ধারাবাহিক রম্য টল TALK

‘উই ফেল’ টাওয়ার

  শায়ের খান ২১ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গার্ডেন ল্যাডারটা মাপ মতনই হয়েছে। একেবারে জ্যাকিদের ডিসকো ফ্লোরের জানালা বরাবর। ডিসকো ফ্লোর মানে জ্যাকির রুমের ফ্লোর। আলো-আঁধারিতে ফ্লিকারিং লাইট- জমাট সাউন্ড সিস্টেমে ধামাকা মিউজিক। জমজমাট পার্টি। ডিসকো পার্টি আর বরফের মধ্যে একটা মিল আছে। দুটোরই শুরু পানি দিয়ে আর জমেও যায় আস্তে আস্তে। আবার একে অন্যকে ছাড়া জমেও না। মুশকিল হল ল্যাডারে যদিও একজন ওঠাই উচিত, মজা দেখতে চপল মামার সঙ্গে আঁটোসাঁটো হয়ে চিকি-টলও উঠেছে। ঝুঁকি নিয়েছে ওরা। ছোটখাটো একটা আইফেল টাওয়ারের মতো লাগছে ল্যাডারটাকে। কিন্তু মাথায় ৩ জন বসায় দূর থেকে ত্রিশুলের মতো লাগছে অনেকটা। ত্রিশুল না বলে ‘থ্রি’ শুল বলাই ভালো। চপল মামা ফিসফিসিয়ে বলেন, ‘বেশি নড়াচড়া করিস না দেখিস, তাইলে আমও যাবে, শালাও যাবে।’

চিকি : শা-লা?

চপল মামা : তোর মামির অপদার্থ ভাইটা তো আমার টাকাতেই চলে। আমি গেলে তো সেও শেষ।

টল : সেক্ষেত্রে বোধহয় মামা আম হবে না, আমি হবে। আমিও যাবো, শালাও যাবে।

চপল মামা : না না শব্দবিজ্ঞানী, আমি না, আম-ই হবে। সেক্ষেত্রে আমি না হয় আম-ই হয়ে যাবো। আমজনতা থেকে আমের আচার, হতে হলে হবো। কিন্তু প্রবাদ ঠিক রাখা জরুরি। বাই দ্য ওয়ে, হোস পাইপের গোঁড়া তো পাম্পের সঙ্গেই আছে না? ওখানে কে আছে?

চিকি : পাইপ বয় নবাব ভাই।

চপল মামা : ভাই কখনো বয় হয় বোকা? পাইপ ব্রো বলো। আমরা সিগন্যাল না দিলে যেন ও পানি না ছাড়ে।

টল : না না, পাইপ ব্রো কে মেসেজ দিলেই পানি ছাড়বে।

মনোযোগ দিয়ে সবাই ফ্লোর লক্ষ করছে। ঝলমলে ফ্লোরে মাঝে মাঝে দু-একজন এসে কাল বোশেখীর ঝড় তুলে আবার সরে পড়ছে কোথায় যেন। পুপলিকে দেখা গেল হঠাৎ। টল চিকির কানে ফিসফিস করে বলে,‘পু-প-লি!’ চিকি শুধু চোখ তুলে টলকে নীরব শাসায়। অর্থ- মামা জানলে কিন্তু খবর আছে। কানে টলের ফিসফিসানোর সেলফি তুলে রাখে চিকি। ইদানীং সেলফি রোগে পেয়েছে ওকে। এ মুহূর্তে ভেতরে বেজে চলেছে টিনা চার্লসের,‘ইউ সেট মাই হার্ট অন ফায়ার!’

চপল মামা : কি-রে, ওরা উধাও হয় কোথায়?

চিকি : একবার পানি মেরেই দেখো। পিঁপড়ার মতো সব ভিজে বেরুবে।

চপল মামা : মাথা খারাপ? ভেতরে সব ইলেকট্রিসিটির কানেকশন। পানি মারলে উল্টো আগুন জ্বলবে। পানি নিজেই মারা যাবে পুড়ে। পানি মারাই যাবে না।

টল : গান তো বাজছে ফায়ারের।

চপল মামা : সেটা মনের আগুন। টিনা চার্লসের এই গানটা বিয়ের আগে তোমাদের মামির খুব পছন্দ ছিল। দেখা হলেই গাড়িতে উঠে বাজিয়ে দিত এই গান। তাই বলে আমি কি ওর ওপর পানি চার্জ করতাম? উল্টো ডান হাত দিয়ে ওর বাঁ হাত ধরে বাঁ হাতে চুলের...। থাক, সব কথা বলা ঠিক হবে না। ভেতর থেকে যেন কিসের পোড়া গন্ধ আসছে রে?

