সংরক্ষিত পাঠক আসন

অনেকদিন পর দুজনে

  মুহিত আহমেদ জামিল ০৭ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

‘হ্যালো, কে বলছেন?’

‘আমি জুঁই।’

‘জুঁ-জুঁ-জুঁ-ই? রিয়েলি! সাবিহা জুঁই?’

‘হুম, সাবিহা জুঁই।’

‘তুমি জানো, তোমাকে আমি কত খুঁজেছি? না, তোমার অবশ্য জানার কথা না। তুমি তো আমায় সব জায়গাতেই ব্লক করে রেখেছ। ফেসবুকের আইডি নামটাও বোধ হয় চেঞ্জ করে ফেলেছ। ফেইক আইডি থেকে প্রায় প্রত্যেকদিনই কতশত বার যে তোমায় সার্চ করেছি, একবারও খুঁজে পাইনি। তোমাকে পুরোপুরি ভুলে যেতে অনেক চেষ্টা করেছি, একটুও পারিনি! তুমি চলে যাওয়ার পর এই এক বছরে আমি আরও চার চারটা প্রেম করলাম। তবুও যেন কোনোকিছুই ঠিকঠাক মতো চলছিল না। কোথায় যেন নিত্যই একটা হাহাকার লেগে থাকত। হাহাকারটা যে তোমাকে হারানোর অনুশোচনাতেই হতো, সেটা কি বুঝতে পারছো? আশাকরি পারছো। না পারলে তুমি আমাকে সম্পূর্ণই ভুলে যেতে। দীর্ঘ এক বছর পর কোনো এক দুপুরে হঠাৎ করে এরকম ফোন করে বসতে না। আমি জানি, তুমি আজও আমায় আমাদের পেছনে ফেলে আসা ওই সোনালি দিনগুলোর মতোই প্রচণ্ড ভালোবাসো। জানো, আমিও না তোমাকে এখনও বড্ড ভালোবাসি। আমি নিশ্চিত, তুমি এবার পুরোপুরি ফিরে এসেছো। বেইবি, তোমাকে অনেক অনেক অভিনন্দন! অনেক অনেক ধন্যবাদও। এতদিন পরে হলেও তুমি তোমার ভুলটা বুঝতে পেরেছো। তোমাকে...’

‘স্টপ প্লিজ! এনাফ ইজ এনাফ! আমি তোমার এ সব প্যানপ্যানানি শোনার জন্য ফোন করিনি। আমি ফোন করেছি তোমার কাছে আমার বেশকিছু বই রাখা আছে। পড়েই ফেরত দিয়ে দিবা জেনেই তোমাকে বইগুলো পড়তে দিয়েছিলাম। বইগুলো তুমি ফেরত দাওনি। দেয়ার সময় আমি একটা সাদা কাগজে তোমায় কোন্ কোন্ বইগুলো দিচ্ছি সেটা লিখে রেখেছিলাম। কাগজটা এখন আমার হাতেই আছে। হুমায়ূন আহমেদের হিমু সমগ্র, শ্রাবণ মেঘের দিন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, নৌকাডুবি, শরৎচন্দ্রের দেবদাস, ইমদাদুল হক মিলনের সেই বিদেশি মেয়ে, মুহম্মদ জাফর ইকবালের আমার বন্ধু রাশেদসহ আরও ডজনখানেক বই দিয়েছিলাম তোমাকে। হাজার পাঁচেকের মতো দাম হবে বইগুলোর। তাছাড়া বইগুলো আমার অনেক প্রিয়ও। তোমাকে ম্যাসেজ করে একটা এড্রেস পাঠিয়ে দিচ্ছি, কালকে সকালের মধ্যে আমার সবগুলো বই ফেরত দিয়ে যেও। আমার একটা নতুন বয়ফ্রেন্ড হয়েছে। বইগুলো তাকে গিফট করা দরকার। আশাকরি আমার কথাগুলো সব বুঝতে পেরেছো।

‘স্যরি, রং নাম্বার!’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×