ধারাবাহিক রম্য টল TALK

এলো শব্দ মেলো শব্দ

  শায়ের খান ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

রিকশায় ফিরতে ফিরতে টলের মাথায় ‘ঢঙ’ শব্দটা এলো। রমিলাদের দুঃস্বপ্নের ভিডিও আর তার দৌড়ে পালানো মাথা থেকে ঝেড়েছে আপাতত। পরে এ নিয়ে ভাববে। আপাতত ভাবাচ্ছে ‘ঢঙ’ শব্দটা। শব্দ নিয়ে ভাবা ওর মুদ্রাদোষ। মুদ্রাদোষ বলা ঠিক হবে না। লেখক মানুষ, শব্দই ওর জীবন। কিন্তু মাঝে মাঝে ব্যাকরণের বাইরের শব্দ নিয়ে ভাবে ও। যেমন এখন ভাবছে ঢঙ নিয়ে। কারণ একটু পরেই চিকির ঢঙ দেখতে হবে। তবে চিকির ঢঙের জন্যই যে ঢঙ নিয়ে ভাবছে তা না, শব্দটা নিয়েই ভাবছে। ঢঙ এক আজব শব্দ। আজব না বলে ঢঙের শব্দ বলাই ভালো। ঢঙ ঢঙ শব্দ বললে আরও ভালো। স্কুল বা গির্জার ঘণ্টা বাজলে আমরা বলি- ঢঙ ঢঙ করে বেজেছে। মানে ঢঙ যে শুধু ব্যাকরণের শব্দ তা না, ও নিজেও শব্দ করে। ঢঙ ঢঙ করেই করে।

ভাবতে ভাবতেই রিকশা পুপলির বাসার সামনে। মেসেজ দেয়াই ছিল। চিকি সোজা এসে নির্লিপ্তভাবে উঠে রিকশায় বসে। ওর স্পেশাল ঢঙ্গি ভঙ্গিমায়। টলকে অবাক করে দিয়ে। টল ভেবেছিল চিকির ভিডিও কলগুলো না ধরায় শান্টিং খাবে। অথচ উল্টো। একেবারে ভাবলেশহীন চিকি। হাতে আইসক্রিম স্কুপ করছে। এক চামচ নিয়ে টলের মুখে ধরে। আরে কী মুশকিল! যেখানে ঝাড়ি দেয়ার কথা, সেখানে আইসক্রিম দিচ্ছে। উদ্দেশ্য কী কে জানে? দুই ঠোঁটে আলতো করে চিকির বাড়িয়ে দেয়া আইসক্রিমে চুমু দেয় টল। চিকিকে অস্বাভাবিক শান্ত লাগছে।

রিকশা চলা শুরু করে। এবার আর টল চুপসে বসে না। উল্টো সহজ হওয়ার জন্য চিকির পেছনে সিটের ওপর ডান হাতটা রাখে। ভাবান্তর নাই চিকির। ভাব ও অন্তর দুটোই ওর এখন আইসক্রিমে। ভাবান্তর না দেখে অন্তর ভাবা শুরু করে আবার টলের। গলা খাঁকারি দিয়ে নিজেই শুরু করে ও, ‘ভাবছিলাম ঢঙ নিয়ে...।’ চোখ কুঁচকে কাত হওয়া ঢঙে তাকায় চিকি। ইশারায় এর মানে জিজ্ঞেস করে। একটু আগে টমাসের বাসায় টল ছিল নির্বাক। এখন ও সবাক, চিকি হয়েছে নির্বাক। বিষয়টা সরল হতে পারে, জটিলও হতে পারে।

টল : ভাবছিলাম ঢঙ আর ঢঙ্গি নিয়ে।

মাথা কাত করে আরও অদ্ভুত ঢঙে তাকায় চিকি। আদরের বেড়ালকে তুড়ি দিলে এভাবে তাকায়।

টল : মানে, আমরা সবাই-ই ঢঙ করি। যে ঢঙ করে, তাকে আমরা ঢঙ্গি বলি। কেন বলি? ঢঙ কি শুধু মেয়েরা করে? ছেলেরা ঢঙ করলে তাকে আমরা ঢঙ্গা বলি? কেন বলি না? ছেলেরা কী করে ঢঙ্গি হয়?

বেশ মজা পেয়ে চিকি চোখ পিটপিট করে তাকায়। বেড়াল কাউকে লাইক করলে তার দিকে এভাবে তাকায়।

টল : মাঝে মাঝে এসব আজব শব্দ আমাকে পাগল করে দেয়। ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টকে যদি আমরা শিল্পপতি বলি, তাহলে মেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্টকে আমরা শিল্পপত্নী বলি না কেন? বেদে যদি বেদেনী হতে পারে, রংবাজ কেন রংবাজিনি হতে পারবে না? দস্যু ফুলন দেবীও তো রংবাজি করেছিল?

হা হা হা করে রিকশাওয়ালা হেসে উঠে এবার।

টল : একি? তুমি এখনও তোমার ব্রেকের আয়না দিয়ে আমাদের দেখছো?

রিকশাওয়ালা : না ভাইজান, আয়না উল্টায় রাখসি। শুনে হাসলাম।

টল : কি শুনে হাসলে?

রিকশাওয়ালা : বেদে, রংবাজ আর ফুলন শুনে।

টল : এগুলোয় তোমার হাসার কী হল?

রিকশাওয়ালা : ‘বেদের মেয়ে জোসনা’ ৫ বার, ‘রংবাজ’ ৪ বার আর ‘দস্যু ফুলন’ দেখসি ৫ বার।

ফিক করে হেসে উঠে নির্বাক আইসক্রিম গার্ল চিকি। যাক, সবাক হতে শুরু করেছে ও। ড্রাইভ পায় টল। উত্তেজিত হয়ে বলে, ‘না, তুমিই বলো, নায়ক যদি নায়িকা হয়, ধর্ষক কেন ধর্ষকিনি হবে না?’ দুষ্টু হেসে চিকি ডান হাতটা একটু নাড়া দিয়ে বলে,‘হুম, আব্বুকে বলবো।’

সর্বনাশ! শব্দ উত্তেজনায় টল যে কখন চিকির ডান স্লিভ চেপে ধরেছে, খেয়াল করেনি। চিকির হাত নাড়ায় টের পেয়েছে। শিথিল হয়ে আসতে থাকে আঙুলগুলো। আরও দুষ্টু হেসে চিকি বলে, ‘আম্মুকেও বলবো।’ চোখ বড় হয়ে যায় টলের।

টল : কী বলবে?

চিকি : এসব কথা।

আস্তে ডান হাতটা টেনে এনে কোলের ওপর রাখে টল।

(চলবে)

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×