ঘুমের ধুম!

  মো. রায়হান কবির ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হেকমত সাহেবের কাছে জনৈক ব্যক্তি এসেছেন একজন রোগী নিয়ে। এ ব্যক্তি হেকমত সাহেবের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। এদের কাজ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে রোগী সরবরাহ করে নিজের পকেটে টাকার সরবরাহ বৃদ্ধি করা। হেকমত সাহেবের ‘হেকিমি দাওয়াখানা শুধু নামেই। এখানে বস্তুত কোনো দাওয়াই বা ওষুধ দেয়া হয় না। তবে দোয়া বা এ ধরনের কিছু দেয়া হয়। তাই বিনা ওষুধে ‘জটিল’ রোগমুক্তির জন্য হেকিমি দাওয়াখানার সুনাম সুদূর সুনামগঞ্জেও পৌঁছেছে। এবার সুনামগঞ্জের এক বাংলাদেশি লোকের সঙ্গে তার এক বিদেশি বন্ধু, বলা যায় লন্ডনি বন্ধু নিয়ে হাজির হেকমত সাহেবের মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ। রোগী ভেতরে চালান করে মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ বাহিরে অপেক্ষা করছেন রোগীর বিল দেখার জন্য। কেননা এরপরই ওনার বিল কাটা হবে। রোগীর বিল যত বেশি মার্কেটিং এক্সিকিউটিভের বিলও ততবেশি। এর আগে মাথা হিসেবে ছিল। কিন্তু মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ হিসেব করে দেখল এতে লস হয়। তাই মাথা হিসেব বাদ দিয়ে বিলের ওপর পারসেন্টিজ বসিয়ে পারিশ্রমিক ঠিক করা হয়েছে। বিদেশি বন্ধুর সমস্যা খুব বেশি না। ওনার বাংলাদেশে আসার পর থেকেই ঘুম আসছে না। প্রথম প্রথম আবহাওয়া পরিবর্তন কিংবা সময় পরিবর্তনের কথা ভেবে ব্যাপারটাকে হালকাভাবে নিয়েছিলেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও যখন ঘুমের সমস্যা যাচ্ছেনা তখন ডাক্তারের কাছে ছুটলেন। কিন্তু ডাক্তারের কোনো ওষুধই কাজে আসছে না। বদল করেছেন ওষুধ, বদল করেছেন ডাক্তার কিন্তু কিছুতেই ঘুম আর আসে না।

অবশেষে বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়েই হেকিমি দাওয়াখানায় চলে আসা। তাদের বিজ্ঞাপনও বেশ চটকদার। লিফলেট পড়লেই ছুটে আসতে মন চায়। মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ এমন ভাবে লিফলেট বিলি করছিলেন যে তাকেই ডাক্তার মনে হয়েছিল। সে যাই হোক, এখন চিকিৎসা দরকার। দরকার ঘুমের। মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ আগেই বলেছিলেন, ডাক্তার সাহেবের ওষুধের চেয়ে পরামর্শ খুব গুরুত্বপূর্ণ। উনি ওষুধ কম দেন, পরামর্শ দেন বেশি। আর সেটাই কাজ করে বেশি। তো ডাক্তার সাহেব সব কিছু শুনে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি ড্রাইভিং পারেন? বিদেশি বললেন, জী ডাক্তার সাহেব। আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে? বিদেশি জবাব দিলেন, আছে। তিনি বললেন, ঠিক আছে। ঢাকা-সিলেট রোডে এক বাস সার্ভিসের মালিক আমার বন্ধু। ওকে বলে দিচ্ছি। ও আপনাকে একটি বাসের ড্রাইভিং এর জন্য ব্যবস্থা করে দেবে। কোনো সহজ রাস্তা খুঁজবেন না। যেভাবে বলেছি ঠিক সেভাবে চলেন। আপনার সমস্যা ভালো হয়ে যাবে।

তথ্য মোতাবেক সিলেট লাইনের বাসের ড্রাইভিং শুরু করলেন। আর কি আশ্চর্য মাত্র দ্বিতীয় দিনেই রাতের ট্রিপ না চালিয়ে ডাক্তারের দরবারে হাজির! ডাক্তার সাহেব তো মহা বিরক্ত। নিশ্চয়ই কোনো ঝামেলা করে এসেছে। ডাক্তার সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, এতো দ্রুত কেন এলেন? বিদেশি বললেন, এক দিন বাস চালিয়ে দ্বিতীয় দিন রাতের ট্রিপ চালাব বলে বাসের স্টিয়ারিং যেই না হাতে নিয়েছি অমনি রাজ্যের যত ঘুম আমার চোখে এসে হাজির! আমি তাড়াতাড়ি বাস থেকে নেমে সোজা হোটেলে গেলাম। টানা ১২ ঘণ্টা ঘুমালাম। এরপর ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আপনার ফিস দিতে আসলাম। কিন্তু ডাক্তার সাহেব, একটা জিনিস বুঝলাম না, আমার ঘুমের জন্য যখন সব চিকিৎসা ফেল করল, আপনি বাসের ‘স্টিয়ারিং’ দিয়ে কি এমন চিকিৎসা দিলেন যে আমি ঘুমে চোখই খুলতে পারছিনা!

ডাক্তার সাহেব বললেন, আমাদের দেশে কিছু পেশা আছে যেখানে আপনি না চাইলেও চোখে ঘুম আসবে। এটা শান্তির কারণে আসে না ক্লান্তির কারণে আসে সেটা বলা মুশকিল। ঘুম যে আসবেই সেটি গ্যারান্টেড। কেননা আমাদের বেশিরভাগ হাইওয়ে বাস বা ট্রাক দুর্ঘটনাগুলো ঘটে ড্রাইভারের ঘুমের কারণে। তাই ড্রাইভিং ম্যাজিক ব্যবহার করলাম। কিন্তু আপনি যেমন সততার সঙ্গে ঘুম চোখে বাস না চালিয়ে নেমে এসেছেন। এদেশের ড্রাইভার হলে কিন্তু ঘুম নিয়েই বাস চালিয়ে যেত। সে যাই হোক, আপনার ঘুমের চিকিৎসা সফল। ডাক্তার সাহেব মনে মনে ভাবলেন, যে জাতি সারা বছরই ঘুমে থাকে তা সে যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজেই থাকুক না কেন সে জাতি ঘুম দিবস পালন করলে ভবিষ্যৎ কি দাঁড়াবে? হ

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×