মলাটবৃত্তান্ত

আঙুল ফুলে আবজাল

এই আবজাল এতই সম্পদের অধিকারী যে দুই দিন পরপর দামি-দামি গাড়ির মডেল পাল্টান, মাঝে মধ্যে হেলিকপ্টারে করে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির মতো দুর্গম এলাকায় বের হন প্রমোদ ভ্রমণে। আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানমও একজন প্রচণ্ড মেধাবী মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি প্রকল্পে চাকরি পেয়েছিলেন একজন টাইপিস্ট হিসেবে। মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি এক সময় সরকারি চাকরিতে নিয়মিত হন। এখন বাস করছেন সিঙ্গাপুরে।

  কাজী মাহমুদুর রহমান ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল

স্বাস্থ্যই যে সকল সুখের মূল এই কথা মুরুব্বিরা বলে আসছেন সেই ছোটবেলা থেকে। কিন্তু সত্য সত্যই স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল কিনা এ বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য একটা রিয়েল লাইফ উদাহরণ দরকার ছিল। সুখের বিষয় হল, সমাধান একটা অন্তত মানুষের সামনে তুলে ধরতে পেরেছেন আমাদের স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কমিশনের বরাতে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে আমরা জানতে পারলাম চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্য জনশক্তি উন্নয়ন শাখার হিসাবরক্ষক আবজাল হোসেন এমন এক জাল পেতেছেন যেখানে কয়েকশ’ কোটি টাকার সম্পদ অনায়াসে ধরা দিয়েছে। ঢাকার উত্তরার মতো অভিজাত এলাকায় পাঁচ পাঁচটি বহুতল ভবনের মালিক তিনি। স্বাস্থ্যের একঘেয়েমি দূর করতে সুদূর অস্ট্রেলিয়া আর সিঙ্গাপুরেও বাড়ি করেছেন আবজাল সাহেব। স্বাস্থ্য খাতে স্বাস্থ্যকর অবস্থানের সুবাদে হাত দিয়েছেন শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়নে। গড়ে তুলেছেন গার্মেন্ট শিল্প। স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন তৃতীয় শ্রেণীর কেরানি যে সুখের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তার যথাযোগ্য বর্ণনা দিতে গেলে একটি আবজালনামা লিখতে হবে।

স্বাস্থ্যবটিকা

আজকাল শিশুদের লম্বা, চৌকস আর বুদ্ধিমান করার কথা বলে নানা রকম বলকারক খাবারের চটকদার বিজ্ঞাপনে টিভির পর্দা ভর্তি হয়ে থাকে। আবার বড়দের স্বাস্থ্য নিয়েও হরেক রকম হারবাল স্বাস্থ্যবটিকা আর মালিশের প্রচারে জেরবার আমাদের মিডিয়া জগৎ। কিছু কিছু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আধ্যাত্মিক বাবা-মায়ের সন্ধানও পাওয়া যায় যারা তাবিজ, কবজ, ঝাড়, ফুঁক কেরামতির মাধ্যমে মানুষের সমস্যা সমাধান করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেন একদম গ্যারান্টিসহকারে। আমাদের আজকের আলোচ্য আবজাল সাহেব এসব কৌশল, বিদ্যা, ক্ষমতা আর পদ্ধতির এক সঞ্জীবনী শক্তির আঁধার। এখানে সবকিছু এক আবজালে এসে মিলিত হয়েছে। তাই তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। এই খাতে বিভিন্ন সংগঠনের একজন বড় দাতা (ডোনার) তিনি। নেশন গড়তে রাজনৈতিক মিছিল মিটিংয়ে তিনি দিয়ে থাকেন মোটা অংকের ডোনেশন। তার ক্ষমতার মমতার স্পর্শ নিতে তার কাছে আসেন হাজারও দর্শনার্থী। মুক্তিকামী এসব জনতার ভিড়ে আসেন এমপি কিংবা আমলারাও। যারা আসেন তাদের অশেষ কল্যাণ সাধনে আবজাল সাহেবের স্বাস্থ্যবটিকা অব্যর্থ।

ভালো জিনিসের ভালো দাম

জিনিস যেটা ভালো, দাম তার একটু বেশি। আর ভালো জিনিসের কদর সবখানেই; সব দলে। এ আবজাল ভাইটির কথাই ধরুন না। বিএনপির আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নামে গঠিত বিশেষ চাঁদাবাজি কমিটির নেতা ছিলেন ভদ্রলোক। দিন বদলের শপথ নিয়ে বদলে গেলেন সময়ের চাকায় চড়ে। আর স্ত্রী শ্যালক সমেত স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটা পারিবারিক আবহে দুর্নীতির একটা আখড়া গড়ে তুললেন। এই আবজাল এতই সম্পদের অধিকারী যে দুই দিন পর পর দামি-দামি গাড়ির মডেল পাল্টান, মাঝে মধ্যে হেলিকপ্টারে করে রাঙ্গামাটি-খাগড়াছড়ির মতো দুর্গম এলাকায় বের হন প্রমোদ ভ্রমণে। আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানমও একজন প্রচণ্ড মেধাবী মানুষ। স্বাস্থ্য অধিদফতরে একটি প্রকল্পে চাকরি পেয়েছিলেন একজন টাইপিস্ট হিসেবে। মেধা আর যোগ্যতার পরিচয় দিয়ে তিনি একসময় সরকারি চাকরিতে নিয়মিত হন। এখন বাস করছেন সিঙ্গাপুরে।

আঙুল ফুলে কলাগাছ

আঙুল ফুলে কলাগাছ শুধু এক আবজালই হয়েছেন এমন অলক্ষুণে কথা কেউ বিশ্বাসও করবে না। স্বাস্থ্য বিভাগে সুস্বাস্থ্য বিকাশের অবারিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দিন বদলের খাতায় অনেকের নামই সোনার হরফে লেখা হয়ে আছে। এসব সোনার কাঠি রুপার কাঠিরা নিজেদের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন নিজের মতো করে। একজন আবজাল সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন; পত্রিকার পাতায় স্থান পেয়েছেন। কিন্তু কলাবাগানের আর সব কলাগাছের কী হবে?

[email protected]

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×