললেন, ঠিক সে জন্যই জাহাপনাকে প্রশ্নটা করেছি। বাদশাহ আকবর তেমন লেখাপড়া জানতেন না। তবে বুদ্ধিমান ছিলেন। তাই ইঙ্গিতটা বুঝতে পেরেও তিনি হাসতে লাগলেন।

একদিন দরবারে এসে বাদশাহ জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা, তোমরা এখন মনে মনে কি চিন্তা করছ, তা কেউ বলে দিতে পার?

উপস্থিত সবাই মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলেন। তারা ভাবলেন, যার যার নিজের স্বার্থের চিন্তাই তো প্রধান চিন্তা। কিন্তু বাদশাহর কাছে তা বলবেন কেমন করে? তাই তারা চুপ করেই রইলেন। কিন্তু বীরবল বললেন, সবার মনেই এক চিন্তা জাহাপনা। সে চিন্তা কি হতে পারে তাও বলে দিতে পারব আমি।

বাদশাহ বললেন, উপস্থিত সবার মনের চিন্তা এক হতেই পারে না। তুমি অদ্ভুত কথা শোনালে হে বীরবল!

বীরবল বললেন, আমার কথা ঠিক কিনা হুজুর এখুনি তা যাচাই করে দেখুন। আমি বলছি, এ মুহূর্তে সবাই ভাবছেন বাদশাহর উন্নতি হোক, রাজ্যের সবাই সুখে শান্তিতে বেঁচে থাকুক। সবার মনে এ চিন্তা কিনা হুজুর আমীর ওমরাহদের জিজ্ঞেস করেই দেখুন।

বীরবল জানতেন, জিজ্ঞেস করলেও এ কথার বাইরে কেউ কিছু স্বীকার করতে সাহস করবেন না। ফলে তাই হল। উপস্থিত সবাই একবাক্যে বলে উঠলেন, বীরবল ঠিকই বলেছেন জাহাপনা। রাতদিন আমাদের মনে শুধু ওই একটিই চিন্তা। আপনার ও আপনার রাজ্যের মঙ্গল ছাড়া আর কি-ইবা চিন্তা করতে পারি আমরা!

দশঘণ্টা পড়াশোনা

কিশোর বীরবল মৌলভীর কাছে গেছেন ফারসি শিখতে। একদিন পড়া বলতে না পারায় মৌলভী সাহেব তার ওপর খুব রেগে গেলেন। বললেন, ‘জানো তোমার

বয়সে বাদশা হুমাযুন প্রতিদিন দশ ঘণ্টা

করে লেখাপড়া করতেন, আর তুমি?’

বীরবল সবিনয়ে জবাব দিল, ‘জী, আপনার মতো বয়সে হুমাযুন বাদশা হয়ে

ভারত শাসন করেছিলেন, আর আপনি আমাদের মতো ছাত্রদের ভাঙা ঘরে

বসে পড়াচ্ছেন!’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×