বইমেলার লুকোচুরি

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  লেখা : এমদাদ হোসেন শরীফ, আঁকা : শফিক হীরা

এতো লুকোচুরি করছিস কেন? ওই লেখক কি তোর কাছে টাকা-পয়সা পায়?

কয়েকদিন ধরে ফোনে-ম্যাসেজে তার বইয়ের রিভিউ চাচ্ছে, আমি তো বইটা ছুঁয়েও দেখিনি! তাই সরে সরে থাকছি।

নিজের প্রকাশিত প্রথম বই কতটা ভালোবেসে তোমাকে উৎসর্গ করলাম, আর খামোখা তুমি আমাকে সন্দেহ করছো?

সারা মাস মেলায় এক কপি বইও যায় নাই তোমার! এখন বলছ তিন কপি বিক্রি হইছে। আরে ছদ্মবেশে আমিই তো দু’কপি কিনছি, বাকি কপিটা তাহলে কোন মেয়ে কিনেছে?

প্রতিদিন স্টলে গিয়েও আপনার বই পাই না! প্রথম বইয়েই মারমার কাটতিতে ছক্কা খেলে দিলেন?

ইয়ে মানে আমি শুধু বইয়ের পচ্ছদের ছবিটাই ফেসবুকে শেয়ার দিছি, বই এখনও প্রকাশক স্টলেই আনেননি, পাবেন কীভাবে?

বইমেলায় যেতে তোমার এত ভয় কীসের?

কী করে যাই বলো? ফ্রেন্ড লিস্টের সবাই বই বের করেছে, যার সঙ্গে দেখা হয় সে-ই হাতে বই ধরিয়ে দেয়। এরচেয়ে রেস্টুরেন্টই ভালো- একজন না হয় বিল ধরালো হাতে!

দশ বছর ধরে বই করে কখনও প্রথম এডিশনই শেষ হল না আর আপনার চারটা-পাঁচটা শেষ! রহস্য কী ভাই?

বইয়ের ক্রেতা-পাঠক ও জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য প্রতি পাঁচ কপিতে এক এডিশন ধরেছি আমরা! এটাই রহস্য।

ভাই, মন খারাপ কেন? কেঁদে দিবেন মনে হচ্ছে?

মোবাইলের গ্যালারি ভর্তি সুন্দরীদের ছবি কদিন পর আর রাখা যাবে না, ডিলেট করে দিতে হবে! আপনার ভাবির আল্টিমেটাম, মেলা শেষে যাতে ওর ছবি ছাড়া আর কারও ছবি মোবাইলে না থাকে।