রাজ্যের ঘুম

  কাজী সুলতানুল আরেফিন ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘দোস্ত ফেঁসে গেছি! বাসার সবাই আমার প্রেমিকার নাম জেনে গেছে।’

‘কীভাবে জানল?’

‘ঘুমের মধ্যে ওর সঙ্গে ঝগড়া করেছিলাম!’

এই হল এক বন্ধুর অবস্থা! ঘুম নিয়ে অনেকেরই অনেক রসালো কাহিনী আছে। ঘুম নিয়ে আছে অনেক বিপত্তি। ঘুমের ঘোরে অনেকে হাঁটেন কিংবা কথা বলেন। আমি একবার ঘুমের ঘোরে কোনো এক মেয়ের নাম নাকি মুখ ফসকে বলে ফেলেছিলাম! এটা আমার বউয়ের অভিযোগ। আমি তার কাছে সে নামটা জানতে চেয়েছিলাম। অন্তত নিজেও শুনি দেখি পরিচিত মেয়ে কিনা? বা আমার কিছু হয় কিনা! কিন্তু সে আমাকে নাম আর বলে না। কিন্তু দিনের পর দিন আমাকে খোঁটা দিয়ে যেতে লাগল এটা বলে। অবশেষে একদিন চেপে ধরার পর জানাল, সে নাকি অনেকক্ষণ কান সজাগ করেও নামটা স্পষ্ট শুনতে পায়নি! আমি ঘুমের ঘোরে অস্পষ্টভাবে কয়েকবার কারও নাম নিয়েছিলাম। সে যদি শুধু নামটা শুনতে পেত বা বুঝতে পারত তবে একটা বিহিত করেই নিত। আমি তাকে যুক্তি দেখালাম, ‘কী করে বুঝলে সেটা কোনো মেয়ের নাম? যেহেতু স্পষ্ট শোনা যায়নি সেটা আমার কোনো ছেলে বন্ধুর নামও তো হতে পারে!’

সে আমার যুক্তি শুনে মুখ বাঁকা করল। যেন নিশ্চিত আমি যেহেতু বলেছি সেটা মেয়ের নামই হবে। উপায় না দেখে আমিও একদিন বললাম, ‘কাল রাতে কার সঙ্গে এত সুন্দর সুন্দর ডায়ালগ দিচ্ছিলে?’

সে অবাক হয়ে বলল,‘কখন?’

‘ঘুমের মধ্যে!’ সে আমার চালাকি বুঝতে পারল। এরপর আমাকে খোঁটা দেয়া বন্ধ করল। আমার এক কাকা আছেন। নাম ডালিম কাকা। ঘুমালে সাইরেন বাজে। অর্থাৎ তার নাক ডাকা সাইরেনের মতো শোনা যায়। আরেকজন মামা আছেন যিনি ঘুমালে আর খবরই থাকে না। ঘুমের মধ্যে যদি দুনিয়া উল্টেও যায় উনার ঘুম ভাঙবে না! এলাকার চোরেরাও সে খবর জানত। তাই একবার এক চোর উনাকে বিছানা থেকে নিচে শুইয়ে দিয়ে বিছানার চাদরসহ নিয়ে গিয়েছিল।

আমার ছোট ভাই আরাফাত এক দুপুরে ঘুমানোর পর বিকালে ঘুম থেকে উঠে মাথায় টুপি দিয়ে হাতে মাদুর নিয়ে অচেনা গন্তব্যের উদ্দেশে হাঁটা ধরল। আমরা তাকে থামালাম। আসলে গ্রামে খুব সকালে আরবি পড়তে মকতবে যাওয়ার রীতি আছে। সে ঘুম থেকে উঠে বিকালকে সকাল ভেবে মকতবের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়েছিল।

অনেক ঘুম আবার বিতর্কের জন্ম দেয়। হাসির খোরাক হয়। অনেক সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের প্রকাশ্যে ঘুমিয়ে পড়তেও দেখা যায়। তবে ঘুম সময়মতো না এলেই বিপত্তি। ওষুধ খেয়েও অনেকে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। তরুণদের যারা ছেঁকামাইসিন খায় তাদের ঘুম উবে যায়। তবে অনেকের ঘুমানোর অঙ্গ ভঙ্গিমায় আলাদা আলাদা কিছু নজরে পড়ে। যেমন কেউ কেউ হা করে ঘুমান। কেউ কাত হয়ে, আর কেউ চিত হয়ে। কেউ কেউ উপুড় হয়ে ঘুমান, আবার কেউ সটান হয়ে। যে যেভাবেই ঘুমাক সবাই শান্তির ঘুম কামনা করে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×