ভারত বনাম পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের অতি উৎসাহী

ভারত ও পাকিস্তানের চলমান ইস্যু নিয়ে আমাদের দেশের অনেকে অনলাইনে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ যেন নিজেরাই যুদ্ধে নেমেছেন! আবার কেউ কেউ এই যুদ্ধের জন্য অপেক্ষাও করছেন! কেউ হয়ে উঠেছেন চিন্তাবিদ, সুশীল কিংবা অন্য কিছু। তাদের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন-

  সালাহ উদ্দিন শুভ ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভারত ও পাকিপ্রেমী : ফেসবুকে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে নিজের প্রেমময় দেশের হয়ে স্ট্যাটাস ডেলিভারি দেন। একটা ভিডিও বা ছবি আপলোড করে খোঁচা মারা কিছু ক্যাপশন দিয়ে প্রতিপক্ষকে এক হাত দেখান।

উদাহরণ : এবার রুখে দাঁড়ালো তরমুজ বাহিনী, পারলে ঠ্যাকান, কুপা কুপা!

ট্যালেন্টেড ভারত ও পাকিপ্রেমী : এরা সুশীল সাজার ভান করে নিজের প্রেমময় দেশের পক্ষ নিয়ে কিছু ইশারা-ইঙ্গিত প্রদান করেন। কিন্তু ব্যালেন্স ঠিক রাখার জন্য নিজের প্রেমময় দেশ সম্পর্কেও দু-এক লাইনের সমালোচনা ঠুকে দেন।

উদাহরণ : ক-এর বাচ্চা ক, ক তুই মর, সবাই ক-রে ধর। তবে খ-ও মাঝে মইধ্যে একটু হারামিগিরি করে।

ট্যালেন্টেড গুজব রটনাকারী : গুজব রটানো সম্পর্কে মানুষজন সচেতন হওয়ার কারণে তারা তাদের ট্যালেন্টকে কাজে লাগিয়ে গুজবের নিচে সুন্দরভাবে লাগিয়ে দেয়- সোর্স : বিবিসি, সিএনএন, আলজাজিরা ইত্যাদি।

উদাহরণ : কাশ্মীরের জাম্বুতে বডি স্প্রে নিক্ষেপে বেহুশ ৯০০। সোর্স : গুজব ডট টিভি।

কিউটের ডিব্বা : কতিপয় সোশ্যাল মিডিয়া কিউটের ডিব্বারা যুদ্ধের বিষয়বস্তু আগা-মাথা কিছুই জানবে না। শুধু তাদের ক্রাশ খাওয়া সেলিব্রেটিদের দেশ সাপোর্ট করে যান।

উদাহরণ : ওয়াও! গোয়েলি অ্যান্ড শালিক ইজ সো কিউট, আই সাপোর্ট বোথ। গো, উইন হ্যান্ডসাম।

মানবধিকার কর্মী : তারা এই সব হত্যা-রক্তের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য মানবতাবিরোধী আইনের ধারা বিশ্লেষণ করতে শুরু করেন।

উদাহরণ : আহ, একটা মানুষ পুড়ে মরল বিমান দুর্ঘটনায়। কারো মনে কোনো মায়াই নেই? এদিকে ৩০০ জন মানুষকে হত্যা করল! জঙ্গি বলে কি তারা মানুষ নয়? কোথায় আজ মানবতা! আজগুবি আইনের খামোশ ধারায় বর্ণনা করা আছে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে কেউ মেরে ফেলেন তবে সেই ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হবে। এহেম, এ ক্ষেত্রে ফাঁসিতে ঝুলানো কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়।

জ্যোতিষী : এরা ক্রমাগত ভবিষ্যৎবাণী করে যায় যুদ্ধের শেষ কোথায়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, কে জিতবে ইত্যাদি।

উদাহরণ : ২০২১ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ হইবে আগেই কইছিলাম। এইতো মাত্র শুরু। এখন ড্রাম্প আর মতিনের দৃষ্টি পড়লেই শুরু হয়ে যাবে।

দেশপ্রেমিক ফেসবুক যোদ্ধা : এরা এই যুদ্ধের মাঝেও দেশকে টেনে নিয়ে আসবে। দেশের সম্পর্কে ভাববে এবং দেশকেই শীর্ষে তুলে ধরবে।

উদাহরণ : এই যুদ্ধের মাঝে বাংলাদেশ এখন ভারত ও পাকিস্তান উভয়কেই আক্রমণ করে উভয়কেই হারিয়ে দিবে। এরপর বাংলাদেশ থেকে ভারতপ্রেমীদের ভারত পাঠিয়ে দেয়া হবে, পাকিস্তানপ্রেমীদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেয়া হবে। আর রোহিঙ্গাদের পাঠিয়ে দেয়া হবে কাশ্মীরে। এরপর এ দেশের মানুষ সুখে ও শান্তিতে বসবাস করবে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×