চপল মামা দু’দুবার নাক টেনে বোঝার চেষ্টা করেন। টল চিকির কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিসিয়ে বলে, ‘গ্র্যাস। গাঁ-জা।’ চিকি সেলফি নিয়ে আবার ভয়াবহ রাগের চাহনি দেয়। অর্থ- বেশি কথা বলবে না।

চিকি : আমার মনে হয় মাছ ভাজার ধোঁয়া।

চপল মামা : না না, মাছের ধোঁয়া এমন হবে কেন? মনে হচ্ছে ঘাসের ধোঁয়া। তাছাড়া এ ধরনের পার্টিতে মাছ না ভেজে চিকেন পোড়ানোর কথা।

টল : আমিও চিকেনের ফ্লেভারই পাচ্ছি।

চপল মামা : যদিও বুবুর চিকেন পোলাও খেয়েই এসেছি, কিন্তু এই চিকেনে কেমন যেন নেশা নেশা লাগছে। আবার খেতে ইচ্ছে করছে।

জিহ্বায় কামড় দিয়ে চিকিকে চিমটি কাটে টল। টলের চোখও লাল হয়ে গেছে ধোঁয়ায়। চপল মামা ঢুলুঢুলু গলায় বলেন,‘নবাবকে বলে দে যেন পানি না ছাড়ে।’

চিকি নবাবকে মেসেজ লিখে- পানি ছাড়বে না!

লেখা শেষ হয়নি, সজোরে পাইপ দিয়ে পানি বের হয়ে চিকি-চপল মামাদের আঘাত হানে। আর সেই পানির তোড়ে তিনজনই ল্যাডার থেকে চিত হয়ে লনে পড়ে। ওদের চিত আর চিৎকার ঢাকা পড়ে টিনা চার্লসের চিৎকারে।

ঘটনা সিম্পল। চপল মামা নিরাপত্তার খাতিরে হোস পাইপের মাথাটা নিজেদের দিকে রেখেছিলেন। চিকি নবাবকে মেসেজে ‘পানি’ লেখা মাত্র নবাব পানি ছেড়ে দেয়। ‘পানি’র পর ‘ছাড়বে না’ আর পড়েনি নবাব। নবাবের এই না পড়ায় ওদের তিনজনকেই পড়ে যেতে হয়েছে চিত হয়ে।

দ্বিতীয় দৃশ্যটা আবার ডাইনিং রুমে। ব্যর্থ মিশন সেরে চপল মামা-ছানামুখি-ম্যাশসহ সবাই নিচুমুখে। চুপচাপ। ওপরে তখনও চলছে জ্যাকি অ্যান্ড কোম্পানির উন্মাদনা। নীরবতা ভাঙেন চপল মামা। এর মধ্যে চোখে মুখে পানিসহ কয়েকবার মাথা ঝাঁকি দিয়েও উনার ঝিমঝিম ভাব কমেনি।

চপল মামা : আসলে হোস পাইপ দিয়ে এর সমাধান হবে না। তোমাদের পারিবারিক কাউন্সিলিংই ঠিক আছে। তোমরা তো শব্দ নিয়েই খেলছিলে, তাই না?

ছানামুখি : হ্যাঁ, মি. টলই সূত্রটা ধরিয়েছে।

চপল মামা : কিছু শোনাও তো দেখি শব্দ বিজ্ঞানী? কেমন যেন নাচতে ইচ্ছে করছে শব্দের তালে তালেই।

টল : মামা, তাইলে এখন একটু উল্টে যদি পাল্টে যায় নিয়েই বলি।

ম্যাশ : প্লিজ। আমার জন্ম দেয়া বেবুনটা সামনে থাকলে ভালো হতো।

ছানামুখি : গালি দিবে না খবরদার। পেটে কিন্তু আমি ধরেছি!

টল : আমি আসলে ভাবছিলাম নাম নিয়ে। এগুলো তো আমরাই দিয়েছি। অথচ একটার নাম আরেকটা দিলেই বেশ খেলা হয়ে যেত।

চপল মামা : যেমন?

টল : যেমন, বিয়েকে যদি ডিভোর্স ডাকা হতো, তাহলে ছেলেমেয়ের ‘ডিভোর্স অনুষ্ঠানে’ কার্ড দিয়ে গেস্টদের ইনভাইট করা হতো। গেস্টরা বিয়ে না খেয়ে ডিভোর্স খেয়ে যেত। ডিভোর্স অনুষ্ঠানের পর হতো বাসর রাত।

চপল মামা : হা - হা - হা - । এনিথিং এলস?

টল : উমমম, এই যেমন ‘ঘুম’ কে যদি প্রথম থেকেই ‘দৌড়’ আর দৌড় কে ঘুম ডাকা হতো, তাহলে রাতে মানুষ বিছানায় দৌড়াতে যেত। সারারাত নাক ডেকে দৌড়ে দৌড়ে সকালে দৌড় থেকে উঠে কাজের পিছে ঘুমাত।

চপল মামা : হা-হা-হা -। হাইলি ইন্টারেস্টিং।

বলে নিজেই হাই তুলতে তুলতে দাঁড়িয়ে যান। ঢুলতে ঢুলতে বলেন,‘যাই, গেস্টরুমের বিছানায় গিয়ে শব্দ বিজ্ঞানীর সূত্রমতে একটা গভীর দৌড় দিই। সকালে দৌড় থেকে উঠব।’

সবাই উঠে। টল নিজের রুমে যেতে যেতে টুং টুং করে কয়েকটা মেসেজ পায়। চিকির। সর্বনাশ! চিকি টলের সে-ই কানে ফিসফিস সেলফিগুলো এমনভাবে এডিট করেছে যে দেখে মনে হচ্ছে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে টল ওর গালে চুমু দিচ্ছে! (চলবে)

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×